ডেস্ক রিপোর্ট: যন্তরমন্তরে পড়ুয়াদের আন্দোলন ঘিরে দেশে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, শনিবার বিকেলে তার অবসান ঘটল। নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা সহ আন্দোলনকারীদের সমস্ত দাবি কেন্দ্রীয় সরকার মেনে নেওয়ায় যন্তরমন্তর থেকে ধর্না প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করেছেন সিজেপি নেতৃত্ব। পড়ুয়াদের দাবি পূরণ হতেই হাসপাতালের বেডে শুয়েই অভিনন্দনবার্তা দিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।

এক্স হ্যান্ডেলে সমাজকর্মী সোনম লিখেছেন—
এটি গণতন্ত্রের বিজয়।
এটি প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের বিজয়—যে গণতন্ত্রের শক্তি উঠে এসেছে সরাসরি রাজপথ থেকে, মানুষের কণ্ঠে।
এটি শান্তি, ধৈর্য, সাহস এবং অবিচল অধ্যবসায়ের জয়।
সিজেপিকে (CJP) এবং দেশের জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আর দেশের প্রতিটি নাগরিককে জানাই কৃতজ্ঞতা—ভয়কে, এমনকি ভয়ের ভয়কেও জয় করে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে উঠে দাঁড়ানোর জন্য।
এবার জবাবদিহির লড়াই থেকে এগিয়ে, প্রকৃত সংস্কারের পথে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সহ একাধিক দাবিতে যন্তরমন্তরে ছাত্রদের আন্দোলনের সূত্রপাত গত ২০ জুন। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন ওয়াংচুক। সোনমের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে গত ১৮ জুলাই ভোরে তাঁকে ধর্নামঞ্চ থেকে তুলে সরকারি সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে দেয় দিল্লি পুলিশ। সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো হাইকোর্টে অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালে সোনমের চিকিৎসায় অবহেলা হচ্ছে। সোনমকে পছন্দের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করতে চেয়ে বিচারপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন গীতাঞ্জলি।

দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে ওয়াংচুককে গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। হাসপাতালে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। তাঁর উত্থাপিত সব দাবি মেনে নেওয়া হবে, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই আশ্বাস দেওয়ার পর ২৩ জুলাই রাতে তাঁদের হাতে স্যুপ খেয়ে ২৬ দিনের মাথায় অনশন ভাঙেন সোনম।
Feature image: AI generated sketch.