ডেস্ক রিপোর্ট: লাক্ষাদ্বীপের পশ্চিমে আরব সাগরে একটি ইরানি নৌযানে অভিযান চালিয়ে ৩,০০০ কোটি টাকার মাদক সহ পাঁচ পাকিস্তানিকে গ্রেফতার করল উপকূলরক্ষী বাহিনী ও গুজরাট এটিএস ( অ্যান্টি টেরোরিজম স্কোয়াড)। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সির কাছে গোপন খবর ছিল মাদক বোঝাই একটি ইরানি নৌকা গুজরাটের উপকূলে ভিড়তে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই কয়েক দিন ধরে আরব সাগরে যৌথভাবে জোরদার নজরদারি চালাচ্ছিল উপকূলরক্ষী বাহিনী ও গুজরাট এটিএস।
বুধবার সকালে সন্দেহভাজন একটি নৌকাকে উপকূলের দিকে আসতে দেখেই সেটির পিছনে ধাওয়া করে উপকূলরক্ষী বাহিনীর দ্রুতগতির টহলদারি বোট। উপকূলরক্ষী বাহিনীর বোট পিছু আসছে দেখে নৌকার গতিমুখ পাল্টে পালাতে চেষ্টা করে সওয়ারীরা। উপকূলরক্ষী বাহিনীর তরফ থেকে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। কিন্তু সওয়ারীরা কর্ণপাত করে নি। শেষে কোস্ট গার্ডের দ্রুতগামী বোট নৌকাটির কাছে পৌঁছে যায় এবং নৌকাটিকে দখল করে নেন উপকূলরক্ষী বাহিনী ও এটিএস-এর সদস্যরা।
পাকিস্তানের গ্বদর বন্দর থেকে মাদক ওঠে নৌকাটিতে
‘আজাদ’ নামের ইরানি নৌযানটিতে তল্লাসি চালানোর সময় ১২৬ কেজি হেরোইন ও ৪০০ কেজি মেথামফেটামাইন উদ্ধার হয়। মাদকের আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য কম করে ৩ হাজার কোটি টাকা। ইরানি নৌকাটি থেকে যে পাঁচজন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা সকলেই পাকিস্তানের নাগরিক। ধৃতদের প্রাথমিকভাবে জেরা করে জানা গেছে, নৌকাটি ইরানের ‘কোনারাক’ বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল। পাকিস্তানের গ্বদর বন্দরে ইরানি নৌযানটি নোঙর করলে ছোট ছোট নৌকায় করে মাদক এনে তাতে জমা করা হয়েছিল।

মাদক বহনকারী ইরানি ‘ধাও’ থেকে ধৃত পাঁচ পাকিস্তানির নাম— মোহাম্মদ ইয়াকুব বালোচি, শাকিরুল্লাহ, ফরিদুল্লাহ, আহমেদ খান এবং ওয়াহিদুল্লাহ খান। পাঁচজনই পাকিস্তানের পেশোয়ারের বাসিন্দা। ধৃত পাঁচ পাকিস্তানি সহ বাজেয়াপ্ত নৌযানটিকে মুম্বাইয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে দেশের একাধিক নিরাপত্তা এজেন্সির আধিকারিকেরা ধৃতদের জেরা করে আরও তথ্য বের করবেন।
৭ বছরে ১০ হাজার ২৭৭ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার!
সমুদ্রপথে মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান রুখতে দেশের উপকূল এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ও নজরদারি আগের থেকে অনেক আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। জলপথের পাশাপাশি আকাশ থেকে হেলিকপ্টার ও ড্রোন দিয়েও নজরদারি চালায় ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। গত মে মাসেও গুজরাটের উপকূল থেকে ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করেছিল এটিএস ও কোস্ট গার্ডের যৌথ বাহিনী। সে’বারও পাঁচ পাকিস্তানি গ্রেফতার হয়েছিল।

২০২৫ সালের এপ্রিলে গুজরাট উপকূল থেকে ৩১১ কেজি মেথামফেটামাইন উদ্ধার করেছিল এটিএস ও কোস্ট গার্ড। যার আন্তর্জাতিক বাজার দর ১,৮০০ কোটি টাকা। গত সাত বছরে গুজরাটের উপকূল সংলগ্ন আরব সাগরে মাদক বোঝাই নৌকায় অভিযান চালিয়ে মোট ১০ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা মূল্যের মাদক (৫,৪৫৪ কেজি) বাজেয়াপ্ত করেছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ও গুজরাট এটিএস।
Feature image source: Indian Cost Guard