কলকাতা: তারাপীঠের পর কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকান্ড। রাজ্যে পর পর হোটেলে আগুন! বুধবার রাত দুটোর দিকে মির্জা গালিফ স্ট্রিটের একটি হোটেলের তিনতলায় আগুন লাগে। এখনও পর্যন্ত একটি শিশু সহ নয় জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। নিহতরা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গেছে। তাঁরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকা জুড়ে অসংখ্য হোটেল— এই সব হোটেলেই বাংলাদেশী পর্যটকেরা সাধারণত উঠে থাকেন।
গভীর রাতে আবাসিকেরা যখন ঘুমোচ্ছিলেন, তখন হোটেলটিতে আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে আগুন তিনতলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিক। অধিকাংশ আবাসিক বেরোনোর রাস্তা খুঁজে পান নি। ঘরেই আটকা পড়েন তাঁরা। একই বিল্ডিংয়ের তলায় তলায় পৃথক পৃথক হোটেল। সরু প্যাসেজের দুই পাশে ঘুপচি ঘুপচি ঘর। অগ্নিনির্বাপনের আপৎকালীন ব্যবস্থা বলতে গেলে কোনও ফ্লোরেই নেই। তিন তলার যে হোটেলে আগুন লেগেছিল, সেই হোটেলের এক্সিট-এন্ট্রি একটিই। সেই পথও যথেষ্ট সংকীর্ণ। হোটেলটিতে আপৎকালীন প্রস্থানের কোনও ব্যবস্থা নেই!
মির্জা গালিব স্ট্রিটের যে হোটেলে আগুন লাগে, তার অদূরেই দমকলের সদর দফতর। খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান দমকলের কর্মীরা। নিউ মার্কেট থানা থেকে পুলিশও ছুটে যায়। সরু সিঁড়ি বেয়ে তিন তলায় উঠে হোটেলের করিডোরে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করতে বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদের। ৬০ জন আবাসিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান তাঁরা। ধোঁয়ায় অনেকেই অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলেন। নিহত নয় জনের মধ্যে ছ’জন পুরুষ, দু’জন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে। আগুনে ঝলসে নয় ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে এদের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
শর্ট সার্কিট থেকে হোটেলটিতে আগুন লাগতে পারে বলে দমকলের আধিকারিকদের প্রাথমিকভাবে অনুমান। আগুন লাগার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের দেখা মিলে নি বলে আবাসিকদের অভিযোগ। আগুন লাগার পর পরই আবাসিকেরা দরজা খুলে নিজেদের ঘর থেকে বেরোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হোটেলটির সরু করিডোর ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়ায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রাণ বাঁচাতে কেউ শৌচালয়ে ঢুকে পড়েন কেউ। জানলা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন কেউ কেউ। দমকলকর্মীরা হাইড্রোলিক ল্যাডার ব্যবহার করে তাদের বের করে আনেন।
ঘটনস্থলে পৌঁছে বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠক অভিযোগ করেন, “এই এলাকার অধিকাংশ হোটেল বেআইনি। বিধি মেনে হোটেলগুলি তৈরি হয় নি। আবাসিক ভবনগুলিকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক হোটেলে পরিণত করা হয়েছে। কর্পোরেশন টাকা খেয়ে চোখ বন্ধ করে বসেছিল।
Feature image: NNDC.