নড়াইলের ঘটনায় ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া তসলিমার, হাসিনাকে নিরোর সঙ্গে তুলনা - nagariknewz.com

নড়াইলের ঘটনায় ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া তসলিমার, হাসিনাকে নিরোর সঙ্গে তুলনা


ডেস্ক রিপোর্ট : শেখ হাসিনার আমলেই বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর সবথেকে বেশি অত্যাচার হয়েছে বলে মনে করেন তসলিমা নাসরিন।‌ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সংখ্যালঘু গ্রামে হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজের ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন নির্বাসিত বাংলাদেশী লেখিকা।

ফেসবুকে গ্রামের জনৈক হিন্দু যুবক পয়গম্বর সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করেছে- এই অভিযোগে লোহাগড়ার দীঘলিয়া গ্রামে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে তান্ডব চালায় কয়েক হাজার উন্মত্ত জনতা। ‘হিন্দুদের মাইরা ফ্যাল’- এই হুঙ্কার দিতে দিতে লাঠিসোঁটা এবং ধারালো অস্ত্র হাতে তারা সাহাপাড়ায় ঘরে ঘরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনায় ১২০টি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। কমপক্ষে দশটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একাধিক মন্দিরেও ভাঙচুর চালায় হামলাকারীরা। গুড়িয়ে দেওয়া হয় প্রতিমা। দীঘলিয়া বাজারে হিন্দুদের ৩৯টি দোকান লুট হয়েছে বলে জানা গেছে।

কলকাতার বড় বড় মিডিয়া নড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা অবলম্বন করলেও মুখ খুলেছেন তসলিমা। তসলিমা অভিযোগ করেছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলেই হিন্দুদের ওপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। তসলিমা মনে করেন, ধর্মানুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, দোকান লুট এবং মন্দির ভাঙচুর এখন দৈনন্দিন ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিরোর সঙ্গে তুলনা করে তসলিমা লিখেছেন- “এই সময় যাঁর উচিত রুখে দাঁড়ানো, অনুভূতির রাজনীতি সমূলে ধ্বংস করা, সাম্প্রদায়িকতার কবর দিয়ে দেওয়া তিনি নীরোর মতো বাঁশি বাজাচ্ছেন, নিজের গুণ কীর্তন গাইছেন, পদ্মা সেতুর আনন্দে সদলবলে নৃত্য করছেন।”

শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন বেড়েছে- মনে করেন তসলিমা।

তসলিমা মনে করেন নড়াইলের ঘটনার জেরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি এবং সহায়-সম্পদ‌ই শুধু পুড়ল না আর‌ও একবার পুড়ে গেল সংখ্যাগুরু প্রতিবেশীদের প্রতি তাদের বিশ্বাস এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তাদের আস্থা। তসলিমা নাসরিনের পুরো পোস্টটি‌ই পাঠকদের জন্য তুলে দেওয়া হল-

আমার মনে হয় শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার হয়েছে, এবং এখনও হচ্ছে। কোনও হিন্দুর ফেসবুক পোস্ট মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, এই অভিযোগ করে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন জ্বালানো, মন্দির ভেঙ্গে ফেলা এখন মুসলমানদের দৈনন্দিন কর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সময় যাঁর উচিত রুখে দাঁড়ানো, অনুভূতির রাজনীতি সমূলে ধ্বংস করা, সাম্প্রদায়িকতার কবর দিয়ে দেওয়া তিনি নীরোর মতো বাঁশি বাজাচ্ছেন, নিজের গুণ কীর্তন গাইছেন, পদ্মা সেতুর আনন্দে সদলবলে নৃত্য করছেন। নড়াইলে আবার মানুষের ঘর পুড়লো, সহায় সম্পদ পুড়লো, মন পুড়লো, প্রতিবেশির ওপর বিশ্বাস পুড়লো, সরকারের ওপর আস্থা পুড়লো। পুড়ে ছাই হয়ে গেল।

মানুষগুলোর দোষ, মানুষগুলো মুসলমান নয়। আর কতকাল এই অন্যায় চলবে? প্রতিবাদ আর কতকাল করতে হবে? আর কতকাল মুসলমানরা অমানুষ রয়ে যাবে, আর কতকাল সরকার চোখে ঠুলি পরে আর কানে তুলে গুঁজে বসে থাকবে? কারও কাছে উত্তর আছে?

Photo Credit- Verified FB page of Taslima Nasrin.


Leave a Reply

Your email address will not be published.