বিদেশ থেকেই ভারতকেশরীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোদী- 'শ্যামাপ্রসাদের জন্য‌‌ই বাংলা আজ ভারতে'!

বিদেশ থেকেই ভারতকেশরীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোদী- ‘শ্যামাপ্রসাদের জন্য‌‌ই বাংলা আজ ভারতে’!


ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫-তম জন্মজয়ন্তী। গৈরিক বাংলায় মহাসমারোহে শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ। ফাইল ফটো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সদ্য স্বাধীন ভারতের অখন্ডতা রক্ষা করতে প্রাণ দিয়েছিলেন ভারতকেশরী। এক দেশে দুই বিধান, দুই প্রধান, দুই নিশান হতে পারে না- এই হুঙ্কার দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ।” মোদী আরও বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ কাশ্মীরের জন্য আত্মবলিদান দিয়েছিলেন। সেই কাশ্মীরেই ৩৭০ ধারার প্রাচীর ভেঙেছি আমরা। শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন পূরণ করেছি, এটা আমাদের জন্য গর্বের।”

নরেন্দ্র মোদী বলেন, “দেশভাগের সাথে সাথেই বাংলাকে ভারত থেকে আলাদা করার চক্রান্ত হয়েছিল। বুঝতে পেরে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জনমত তৈরি করেন, আন্দোলন করেন। বাংলা ভাগের চক্রান্ত রুখে দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। সে সময় তিনি বলেছিলেন, কংগ্রেস দেশভাগ করেছে, আমি পাকিস্তান ভাগ করেছি। তাঁর চেষ্টাতেই আজ বাংলা ভারতের সঙ্গে।” নরেন্দ্র মোদী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের পবিত্র ভূমি থেকে জাতীয়তাবাদের যে তুফান গোটা বাংলাকে পাকিস্তান হতে দেয় নি, সেই বিস্মৃত অধ্যায়ের কথা আজ সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।”

ভিডিয়োবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলার এই কৃতী সন্তানকে আজ গোটা দেশ স্মরণ করছে। শ্যামাপ্রসাদের চিন্তাধারা, আদর্শ‌ই আজ দেশকে পথ দেখাচ্ছে। যে সময় জনসংঘ তৈরি হয়, সেই সময় সর্বত্র কংগ্রেস ছিল। আলাদা বিচারধারার কোন‌ও জায়গাই ছিল না দেশে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঔপনিবেশিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করার কথা বলেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। তিনি চেয়েছিলেন, বাঙালি জাতির হৃত গৌরবের পুনরুদ্ধার এবং মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার প্রসার। ভারতীয় ভাষাগুলিকে সম্মান দিতেন তিনি। ভারতকেশরীর পথে হেঁটেই সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে।”

দিনের শুরুতেই এক্স হ্যান্ডেলে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫-তম জন্মজয়ন্তী। আমি ভারতের অন্যতম, অনন্য জাতি-নির্মাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর জীবনে জ্ঞানচর্চা, সাহস এবং জাতির সেবার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের সঙ্কল্প ছিল। তিনি ভারতের ঐক্য, মর্যাদা এবং অগ্রগতির জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, “তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ চিন্তাবিদ এবং শিক্ষাবিদ, যিনি উদ্ভাবনমুখী ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাকে সমর্থন করেছিলেন। শিল্পমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিল্পে স্বনির্ভরতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্র এবং তাঁর সম্পর্কিত জীবিকা যেন সমৃদ্ধ হয়, তা নিশ্চিত করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে দুর্ভিক্ষের সময় তাঁর মানবিক প্রচেষ্টা সঙ্কটাপন্ন মানুষের প্রতি তাঁর গভীর সহানুভূতির প্রতিফলন। সর্বোপরি, ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকার আজও অনুপ্রেরণার এক চিরস্থায়ী উৎস হয়ে রয়েছে। আমরা যখন একটি বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছি, তাঁর দূরদর্শিতা আমাদের পথকে আলোকিত করে চলেছে।’

Feature graphic is representational.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com