দীনতার অন্ধকার দূর হোক, সমৃদ্ধির আলো জ্বলুক বাঙালির ঘরে ঘরে


একটা সময় ভারতের দারিদ্র ছিল দ্রষ্টব্য। ইউরোপ-আমেরিকা থেকে যে টুরিস্টরা ভারতে আসত, তারা তাজমহল-হাওয়ামহলের পাশাপাশি ভারতের দারিদ্র‌ও দেখত। ফুটপাতবাসী অর্ধনগ্ন ভিখিরিদের ফটো তুলত। সেই ফটো লাইফ ম্যাগাজিনে ছাপা হত। দারিদ্র দেখার একটা উৎকৃষ্ট টুরিস্ট স্পট ছিল কলকাতা। দারিদ্র‌ও বিপণনযোগ্য। অনেক বুদ্ধিজীবিই দারিদ্র বেচে খ্যাতি এবং অর্থ কামিয়েছেন।

দরিদ্রকে সেবা করে পুণ্য এবং শ্লাঘা— দুটোই অর্জন করা যায়। যেটা করতেন মাদার টেরেসা। ভারত যে চরম দারিদ্রের সেই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসেছে, অন্ধ ছাড়া সবাই তা স্বীকার করবে। দরিদ্রের সেবা করে পুণ্য অর্জন কিম্বা দরিদ্রের হয়ে কথা বলে রাজনীতি— দুটোই যারা করে থাকেন, তারা লাভবান হন, দরিদ্ররা নয়।

সমাজ থেকে দারিদ্র দূর হয়ে গেলে সেবা এবং বিপ্লব— উভয়ের কারবারিরাই বেকার হয়ে পড়বে। তবে অভাব কখন‌ও দূর হবে না। অভাব জিনিসটা আপেক্ষিক। ইউভাল নোয়া হারারি তাঁর ‘সেপিয়েন্স- এ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ হিউম্যানকাইন্ড’-এ একটি চমৎকার কথা বলেছেন— “বিলাসিতা আস্তে আস্তে প্রয়োজনে পরিণত হয়।” এটা মানবেতিহাসের সবথেকে নির্মম সত্য।

শুধু মানুষ কেন, পৃথিবীর প্রত্যেকটা জীব নিজের সুখ-স্বস্তি চায়। বেদ-বেদান্ত যাঁরা লিখেছিলেন, তাঁরা সুখ-শান্তি, ঐশ্বর্য, ধন-দৌলত চাইতেন। তাঁরা ঐহিক সুখ, ইহজগত বিমুখ ছিলেন না। কাপড়-চোপড় ছেড়ে গাছতলায় চোখ বুজে বসে থাকাকে সমাজে জনপ্রিয় করেছিলন তীর্থংকর মহাবীর, খানিকটা বুদ্ধ‌ও। অন্ন আর আনন্দ ছাড়া যে বেঁচে থাকা যায় না, উপনিষদগুলিতে একাধিকবার তার উল্লেখ করেছেন বৈদিক ঋষিরা।

হিন্দু ধর্মের মতো উৎসবমুখর ধর্ম পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। তাই ভারত উৎসবের দেশ। সেলিব্রেশনের দেশ। জীবনে রঙ চাই, আলো চাই। বসন্তে রঙের উৎসব হোলি। হেমন্তে আলোর উৎসব দিওয়ালি। দীপাবলি আলোর উৎসব। দীপাবলির রাতে অনেক বাঙালির ঘরে সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর‌ও আরাধনা হয়। দীনতার অন্ধকার দূর হোক। বাঙালির জীবনে ঐশ্বর্যের আলো, প্রাচুর্যের আলো, সম্পদের আলো আসুক। শুভ দীপাবলি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com