নতুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত, ডিসেম্বরের মধ্যেই কলকাতা সহ একাধিক পুরসভায় ভোটের তোড়জোড়

নতুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত, ডিসেম্বরের মধ্যেই কলকাতা সহ একাধিক পুরসভায় ভোটের তোড়জোড়


নতুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে ১৯৯১ ব্যাচের আইএএস কৃষ্ণ গুপ্তকে নিয়োগ করল নবান্ন। সংগৃহীত ফটো

১৯৯১ ব্যাচের আইএএস কৃষ্ণ গুপ্ত রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব হিসেবে এতদিন সমবায় দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন।‌ রাজ্যে পালাবদল হয়েছে ৪ মে। এখনও দু মাস হয় নি, কিন্তু হারের ধাক্কায় তৃণমূল কংগ্রেস তিন টুকরো! কালীঘাটে একা গড় সামলাচ্ছেন মমতা। পাশে কেবল ভাইপো অভিষেক।‌ রাজ্য জুড়ে পুরসভা, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের মতো স্বশাসিত সংস্থাগুলিতে ভোটের ফল প্রকাশের পরের দিন থেকেই ডামাডোল চলছে। ফিরহাদ হাকিম‌‌‌ কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। মমতা ইতিমধ্যেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন। এদিকে কলকাতা পুরনিগমের বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসিয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার। পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডেই প্রশাসকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

তবে এই পরিস্থিতি যে বেশি দিন চলতে পারে না, তা জানে নবান্ন। ডিসেম্বরের মধ্যেই কলকাতার পুরভোট সম্পন্ন হবে বলে ইতিমধ্যেই আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আইনি জটে দীর্ঘদিন হাওড়ায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। কলকাতার সাথেই হাওড়া পুর কর্পোরেশনের নির্বাচন সেরে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, শুধু কলকাতা-হাওড়াতেই নয় রাজ্যের আরও একাধিক পুরসভায় ভোট হ‌ওয়ার সম্ভাবনা আগামী ডিসেম্বরে। কারণ, শিলিগুড়ি পুরনিগম সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভা থেকে তৃণমূলের মেয়র-চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ করেছেন। তৃণমূলের বহু কাউন্সিলর গ্রেফতারের ভয়ে গাঢাকা দিয়েছেন। ফলে রাজ্যের প্রায় সব পুরসভাতেই অচলাবস্থা চলছে।

ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা-হাওড়া সহ একাধিক পুরসভায় নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখেই নতুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করল সরকার। পুরসভাগুলিতে ভোটের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের জরুরি কাজ সেরে ফেলতে হবে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ শূন্য পড়ে থাকায় এতদিন এই কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। প্রাক্তন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পদে বসিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেয়ারের আমলাদের মধ্যে রাজীবের স্থান ছিল এক নম্বরে। মমতার প্রশ্রয়ে রাজীব সিনহা অনেক দু নম্বরি করেছেন বলে নবান্নে কান পাতলেই শোনা যায়।

২০২৩-এর কলঙ্কিত পঞ্চায়েত নির্বাচন পরিচালনা করেছিলেন মমতার পেয়ারে বান্দা রাজীব সিনহা। সংগৃহীত ফটো

২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন রাজীব সিনহা। তৃণমূলের লাগামছাড়া সন্ত্রাসে সেই নির্বাচন কলুষিত হয়েছিল। রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারের বসে হিংসা, মৃত্যু, সন্ত্রাস ও ছাপ্পা ভোট নীরবে দেখেছিলেন মমতার বশংবদ রাজীব। রাজীব সিনহা গতবছর রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে পালালেও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ইচ্ছাকৃত গাফিলতির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

নতুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্তের কাঁধে এবার অনেক বড় দায়িত্ব। আগামী দিনগুলিতে তাঁর অধীনে পুর ও পঞ্চায়েত নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা করছে রাজনৈতিক মহল।

Feature graphic is representational and designed by NNDC.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *