৬ গোল খাওয়ার ম্যাচে মাত্র ১ গোলে হার!বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার এটুকুই সান্ত্বনা

৬ গোল খাওয়ার ম্যাচে মাত্র ১ গোলে হার!বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার এটুকুই সান্ত্বনা


গোল লক্ষ্য করে স্পেনের ১১টি কঠিন শট আটকে দেশকে বড় ব্যবধানে হারের লজ্জা থেকে রক্ষা করেছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ফটো ক্রেডিট: ইয়াহু স্পোর্টস।

বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা ছিল লিওনেল মেসি বনাম লামিন ইয়ামালের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই দেখার। কিন্তু ফুটবলের মহারণ শেষ পর্যন্ত একতরফা স্প্যানিশ আধিপত্যের গল্প হয়ে রইল। গোটা ম্যাচে আর্জেন্টিনা যেন নিজেদের ছায়াও খুঁজে পেল না। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের মুকুট পরল স্পেন।

ফিফা বিশ্বকাপে-২০২৬-এর সোনার ট্রফি হাতে উল্লসিত চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ফুটবলারেরা। ট্রফি ধরে আছেন ম্যাচের নায়ক ফেরান তোরেস। ফটো ক্রেডিট: ইয়াহু স্পোর্টস।

স্কোরলাইন মাত্র ১-০ হলেও ম্যাচের চিত্র ছিল অনেক বেশি নির্মম। বলের দখল, পাসিং, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কৌশল- ফুটবল যুদ্ধের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই স্পেন ছিল প্রতিপক্ষের চেয়ে ১০০ শতাংশ এগিয়ে। আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে কার্যত কোনও কার্যকর আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেনি। স্পেন যেখানে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছে, সেখানে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অসাধারণ গোলকিপিং না থাকলে স্পেনের জয়ের ব্যবধান আরও অনেক বড় হতে পারত।

বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে রবিবার‌ই ছিল মেসির জীবনের শেষ ম্যাচ। লিওনেল মেসিকে ঘিরে ছিল কোটি কোটি সমর্থকের স্বপ্ন। তিনি ফুটবলের ঈশ্বর। কিন্তু বিধাতার কোন অভিশাপে না জানি পুরো ম্যাচে নিষ্প্রভ হয়ে র‌ইলেন ঈশ্বর। স্পেনের সুশৃঙ্খল রক্ষণ ও রদ্রির নেতৃত্বে মিডফিল্ডের দাপটে মেসি ছিলেন প্রায় বিচ্ছিন্ন। জুলিয়ান আলভারেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার কিংবা ডি পল- কেউই ম্যাচে নিজেদের ছাপ রাখতে পারেননি। মাঝমাঠে বল পেলেই স্পেনের তীব্র প্রেসিং আর্জেন্টিনার ছন্দ ভেঙে দিয়েছে।

খেলার ১০৬ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জয়সূচক গোলটি করছেন স্পেনের ফেরান তোরেস। ফটো ক্রেডিট: ইয়াহু স্পোর্টস।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে। বদলি হিসেবে নেমে ফেরান তোরেস বক্সের ভেতরে দুর্দান্ত বাম পায়ের শটে জাল কাঁপিয়ে দেন। সেই গোলেই স্তব্ধ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার শিবির, আর উৎসবে ফেটে পড়ে স্পেন।শেষদিকে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তনের সামান্য সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। দশ জনের দল নিয়ে তারা আর স্পেনকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো নূন্যতম অবস্থায়‌ও ছিল না।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে স্পেন শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়নই হল না, আধুনিক ফুটবলে নিজেদের আধিপত্যেরও নতুন ঘোষণা দিল। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার বিশ্বকাপও জিতে ‘লা রোহা’ প্রমাণ করল- তাদের টিকিটাকা এখন আরও দ্রুত, আরও ধারালো, আরও বিধ্বংসী!

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার জন্য এই ফাইনাল হয়ে থাকবে তীব্র হতাশার দুঃসহ স্মৃতি হয়ে। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হলেন মেসিরা। যে দল সেমিফাইনালে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছিল, ফাইনালে সেই দলকে চিনতেই পারা গেল না! লিওনেল স্কালোনির ছেলেরা এ’দিন ফুটবল খেলল না অন্য কিছু? খেলায় হার-জিত থাকবেই, কিন্তু এই ফাইনালে আর্জেন্টিনার এমন জঘন্য পারফরম্যান্স দেখে পৃথিবীর সকল ফুটবলবোদ্ধা বিস্ময়ে টাস্কি খেয়ে গেছেন।

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ দৃশ্য তাই স্পেনের উল্লাসে রাঙানো। আর মেসিদের জন্য এটি এক বেদনাময় সমাপ্তি- যেখানে প্রতিপক্ষের সামনে তারা কার্যত নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করল।

Feature image: collected.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com