কলকাতা: শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র মিছিল থেকে পুলিশের উপর হামলা। আক্রান্ত গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও। যারা পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে নবান্ন। ৭০ জন হামলাকারীকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইন লাগু করা হয়েছে বলে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন। ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস অ্যাক্ট-২০২৬’, যা গুন্ডাদমন আইন নামে পরিচিত, তা রাজ্যে প্রথমবারের প্রয়োগ করল পুলিশ।
নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁস ঘিরে দিল্লির যন্তরমন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই ধর্না চালাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাইছেন আন্দোলনকারীরা। গত সোমবার (২০ জুলাই) সিজেপির সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দেশের রাজধানীর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে মারমুখী হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, জলকামান ছোড়ে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। আন্দোলনকারীদের ছোড়া পাথরের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ আহত হন। কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসে ২৬ দিনের মাথায় সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ছাত্ররা।

এদিকে দিল্লির যন্তরমন্তরের উত্তেজনার আঁচ শুক্রবার বিকেলে কলকাতাতেও এসে লাগে। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলির বিরাট মিছিলে সিজেপি-র সদস্যরাও পা মেলান। ধর্মতলা চত্বরে মিছিল থেকে পুলিশের উপর বোতল ছোড়া হয়। মিছিলের খবর সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের উপরেও চড়াও হন আন্দোলনকারীরা। হামলায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের আঘাত গুরুতর। খবর পেয়ে আক্রান্ত সংবাদকর্মীদের হাসপাতালে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আন্দোলনের নামে পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর যারা হামলা চালিয়েছে, সেইসব দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে শনিবার বিধানসভায় জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এমন শাস্তি এদের দেওয়া হবে যে, তাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে ৭০ জনকে হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তারা কেউ ছাত্র বা সিজেপির সদস্য নয়। নিট আন্দোলনের সাথে এদের কোনও যোগ নেই।” তিনি বলেন, “রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তনভীর এবং নিজাম, ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। এই পাঁচ গুন্ডার নাম বললাম। গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব, যাতে একদিন নয়, গুন্ডাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।”

কিছুদিন আগেই ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল-২০২৬’ রাজ্য বিধানসভায় পাস হয়েছে। রাজ্যপাল বিলটিতে স্বাক্ষর প্রদানের পর তা আইনে পরিণত হয়েছে। আইনটি অসাংবিধানিক, এই অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন বামপন্থীরা। বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই জন্যই এই আইন আনা হয়েছে। এর কতটা প্রয়োজনীয়তা ছিল, মানুষ এখন বুঝতে পারবে।” শুক্রবার বিকেলে ধর্মতলায় হিংসার ঘটনায় গুন্ডা দমন আইনে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি এবং এন্টালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ যে সংযত ছিল, সেটা সবাই দেখেছে। তেমনই নির্দেশ দেওয়া ছিল। তারা কোনও ফাঁদে পা দেয় নি। মিছিল হচ্ছিল। ডোরিনা ক্রসিংয়ে মিছিল আসার পর সেখান থেকে জুতো আর বোতল ছোড়া শুরু হয়। সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। চাইছিল পুলিশ লাঠিচার্জ করুক। নাটক চলুক। কিন্তু পুলিশ সেই সুযোগ দেয় নি। ছ’জন সাংবাদিক গুরুতর জখম হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিম ছোড়া যদি পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি না হয়ে থাকে, তবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল বা জুতো ছোড়াও এই রাজ্যের সংস্কৃতি নয়।”
Feature graphic is representational and AI generated.