ডেস্ক রিপোর্ট: নেপালের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে যে প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানে দেশটির রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও গোরখা জেলায় জনপদের পর জনপদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তার কারণ চিনের তিব্বতের শিগাতসে অঞ্চলের গিরংয়ে হিমবাহে বিশাল ধস। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে তিব্বতের ল্হেন্দে খোলা নদী থেকে হড়পা বান নেমে এসে ভাসিয়ে দেয় নেপাল-তিব্বত সীমান্তে চিনের গিরং ল্যান্ডপোর্ট ও নেপালের রসুয়াগাধি কাস্টমস চেকপয়েন্ট। এরপর বানে ভেসে যায় নেপালের গ্রামের পর গ্রাম, শহরের পর শহর।
নেপালে প্রকৃতির প্রলয় কতটা ভয়ঙ্কর ছিল, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিয়ো তার সাক্ষী। কিন্তু সীমান্তের ওপারে তিব্বতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্রটা দুনিয়ার কাছে এখনও তেমন স্পষ্ট নয়। কারণ, দেশটার নাম কমিউনিস্ট চিন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সে দেশে অবাধ প্রবেশাধিকার নেই। চিনে সামাজিকমাধ্যমও কঠোরভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত। ফেসবুক-এক্স হ্যান্ডেল-ইনস্টাগ্রাম সে দেশে খাপ খুলতে পারে না। ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, তিব্বতের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য চেপে যাচ্ছে বেইজিং। চিনের নিজস্ব সামাজিকমাধ্যমগুলি থেকে প্রকৃতির ধ্বংসযজ্ঞের সমস্ত ভিডিয়ো মুছে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

চিনের এই গোপনীয়তার কারণে মুশকিলে পড়েছে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সহ একাধিক রাষ্ট্র। কারণ, নেপালের মতোই তিব্বতেও বিভিন্ন দেশের অনেক পর্যটক বিপর্যয়ের কারণে আটকে পড়েছেন। তিব্বতে নিখোঁজ, মৃত ও আটকে পড়া বিদেশি পর্যটকদের প্রকৃত সংখ্যাটা ঠিক কত, সেটাই জানা যাচ্ছে না। ঘটনার চারদিন পর রবিবার সকালে অবশেষে সরকারিভাবে হতাহত ও নিখোঁজদের একটা পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে চিন। এখনও পর্যন্ত হড়পা বানে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে চিন। তাদের মধ্যে কোনও বিদেশি আছে কিনা স্পষ্ট করে নি বেইজিং। চিন সরকারের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী তিব্বতে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮ জন। তাঁদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক ২৬১ জন।
চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক’ রবিবার জানিয়েছে, বিদেশি নিখোঁজদের তালিকায় নেপালি ১০৪ জন, ভারতীয় ৪৯ জন, লাতভিয়ার ৩৩ জন, আমেরিকার নাগরিক ১৮ জন এবং ব্রিটিশ ১৫ জন। নিখোঁজদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ৬ জন, কানাডার ৬ জন, দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ জন, মালয়েশিয়ার ৩ জন, জার্মানির ৩ জন, রাশিয়ার ৩ জন, আয়ারল্যান্ডের ২ জন, ফরাসি ২ জন এবং নেদারল্যান্ডসের ২ জন নাগরিক আছেন। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের তালিকায় স্পেন, হাঙ্গেরি, পর্তুগাল এবং নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরাও রয়েছেন।

চিন সরকার জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির দূতাবাস ও উপদূতাবাসে খবর দেওয়া হয়েছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ধ্বংসপ্রাপ্ত গিরং ল্যান্ডপোর্টে কোনও বিদেশি নাগরিক আটকে নেই বলে বেইজিং নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নেপালের বানবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলি থেকে ৭৩৪টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২৪৯৮ জন। এঁদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি। বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ২৭৫ জন। নিখোঁজদের তালিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত আছেন ১২৮ জন। এখনও পর্যন্ত বন্যাবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলি থেকে ৮ হাজার ১৮৬ জন দুর্গতকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
Feature image is collected.