কলকাতা: এবারের ২১ জুলাই সব দিক দিয়েই অনন্য। ১৫ বছর পর মমতা ক্ষমতায় নেই। রাজ্যপাট বিজেপির হাতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ‘শহিদ তর্পণ’ অনুষ্ঠান করার অনুমতি পায় নি তৃণমূল কংগ্রেস। সবথেকে বড় কথা তৃণমূল কংগ্রেস দলটাই ভেঙে তিন টুকরো! মঙ্গলবার দুপুরে কালীঘাট তৃণমূল ২১ জুলাইয়ের সভা করল বিড়লা তারামন্ডলের সামনে ক্যাথিড্রাল রোডের উপর। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সভা হল মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে। আর এই প্রথমবার একুশে জুলাই উপলক্ষে খোলা মাঠে বড় সমাবেশ করল প্রদেশ কংগ্রেস। শহিদ মিনারে ময়দানে কংগ্রেসের সভায় জনসমাগম হয়েছিল বেশ ভালোই।

এবারের ২১ জুলাইয়ের প্রাক মুহূর্তে সবথেকে বড় কাজটি করেছে বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকার। সোমবার বিকেলে বিধানসভার সামনে জাস্টিস সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্টে পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েই ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই প্রদেশ যুব কংগ্রেসের ডাকা মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলি চালনার ঘটনার তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন। জাস্টিস সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশন ২০১৪ সালে সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও তা বিধানসভায় পেশ করে নি মমতার সরকার। ২১ জুলাই কমিশনের সেই রিপোর্ট প্রকাশ করল বর্তমান বিজেপি সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জাস্টিস সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করায় খুশি শহিদদের পরিবারের সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দিন কয়েক আগেই কালীঘাট তৃণমূল ছেড়ে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মমতার নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন মদন মিত্রও। জাস্টিস সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করায় শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মদন। সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট সামনে জনসমক্ষে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বও।

তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই জাস্টিস সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট ঠান্ডাঘরে ফেলে রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অভিযোগ শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরই নয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বও মনে করছেন, মণীশকে আড়াল করতেই রিপোর্ট গোপন রেখেছিলেন মমতা। মঙ্গলবার একুশে জুলাইয়ের সভা থেকেও এই প্রসঙ্গ তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের নেতারা। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “কেন কমিশনের রিপোর্ট চেপে রেখেছিলেন মমতার সরকার, তার তদন্ত হোক।
১৯৯৩ সালে ২১ জুলাই প্রদেশ যুব কংগ্রেসের ডাকা মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জনের প্রাণ গিয়েছিল। সে সময় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন মণীশ গুপ্ত। মণীশের নির্দেশেই পুলিশ গুলি চালিয়েছিল, জাস্টিস সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্টে এমন ইঙ্গিত রয়েছে। ২১ জুলাইয়ের শহিদদের পরিবারের সদস্যরাও এখন মনে করছেন, মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতে রিপোর্ট প্রকাশ না করে তাদের সঙ্গে বেইমানি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের কাছে এখন মণীশ গুপ্তের বিচার দাবি করেছেন তাঁরা। শহিদ মিনারের সভা থেকে মণীশ গুপ্তের বিচার দাবি করল প্রদেশ কংগ্রেসও। সভাস্থলে একটি প্রতীকী কাঠগড়ায় চেয়ারের উপর মণীশের কাটআউট রেখেছিলেন আয়োজকেরা।

মেয়ো রোডের সভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মমতার কাছে জানতে চান, কেন তিনি তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করেন নি। ঋতব্রত বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, দিদি কেন এই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করলেন না? কী বাধা ছিল? কাদের বাঁচানোর ছিল?”
Feature graphic: NNDC.