ডেস্ক রিপোর্ট: দেশ থেকে মাওবাদীরা নিশ্চিহ্ন! মাওবাদীদের এক কালের দুর্গ ছত্তীসগঢ়ের বস্তারে দেওয়ালি পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বস্তারে মোতায়েন আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে দেওয়ালির আনন্দ ভাগ করে নিতে রবিবার সকালেই বস্তারে পা রাখেন মোদী। বস্তারে রওনা দেওয়ার আগে এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আমাদের বাহাদুর নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে দীপাবলি উদ্যাপনের জন্য বস্তার যাচ্ছি। এই সেই এলাকা, যা এক কালে মাওবাদীরা দখল করে রেখেছিল। আজ সেখানে উন্নয়নের লহর। আমি সেই বাহাদুর জওয়ানদের বলিদান, আত্মত্যাগ ও তপস্যাকে কুর্নিশ করতে যাচ্ছি।”
বস্তার অঞ্চলে আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের একটি শিবিরে উপস্থিত হন মোদী। জওয়ানদের মুখে মিষ্টি গুঁজে দেন। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে বর্ডার সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘সন্দেশে আতি হ্যায়’-এ মেতে ওঠেন জওয়ানেরা। নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মুলাকাতের একটি ভিডিও নিজের ভেরিফায়েড সমাজ মাধ্যমেও শেয়ার করেছেন মোদী। শিবিরটিতে আধা সামরিক বাহিনীর অনেক মহিলা সদস্যকেও দেখা যায়।
দীপাবলির দিন বস্তারের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর জওয়ানদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এইবারের দেওয়ালি সত্যিই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ দিন ধরে মাওবাদী ও নকশালদের বিরুদ্ধে যে লড়াই দেশ চালিয়েছে, তাতে বিজয়ী হওয়ার পরে এটাই প্রথম দেওয়ালি। সারা দেশের প্রতিটি জেলা মাওবাদী মুক্ত হওয়ার পর এটাই প্রথম দেওয়ালি।”
বস্তারে মোদীর মুখে ফের উঠে আসে ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধটি। তিনি বলেন, “এই সাফল্যের মধ্যেও একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, সশস্ত্র নকশালেরা নির্মূল হয়ে গেলেও দিমাগি নকশালেরা অনেক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে। এখনও তারা মানুষকে সংবিধান, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উস্কে দিচ্ছে। বেশ কিছু রাজনৈতিক দল এবং সংগঠনেও প্রবেশ করেছে তারা। তাঁদের চিহ্নিত করে, পরাজিত করে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
২০২৬-এর ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে সশস্ত্র মাওবাদীদের উচ্ছেদ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইতিমধ্যেই সিপিআই (মাওবাদী)-র পলিটব্যুরো, কেন্দ্রীয় কমিটি ধ্বংস হয়ে গেছে। মাওবাদীদের শীর্ষনেতাদের সকলেই হয় নিহত নয় ধৃত অথবা আত্মসমর্পণ করে মূলস্রোতে পুনর্বাসিত। সিপিআই (মাওবাদী)-র মিলিটারি উইংস ‘পিএলজিএ’-ও তছনছ।
২০১৮ সালের এপ্রিলে দেশে মাওবাদী উপদ্রুত জেলার সংখ্যা ছিল ৯০। সাত বছর পর ২০২৪-এর এপ্রিলে সংখ্যাটা কমে দাঁড়ায় ৩৮-এ। ২০২৫-এর ডিসেম্বরে মাত্র আটে এসে ঠেকে মাওবাদী অধ্যুষিত জেলার সংখ্যা। এই মুহূর্তে দেশে কোনও মাওবাদী অধ্যুষিত জেলা নেই বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই সংসদে জানিয়েছেন। ঘোষিত সময়ের মধ্যেই মাওবাদীদের নির্মূল করতে সফল হয়েছে কেন্দ্র। ছত্তীসগঢ় রাজ্যের যে বস্তারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ছিল মাওবাদীদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি, সেই বস্তারে দাঁড়িয়েই দিমাগি নকশালদের এক চোট নিলেন মোদী।
ফিচার ফটো: এনএনডিসি।