ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলার মানুষ সচরাচর উপনির্বাচনে শাসকদলের বিরুদ্ধে রায় দেন না। যদিও নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে গেরুয়া আঁধিতে বিরোধীরা সকলে মিলে জাস্ট খড়কুটোর মতো উড়ে গেল বললে ভুল হবে না। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ৭৪ শতাংশ মুসলমান অধ্যুষিত বিধানসভা। হুমায়ূন কবীরের গড় বলে পরিচিত সেই রেজিনগরে হুমায়ূনের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টিকে ধুলো চাটিয়ে ছাড়ল বিজেপি! রেজিনগরে ৭৫ হাজার ৮১৬ ভোটে হুমায়ুনপুত্র গোলাম নবি আজাদকে পরাজিত করলেন বিজেপির শাখারভ সরকার। শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া নন্দীগ্রামে ফলতার রেকর্ড ভেঙে জিতল বিজেপি! গেরুয়া শিবিরের হাসিরানি রথ ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৫৩ ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন কংগ্রসের মিলন প্রধানকে।
নন্দীগ্রামে শুভেন্দু জিতেছিলেন ৯,৬৬৫ ভোটে
পাঁচমাস আগে বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী অবিভক্ত অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পবিত্র করকে হারিয়ে ছিলেন ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটে। শুভেন্দু পেয়েছিলেন ৫০.৫৬ শতাংশ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছিলেন ৪৬.৭৮ শতাংশ ভোট। পাঁচ মাসে হুগলি-হলদি নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। বিরোধী দলনেতা থেকে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ভাঙা তৃণমূলের হেরো নেত্রী। নিজের ভবানীপুরে শুভেন্দুর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিধানসভায় ঢোকার পর্যন্ত ছাড়পত্র পান নি মমতা!

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৮১টি আসনে জিতলেও ভোটের ফল বেরোনোর পরপরই দল ভেঙে চূরমার। মমতার হাতে সাকুল্যে ৫-৬ জন বিধায়ক। বাকিরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। নির্বাচন কমিশন ঘাসফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়ে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে সেপ্টেম্বর মাসেই। মমতার হাতে এখন ‘মমতা তৃণমূল’, প্রতীক ফুটবল খেলোয়াড়! ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের নাম হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’, প্রতীক খাম। উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা যাকে প্রার্থী করেছিলেন, সেই সঞ্চিতা প্রধান দে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ময়দান থেকে ভাগলবা।
নন্দীগ্রামে ২৫ শতাংশের বেশি ভোট বাড়িয়ে নিল বিজেপি
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানিকে। ঋতব্রতর গণতান্ত্রিক তৃণমূল শেষ পর্যন্ত ময়দানে ছিল। গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী এহতেশমুল হক পেয়েছেন মাত্র ৮৫৩ টি ভোট। ০.৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে ঋতব্রত তৃণমূল। হাসিরানি রথের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে কংগ্রেসের মিলন প্রধানের সঙ্গে। মিলন পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৭৪ ভোট। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন ১৯.২৫ শতাংশ ভোট। বামেদের তরফে সিপিআইয়ের শান্তিগোপাল গিরি পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৭৯ ভোট। বাম প্রার্থীর ভোটের শতাংশ ২.৬৭ শতাংশ।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির হাসিরানি রথ পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪২৭ ভোট। হাসিরানি একাই টেনে নিয়েছেন মোট প্রদত্ত ভোটের ৭৫.৯৪ শতাংশ। শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছিলেন ৫০.৫৬ শতাংশ ভোট। পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিজেপি বাড়িয়ে নিল ২৫ শতাংশেরও বেশি ভোট!
রেজিনগরে বিজেপির ভোট বাড়ল প্রায় ৩৬ শতাংশ!
৭৪ শতাংশ ভোটারের রেজিনগরে উপনির্বাচনে বিজেপির হিন্দু প্রার্থী শাখারভ সরকার জিতলেন ৬৩.১৪ শতাংশ ভোট পেয়ে। শাখারভ পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৯১৪টি ভোট। হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৯৮টি ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান— ৭৫ হাজার ৮১৬! রেজিনগরে মমতা তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৮৪৭ ভোট। মমতা তৃণমূলের জুটেছে মাত্র ১.৮৭ শতাংশ ভোট। ঋত তৃণমূলের সফিউজ্জামান শেখ পেয়েছেন ২০৪৪ ভোট, শতাংশের হিসেবে ০.৯৯। কংগ্রেসের আবদুল্লাহিল কাফি পেয়েছেন ৬ হাজার ১৬৮ ভোট। কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট ৩ শতাংশ। সিপিএমের মহম্মদ সায়ইদ পেয়েছেন ৩,৭৯৭ ভোট, শতাংশের হিসেবে ১.৮৫ শতাংশ।
৫ মাস আগে বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে হুমায়ুন কবীর বিজেপির বাপন ঘোষকে হারিয়েছিলেন ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটে! হুমায়ুন পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট। ৫১.৯৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। বিজেপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৭.২১ শতাংশ। এই আসনে তৃণমূল পেয়েছিল ১৭.৫৫ শতাংশ ভোট। উপনির্বাচনে সংখ্যালঘুরা ঢেলে পদ্মে বাটন টেপায় বিজেপির শাখারভ পেয়েছেন ৬৩.১৪ শতাংশ ভোট। পাঁচ মাসের ব্যবধানে মুসলমান অধ্যুষিত রেজিনগরে বিজেপি ভোট বাড়িয়ে নিল এক ধাক্কায় ৩৫.৯৩ শতাংশ!
এআই জেনারেটেড ফিচার গ্রাফিক্স প্রতিনিধিত্বমূলক।