ডেস্ক রিপোর্ট: মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে বেসামাল ভেনেজুয়েলা। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় অনুযায়ী সন্ধ্যার দিকে প্রবল কম্পনে দুলে ওঠে রাজধানী কারাকাস সহ ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। প্রথম কম্পনটির মাত্রা ছিল ৭.২। ৩৯ সেকেন্ড পরেই দ্বিতীয় কম্পন, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭.৫। জোড়া ভূমিকম্পের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৩০টি ‘আফটার শক’ হয়েছে বলে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তিকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ জানিয়েছেন।
শত বছরের ইতিহাসে এমন বিধ্বংসী ভূমিকম্প দেখে নি ভেনেজুয়েলা। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বলা হচ্ছে ১৬৪। কিন্তু সংখ্যাটা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ৯০০ জনের বেশি আহত। কমপক্ষে ৭,০০০ মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। সময়ে উদ্ধার করা না গেলে এদের অধিকাংশই মারা যাবেন বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা। জোড়া কম্পনের উৎপত্তিস্থল ক্যারিবিয়ান উপকূলের কাছে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে। অল্প সময়ের ব্যবধানে তীব্র মাত্রার দুটি ভূমিকম্পকে ভূ-তাত্ত্বিকেরা বলেন ‘ডাবলেট আর্থকোয়াক’। এটাই হয়েছে ভেনেজুয়েলায়।
জোড়া ভূমিকম্পে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভেনেজুয়েলার ফ্যালকন, কারাবোবো, আরাগুয়া, মিরান্ডা, লা গুয়াইরা এবং রাজধানী কারাকাস অঞ্চল। অসংখ্য বহুতল আবাসন, সরকারি-বেসরকারি ভবন, হোটেল বিধ্বস্ত হয়েছে। একাধিক সড়কে চওড়া ফাটল। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। জল সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত। নিরাপত্তার স্বার্থে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। কারাকাসে মেট্রো পরিষেবা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকে সারা দেশেই রেল যোগাযোগ বন্ধ। বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কারাকাসের বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামাও বন্ধ করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী দুর্গতদের উদ্ধারে নেমেছে। আমেরিকা, ফ্রান্স, স্পেন ও ভারত সহ পৃথিবীর বহু দেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানো সহ সবরকমের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকারকে। আমেরিকার পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, “তিনি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তিকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ইতিমধ্যেই ভূমিকম্প বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলিতে আমেরিকা থেকে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।” উপগ্রহ ও ড্রোন থেকে তোলা ছবির সাহায্য নিয়ে ভেনেজুয়েলার সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চলে মার্কিন উদ্ধারকারী দল ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালাবে বলে রুবিও জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় এমনিতেই বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা। দীর্ঘদিন দেশটির উপর অর্থনৈতিক অবরোধ চালিয়েছে আমেরিকা। এই বছরের ৩ জানুয়ারি আচমকা সামরিক অভিযান চালিয়ে কারাকাসের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে এসে বন্দি করে মার্কিন সেনা। আমেরিকার আদালতে এখন তাঁদের বিচার চলছে। মাদুরোর জায়গায় অন্তবর্তিকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ চালাচ্ছেন তাঁরই সহকারী ডেলসি রড্রিগেজ। ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের উপর নজর ডোনাল্ড ট্রাম্পের। রড্রিগেজ প্রশাসনের সঙ্গে ট্রাম্প একটা রফা করে নিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে। বুধবার সন্ধ্যার বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্প যে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে আরও নড়বড়ে করে তুলল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
Feature image: collected.