এক নয় এক ডজনের বেশি বিদেশিনীর খোঁজ, রাজ্যের প্রভাবশালীদের পাচারের টাকা দুবাই ঘুরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা ব্যাঙ্কে! - nagariknewz.com

এক নয় এক ডজনের বেশি বিদেশিনীর খোঁজ, রাজ্যের প্রভাবশালীদের পাচারের টাকা দুবাই ঘুরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা ব্যাঙ্কে!


বিশেষ প্রতিবেদন: রাজ্যের এক প্রভাবশালী নেতার রুশ বান্ধবীকে নিয়ে এখন জোর গুঞ্জন পথেঘাটে, সংবাদ এবং সামাজিক মাধ্যমে।‌ নিয়োগ সহ আরও নানা ঘোটালার টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে দুবাই হয়ে লন্ডন প্রবাসী সেই বান্ধবীর অ্যাকাউন্টে গিয়ে ঢুকেছে বলে নাকি খোঁজ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এই খবর বাসী হ‌ওয়ার আগেই বাজারে নতুন গরম খবর- একজন নয়, এমন আরও অনেক বিদেশিনীর খোঁজ মিলেছে, যাদের অ্যাকাউন্টে বাংলার প্রভাবশালীদের টাকা গচ্ছিত আছে। যে বিপুল পরিমাণ টাকা প্রভাবশালীরা অসৎ উপায়ে হাতিয়ে নিয়েছেন তার একটা বড় অংশ যে বিদেশে পাচার হয়েছে, নিয়োগ সহ বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্তে নেমেই সেই আঁচ পাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা।

নিয়োগ দুর্নীতিতে ইতিমধ্যেই দু-তিনজন প্রভাবশালীর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আড়কাঠিও জেলে। ধৃতদের জেরা করে এবং তাদের সূত্রে পাওয়া তথ্যাদি যাচাই করে ইডি-সিবিআইয়ের আধিকারিকেরা রহস্যের জট অনেকটাই খুলেছেন বলে‌ জানা যাচ্ছে। যে কোনও বড় স্ক্যামে যে বিশাল টাকা লুঠ হয়, তা দশহাত ঘুরে বাজারের গলিঘুচির মধ্যে হারিয়ে যায়। সময় যত গড়ায় সেই টাকার হদিস পাওয়ার সম্ভাবনা তত‌ই ক্ষীণ হতে থাকে। তাই তদন্তে গতি এনে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে গরু-কয়লা পাচার সহ রাজ্যের যাবতীয় ঘোটালার সব থেকে বড় বেনিফিশিয়ারিকে দ্রুত শনাক্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন ইডি-সিবিআইয়ের আধিকারিকেরা।

বাংলা থেকে পাচার হ‌ওয়া টাকা দুবাই হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র মারফত জেনেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। রাজ্যের এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে রুশ‌ বান্ধবীর সম্পর্কের সূত্রপাত‌ও নাকি দুবাইয়ের হোটেলেই। তদন্তের অগ্রগতি হতেই এখন জানা যাচ্ছে, শুধু রুশ মডেল নয় আরও জনা পনেরো বিদেশিনীর অ্যাকাউন্টে বাংলা থেকে পাচার হ‌ওয়া কয়েক শত কোটি টাকা ঢুকেছে। পূর্ব ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের যুবতীরা দুবাইয়ে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত। পৃথিবীর যে কোনও দেশের আর্থিক অপরাধীদের জন্য দুবাই হল স্বর্গরাজ্য। বিভিন্ন দেশ থেকে পাচার হয়ে আসা কালো টাকার হিল্লে হয় দুবাইয়ের বাজারে। দুবাইয়ে কর্মরত বিদেশিনীদের মাধ্যমে হংকং, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের ব্যাঙ্কে বাংলার কয়েকজন প্রভাবশালী টাকা রেখেছেন বলে ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, এমনটাই খবর।‌

দুবাইয়ে কর্মরত যে বিদেশিনীরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক, তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেওয়ার চল আছে টাকা পাচারকারীদের মধ্যে। একদম আন্তর্জাতিক ব্যাপার-স্যাপার, যা রপ্ত করে নিয়েছেন বাঙালি প্রভাবশালীরাও। দুবাই থেকে ১৫ জন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যুবতী খুঁজে বের করে তাদের অ্যাকাউন্টে তাঁরা টাকা ভাড়া রেখেছেন বলে কিছু কিছু তথ্য-প্রমাণ নাকি ইডির আধিকারিকেরা ইতিমধ্যেই জোগাড় করতে পেরেছেন। জমা টাকার উপর কমিশন পাওয়ার শর্তে বাঙালি নেতাদের টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে রাখছে বিদেশিনীরা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার হয়ে আসা টাকা সুরক্ষিত রাখার আশ্বাস দেয় ব্যাঙ্কগুলি। ফলে গচ্ছিত টাকার যিনি আসল মালিক, অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণভার তাঁর হাতেই ছেড়ে দেয় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। এই সুযোগ নিচ্ছেন রাজ্যের প্রভাবশালীরাও। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ব্যাঙ্কে পাচারের টাকা জমা রাখার ব্যাপারে এখন যথেষ্ট‌ই সড়গড় কলকাতার বাঙালি প্রভাবশালীরা।

বিদেশে টাকা পাচার, সেই টাকা বিদেশি ব্যাঙ্কে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা এবং পাচার হ‌ওয়া টাকা ঘুরপথে দেশে ফিরিয়ে এনে কামধান্ধায় লাগানো- এই চক্রটা ভেদ‌ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। ২০১৭ থেকে ২০২০- এই তিন বছরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কয়েক শত কোটি টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে দফায় দফায় পশ্চিম এশিয়ায় যে পাচার করা হয়েছে, সেই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় দুই তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা নিশ্চিত।‌ ভুয়ো বিনিয়োগ সংস্থা খুলে বিদেশিনীদের অ্যাকাউন্টে পাচারকৃত টাকা সময় সময় সাদা করে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। বিদেশি ব্যাঙ্কে বিনিয়োগ ও বিদেশ থেকে টাকা লেনদেনের কিছু নথি নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কয়েকজনের দফতর ও বাড়ি সার্চ করে ইডি-সিবিআইয়ের হাতে এসেছে বলে‌ জানা যাচ্ছে। জনৈক প্রভাবশালীর একজন ঘনিষ্ঠ হিসাবরক্ষক‌ও নাকি ইডির কড়া নজরদারিতে।

দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।‌

Feature image/graphic is representational.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *