অনেক হয়েছে প্রহসন! প্রশান্ত বর্মনকে বরং 'ইনডেমনিটি' দিক সরকার

অনেক হয়েছে প্রহসন! প্রশান্ত বর্মনকে বরং ‘ইনডেমনিটি’ দিক সরকার


রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন বারাসত আদালত থেকে জামিন পেয়ে গেলেন! স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রশান্ত একজন ফেরার আসামী। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে উল্লেখিত মামলায় আত্মসমর্পণ করেন নি তিনি। তাঁর নামে আদালত থেকে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনও লাগু আছে। পথ সুরক্ষা বিধি ভঙ্গের অভিযোগে সোমবার রাতে নিউটাউনের একটি এলাকা থেকে প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেফতার করে ইকোপার্ক থানার পুলিশ। প্রশান্তকে বারাসত আদালতে তোলার পর দত্তাবাদের স্বর্ণব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনের মামলার নথি বিচারকের সামনে উত্থাপন‌ই করেন নি সরকারি আইনজীবী।

বিধাননগর থানা থেকে তদন্তকারী আধিকারিক মামলার কাগজপত্র নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বারাসত আদালতে পৌঁছানোর সুযোগ পান নি। সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর বিচারক প্রশান্ত বর্মনকে জামিন দিয়ে দেন। কারণ, পথনিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনের যেসব ধারায় অভিযুক্ত করে প্রশান্তকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল, তার সবকটিই জামিন যোগ্য। প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশ ছাড়া এই অলীক কুনাট্য আদালতে মঞ্চস্থ হতেই পারে না। স্বপন কামিল্যাকে খুন ও অপহরণ মামলার মূল আসামী প্রশান্ত বর্মন। নিহতের পরিবারের করা ‘এফ‌আইআর’-এ একমাত্র নাম প্রশান্তর।

এবার নাটকটা কীভাবে ধাপে ধাপে সাজানো হল, দেখা যাক। সোমবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে একজনকে আহত করার অভিযোগে নিউটাউন থেকে প্রশান্ত আটক। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন যুবক প্রশান্ত বর্মনকে চিনে ফেলে সামাজিক মাধ্যমে লাইভ ভিডিয়ো করলে প্রশান্তকে আটক করতে বাধ্য হয় পুলিশ। এরপর প্রশান্তকে ইকোপার্ক থানায় স্থানান্তর এবং মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার দেখানো। এদিকে বিধাননগর থানার অধীনে স্বপন কামিল্যাকে খুন ও অপহরণের মামলা। সকলেই আশা করেছিল, এবার প্রশান্তকে এই মামলায় হেফাজতে নিতে আদালতের কাছে আবেদন করবে পুলিশ। অথচ আদালতের রাস্তাই মাড়ালেন না মামলার তদন্তকারী আধিকারিক!

বিধাননগর থানা থেকে বারাসত আদালতের দূরত্ব মাত্র ১৯ কিলোমিটার। মামলার নথি আলমারি থেকে বের করে এনে এই দূরত্ব ৮ ঘন্টাতেও অতিক্রম করতে পারলেন না তদন্তকারী অফিসার! সরকারের উদ্দেশে বলি, তারা কি ভাবে আমরা সাধারণ মানুষ ঘাসে মুখ দিয়ে চলি? এই নাটক আমরা বুঝি না?

আজকে বারাসত আদালতে যা ঘটানো হল, তা ন্যক্কারজনক। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, স্বপন কামিল্যাকে খুন ও অপহরণের মামলায় প্রশান্ত বর্মনকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, আত্মসমর্পণের পর চাইলে প্রশান্ত জামিন চাইতেই পারেন। কিন্তু পুলিশ‌ও আদালতের কাছে তদন্তের স্বার্থে প্রশান্তকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানোর সুযোগ পাবে। বিচারক দুই তরফের বক্তব্য শোনার পর সিদ্ধান্ত নেবেন। অথচ স্বপন কামিল্যাকে খুন ও অপহরণ মামলার তদন্তকারী অফিসার‌ মামলার নথি নিয়ে আদালতে পৌঁছলেন‌ই না! প্রশাসনের কোন শীর্ষ মহল থেকে নির্দেশ এলে পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অগ্রাহ্য করার দুঃসাহস দেখায়, তা না বোঝার মতো নির্বোধ কিন্তু সাধারণ মানুষ নয়।

পুনরুক্তি করি, গতকাল বারাসত আদালতে যা ঘটানো হল, তা ন্যক্কারজনক। ছিঃ! যে যুবক সোমবার রাতের ঘটনা ভিডিও করেছিলেন, তাঁর জীবনের নিরাপত্তা নিয়েই বরং এখন আমাদের ভীষণ দুশ্চিন্তা হচ্ছে। খুন-অপহরণের মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগে অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনকে নিয়ে বার বার নাটক আমাদের ভাল লাগে না। এর চেয়ে সরকার প্রকাশ্যে ঘোষণা করে দিক, প্রশান্ত বর্মনকে ‘ইনডেমনিটি’ বা দায়মুক্তি দেওয়া হল। সরকারের কাছে এখন এটাই আমাদের আর্জি। এবং কী কারণে তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়া হল, সেটা জানিয়ে দিলে আমরা সবাই বাধিত হ‌ই।

Feature graphic is representational and AI generated.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com