কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আকথা-কুকথা বললে ছাড় নয়। বুধবার নবান্ন থেকে স্পষ্ট জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নেতাজিকে নিয়ে কুকথা শুরু করেছিলেন বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ নগেন্দ্র রায়, যিনি অনন্ত মহারাজ নামেই বেশি পরিচিত। এরপর থেকেই সামাজিক মাধমে দেশনায়ককে নিয়ে কুরুচিকর পোস্ট করতে থাকে অনন্তের অনুগামীরা। গ্রেটার কোচবিহার ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা নগেন্দ্র রায় ও তাঁর অনুগামীদের স্পর্ধা দেখে রাজ্যের মানুষ স্তম্ভিত হয়ে যান।
দলের রাজ্যসভা সাংসদ মুখ খুললেই নেতাজির সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন— বিষয়টি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েন রাজ্য বিজেপির নেতারা। তারপরেও ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে মুখ খোলা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু নেতাজিকে নিয়ে বাঙালির সেন্টিমেন্টের কথা দুনিয়ায় কে না জানে! বাঙালির সবথেকে স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়েছেন এইট পাশ অনন্ত। নগেন্দ্র ও তাঁর অনুগামীদের নেতাজি বিরোধী মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বুঝতে পেরে এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে নেতাজিকে নিয়ে কুমন্তব্য বন্ধে রাজনৈতিক রং না দেখে পদক্ষেপ করতে হবে।

বুধবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নেতাজিকে নিয়ে কুকথা বললে কেউ ছাড় পাবেন না। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস-এ মামলা রুজু করা হবে। নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেফতার করতে নির্দেশ দিয়েছি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “যাঁরা নেতাজিকে অপমান করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তাঁদের বলব, অবিলম্বে ক্ষমা চান। যাঁরা এ ধরনের পোস্ট করেছেন, তা ডিলিট করুন।” তবে নেতাজিকে নিয়ে কুমন্তব্য করে পোস্ট ডিলিট করলেই যে আইনের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে, তা ভাবাও ঠিক নয় বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।
নেতাজিকে নিয়ে যারা সামাজিক মাধ্যমে আজেবাজে পোস্ট করছেন, তাদের পালের গোদা বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করছে, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান সাংবাদিকেরা। মুখ্যমন্ত্রী জবাব দেন— “আইন সকলের জন্য সমান।” শুভেন্দু বলেন, “নেতাজিকে নিয়ে এই ধরনের প্রচারের নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা খুঁজে দেখবে পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এ সব হবে না। এ ধরনের পোস্ট যাঁরা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক রঙ না দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নেতাজিকে কেন্দ্র করে গুটিকয়েক মানুষ সোস্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার করছেন। সরকার ব্যবস্থা নিক, উত্তরবঙ্গের বিধায়ক ও মন্ত্রীরা এই দাবি জানিয়েছেন। আইন সবার জন্য সমান। কাউকে আলাদা করে দেখা হবে না। সে মন্ত্রী হোক, সাংসদ হোক, বিধায়ক হোক আইন সমান। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি আলাদা করে কারও নাম বলব না। আমি কাউকে হিরো করব না। যিনি স্বাধীনতা পাইয়ে দিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যাঁরা আপত্তিজনক শব্দ প্রয়োগ করবে, এটা আমরা হতে দেব না। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে থেকে এসব চলবে না। প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হবে।”
নেতাজিকে নিয়ে নগেন্দ্র রায় সদলবলে এক নাগাড়ে খারাপ মন্তব্য করে যাওয়ার পরেও এতদিন চুপ ছিল সরকার। বিজেপি সরকারের মৌনতা ঘিরে প্রশ্ন তোলা শুরু করেছিলেন বিরোধীরা। এবার হুঙ্কার দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এখন দেখার অবাধ্য নগেন্দ্রকে টাইট দিতে কী ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন।
Feature graphic is representational and designed by NNDC.