স্বাক্ষর জাল কান্ডে ঘেঁটে ঘ তৃণমূল! শুভেন্দু মুখ খুলতেই তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত-সন্দীপন

স্বাক্ষর জাল কান্ডে ঘেঁটে ঘ তৃণমূল! শুভেন্দু মুখ খুলতেই তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত-সন্দীপন


কলকাতা: তৃণমূলের বিধায়ক দল থেকে দুই জন মাইনাস হল। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস। ঠিক কতজন বিধায়ক এই মুহূর্তে তৃণমূলে আছেন, এটা নিয়েই বিরাট ধন্ধে রাজনৈতিক মহল। এমনিতেই বিধানসভায় স‌্বাক্ষর জাল কান্ডে ফেঁসে তৃণমূল কংগ্রেস দলটা। বিধানসভার সচিব থানায় অভিযোগ জানালে ঘটনার তদন্তে নামে সিআইডি। সোমবার দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স‌ই জাল নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিধানসভা সচিবালয়।

স‌ই জাল কান্ডে শুভেন্দু ঋতব্রত ও সন্দীপনের নাম নেওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই দু’জনকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল। তৃণমূল সূত্রে খবর, বহিষ্কারের চিঠি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে মেল করে ও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছেও দলের এই দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের কথা জানিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দল থেকে বহিষ্কারের ফলে ঋতব্রত ও সন্দীপন আর তৃণমূলের ৮০ বিধায়কের দলে থাকছেন না। এখন থেকে তাঁরা আর তৃণমূল পরিষদীয় দলের হুইপ মানতেও বাধ্য নন। দলহীন বিধায়ক হিসেবে বিধানসভার ভেতরে তাঁদের আসন নতুন করে ঠিক করবেন স্পিকার।

নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স‌ই জাল কান্ডে ঋতব্রত ও সন্দীপনের নাম তোলেন শুভেন্দু। ফটো: এন‌এনডিসি

রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূল পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ২০ জন বিধায়ক উপস্থিত থাকায় কোরামের অভাবে বৈঠক ভেস্তে যায়। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠকে ৬০জন বিধায়ক‌ই গরহাজির, এই খবর জানতে পেরে রেগে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে আর হলঘরমুখো হন নি মমতা। এই ৬০ বিধায়কের মতিগতি নিয়ে তৃণমূলের ভেতরেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই ডামাডোলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আদৌ রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হ‌ওয়া হবে কিনা, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

স‌্বাক্ষর জাল কান্ডে যেভাবে ফাঁসল তৃণমূল

৪ মে ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পর পরিষদীয় দল গঠন নিয়েও ল্যাজেগোবরে দশা তৃণমূলের। ৬ মে কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূল বিধায়কদের ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার উপরেই পরিষদীয় দলের নেতা, উপদলনেতা ও মুখ্যসচেতক ঠিক করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্য সচেতক করে তৃণমূল পরিষদীয় দল। এই মর্মে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে জমা করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের কয়েকজন বিধায়ক। কিন্তু এই চিঠি প্রত্যাখ্যান করেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু।

নিয়ম হল, পরিষদীয় দলের বৈঠকে নবনির্বাচিত বিধায়কেরা উপস্থিত থেকে দলনেতা নির্বাচন করবেন। এরপর বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কদের স্বাক্ষর সহ পাশ হ‌ওয়া প্রস্তাবের কপি সংবলিত চিঠি অধ্যক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। নিয়মের লংঘন হ‌ওয়ায় অভিষেকের স্বাক্ষর করা চিঠি গ্রহণ করেন নি স্পিকার। ১৯ মে কালীঘাটে ফের বৈঠক হয়। সেখানে পরিষদীয় দলের তরফে প্রস্তাব গ্রহণ করে কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করানো হয় বিধায়কদের। আর এই স‌ই নিয়েই গোল বেঁধেছে। বিধায়কদের স্বাক্ষর সম্বলিত নতুন চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেয় তৃণমূল। কিন্তু বিধানসভা সচিবালয়ের সন্দেহ হ‌ওয়ায় তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু।

স‌ই জাল মামলার তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে সিআইডি। শারীরিক কারণ দেখিয়ে সিআইডির দফতরে যান নি অভিষেক। ফাইল ফটো

বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণের নথিতে তৃণমূল বিধায়কেরা যে স্বাক্ষর করেছিলেন, তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় পরিষদীয় দলের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে করা তাঁদের স্বাক্ষর। একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষরে মিল নেই বলে বিধানসভা সূত্রে খবর। এরপরেই নড়েচড়ে বসে বিধানসভা সচিবালয়। এন্টালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সচিব। স‌ই জাল কান্ডে সোমবার অভিষেককে তলব করেছিল সিআইডি। স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে এড়িয়ে গেছেন অভিষেক। সোমবার দুপুরে নবান্নে সাংবাদিকেরা এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি জানান, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা এ নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই থানায় মামলা করে বিধানসভা সচিবালয়।

Feature graphic is representational and designed by NNDC.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com