আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান-আমেরিকা সংঘাত কমার কোনও লক্ষণ নেই। হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী ইরানের উপকূলীয় এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। মঙ্গলবার রাতে হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরের একটি বিয়েবাড়িতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলে একটি শিশু সহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে— অভিযোগ তেহরানের। ইরানের অভিযোগের জবাবে ওয়াশিংটন প্রশাসন উচ্চবাচ্য না করলেও আমেরিকা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের মাইন পাতার চেষ্টা প্রতিহত করতে তাদের সামরিক পরিকাঠামোতে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের একাধিক সূত্র থেকে দাবি করা হয়েছে, কুহেস্তাকের অসামরিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এলাকার একটি বাড়িতে তখন বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। পাত্র-পাত্রীর পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বহু অতিথি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিয়ের আসরও পন্ড হয়।
বিয়েবাড়িটিতে একটি শিশু সহ ৫ জন নিহত হয়েছে বলে হরমোজগান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর আহমদ নাফিসি দাবি করেছেন। আহতের সংখ্যা ৬৩। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। ঘটনাটির কয়েকটি ভিডিয়ো ফুটেজও সামাজিক মাধমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিয়োগুলিতে বিয়েবাড়ির ভীত-সন্ত্রস্ত লোকজনকে ছোটাছুটি করতে দেখা যাচ্ছে। যদিও ফুটেজগুলির সত্যতা যাচাই করে নি এনএনডিসি।

ঘটনাস্থল কুহেস্তাক হরমুজ প্রণালীর খুব কাছেই। এলাকাটি সামরিক কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিরিক কাউন্টির মধ্যে অবস্থিত। মনে করা হচ্ছে, সিরিকের কোনও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করার সময় মার্কিন মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে অসামরিক এলাকার বিয়েবাড়িতে গিয়ে পড়েছে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। এই নারকীয় হামলার ‘অবিস্মরণীয়’ জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই। ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিয়েবাড়িতে হামলা চালিয়ে নিরপরাধ মানুষকে খুন করার জন্য আমেরিকাকে অনুশোচনা করতে হবে।
দিল্লির ইরানি দূতাবাসের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেলে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে লেখা হয়েছে— “ওরা বিয়ের আসরকে শেষকৃত্যে পরিণত করল। ভালবাসার ফুল ঝরে পড়ল মাটিতে। আমাদের বর-কনের শুভ্র পোশাকে রক্তের দাগ লাগল। আর আমাদের আনন্দকে ওরা পরিণত করল শোকে।”
হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে আমেরিকার হামলার তুরন্ত জবাব দিয়েছে তেহরানও। জর্ডন, বাহারিন এবং কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। জর্ডনের প্রতিরক্ষা দফতর দাবি করেছে, ১৩ টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টিকেই মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি তিনটি জনবসতি থেকে দূরে মরুভূমিতে আছড়ে পড়েছে।
Feature image: collected