৪ মে-র পর বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী!পুরুলিয়ায় জনপ্লাবনে দাঁড়িয়ে জানিয়ে গেলেন মোদী

৪ মে-র পর বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী!পুরুলিয়ায় জনপ্লাবনে দাঁড়িয়ে জানিয়ে গেলেন মোদী


পুরুলিয়ায় মোদীর সভায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। ছবিতে ভিড়ের একাংশ দেখা যাচ্ছে। ফটো: এন‌এনডিসি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগেও পুরুলিয়ায় এসেছি। কিন্তু মানুষের এমন উচ্ছ্বাস দেখি নি। এই জনসভায় উপস্থিত জনতার উৎসাহ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। যত দূর আমার চোখ যাচ্ছে, শুধু লোক আর লোক। এটা কল্পনাতীত। ৪ মে এখানে পিঠে খাওয়ার নিমন্ত্রণ র‌ইল।” পুরুলিয়ার সভা থেকে মোদীর প্রত্যয়, ৪ মে-র পর বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত। তিনি বলেন, “নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ৪ মে-র পর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী এই রাজ্যে নিশ্চিত। তখন পুরুলিয়ার দ্বিগুণ বিকাশ হবে।”

তৃণমূলকে দুর্নীতির আখড়া বলে কটাক্ষ করে মোদী বলেন, “১৫ বছর ধরে চলা তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত ও ত্রস্ত। এ বার জনগণ বদলা নেবে। বিজেপির সরকার তৈরি হবে বাংলায়। সভার ভিড় সেই কথাই বলছে।” আদিবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত পুরুলিয়ায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আদিবাসীদের জন্য বিজেপি সরকার পৃথক মন্ত্রণালয় বানিয়েছে। আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে। বীরসা মুন্ডার জন্মদিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যে রাজ্যে আদিবাসী সমাজ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছে বিজেপি। একজন আদিবাসীকে দেশের রাষ্ট্রপতি বানানোর সৌভাগ্য হয়েছে বিজেপির।”

নরেন্দ্র মোদী বলেন, “তৃণমূল হল আদিবাসীদের শত্রু। তৃণমূলের জঙ্গলের রাজত্বে রাজ্যের আদিবাসী জেলাগুলি পিছিয়ে পড়েছে। তৃণমূলের লুটেরারা আদিবাসীদের জমি কেড়ে নিচ্ছে। সিন্ডিকেট বসিয়ে অবৈধ খনন চালাচ্ছে তৃণমূল।” তৃণমূলকে উন্নয়ন বিরোধী আখ্যা দিয়ে মোদীর কটাক্ষ- “হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আটকে আছে এই রাজ্যে। রেলের প্রকল্পেও বাধা দিচ্ছে উন্নয়ন বিরোধী তৃণমূল সরকার। প্রতি বুথে টিএমসিকে হারাতে হবে। সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলতে হবে। আপনারা আমাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন। এবার রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বানান।”

পুরুলিয়ার সভায় মোদী অভিযোগ করেন, “সমস্যা আর দুর্নীতি ছাড়া মানুষকে আর কিছু দেয় নি তৃণমূল সরকার। পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব ভয়ানক বেড়ে গেছে। তৃণমূলের জঙ্গলরাজ এর জন্য দায়ী। ওরা শিক্ষক নিয়োগের নামে টাকা লুট করেছে। হাজার হাজার যুবক-যুবতী বেকার। কাটমানি ছাড়া এই রাজ্যে কোনও কাজ হয় না। কাটমানি দেওয়ার ভয়ে শিল্পপতিরা পশ্চিমবঙ্গে আসেন না। এই জন্য বাংলায় শিল্পের বেহাল অবস্থা।” প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “আর কাটমানির খেলা এখানে চলবে না। মাফিয়াদের মেলাও চলবে না।”

ভিডিও: পুরুলিয়ায় সভায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীকে দেখতে পথের ধারে মানুষের ভিড়! এন‌এনডিসি ফুটেজ

দলের নির্বাচনী ইস্তেহারে মহিলাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদী বলেন, “মেয়েদের বছরে ৩৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড আমরা এনেছি। গর্ভাবস্থায় মেয়েরা ২১ হাজার টাকা করে পাবেন। মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার বিস্তারে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। রাজ্যের ৭৫ হাজার মহিলার আয় যাতে বছরে ১ লক্ষ টাকার বেশি হয়, তাও নিশ্চিত করবে বিজেপি সরকার।”

লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে চেয়ে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় এনেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোটাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার পক্ষ। বিরোধীরা আসন বৃদ্ধিতে সায় না দেওয়ায় সংসদে বিলটি পাশ হয় নি। বিরোধীদের ভূমিকার সমালোচনা করে রবিবার পুরুলিয়ার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংসদে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তৃণমূল সেটা চায় না। তাই সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছে তারা। ভোট দেওয়ার সময় তৃণমূলের এই অপরাধের কথা মনে রেখে তৃণমূলকে সাজা দেবেন আপনারা।”

পুরুলিয়া থেকে মোদীর অভিযোগ, “রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা এই রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছায় না। এখানে বিজেপির সরকার তৈরি হলে ৪ মে-র পর থেকে এই অসুবিধা দূর হয়ে যাবে।‌ বোনেদের সরাসরি আর্থিক সাহায্যের সঙ্গেই কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত প্রকল্প এখানে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হবে।” বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে গরীব মানুষেরা রেশনে তাদের জন্য বরাদ্দের পুরো চাল পাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী আরও বলেন, ”গরীব পরিবারের মেয়েরা পাকা ঘর তৈরির জন্য দেড় লক্ষ টাকা করে পাবেন। গরিব মেয়েদের পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবাও দেবে বিজেপি সরকার।”

Feature image: NNDC.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *