ডেস্ক রিপোর্ট: পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য বরদাস্ত করবে না সরকার। আগেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিল বিজেপিও। বিজেপির পাশে থাকছে এবিভিপি সহ সংঘ পরিবারের একাধিক উইংসও। শুক্রবার ধর্মতলায় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি ও ককরোচ জনতা পার্টির মিছিল ঘিরে অশান্তি হয়েছে। এর প্রতিবাদে সোমবার কলকাতায় মিছিল করবে বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা কমিটি।
মঙ্গলবার পথে নামবে এবিভিপি, অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ এবং ভারতীয় শিক্ষণ মন্ডল সহ একাধিক সংগঠন। শুক্রবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কলকাতায় মিছিল বের করেছিল একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। তাতে পা মেলায় সিজেপির সদস্যরাও। ধর্মতলায় মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, জলের বোতল ও জুতা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের রোষ গিয়ে পড়ে মিডিয়া কর্মীদের উপরেও। মহিলা সাংবাদিকরাও নিগৃহীত হন। মিছিলের ভেতর থেকে দুর্বৃত্তরা বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের রাস্তায় ফেলে পেটায়। সাতজন সাংবাদিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাংবাদিক ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ করেছে সরকার। ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা সেদিন হিংসায় জড়িত ছিল। এদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “মিছিল থেকে যারা পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে, তারা কেউ ছাত্র নয়। এরা জামাতের লোক। গুন্ডাদমন আইনে এদের ঠান্ডা করবে সরকার।” এদিকে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব বলছে, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের দমনে পুলিশের কাজ পুলিশ করবে। কিন্তু এদের রাজনৈতিকভাবেও মোকাবিলা করা দরকার।

উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ বলেছেন, “গণতান্ত্রিক দেশে যে কারও আন্দোলন করার অধিকার আছে। কিন্তু আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হতে হবে। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের নামে কলকাতার রাস্তায় যে অরাজকতা দেখলাম, তা আমরা মেনে নেব না। নৈরাজ্য, অরাজকতা তৈরির চেষ্টার বিরুদ্ধে পথে নামছি আমরা। আজাদির স্লোগান দিয়ে অশান্তির আগুন জ্বালাতে দেব না।” সোমবার বেলা ৩-টে নাগাদ শিয়ালদহ চত্বর থেকে বিজেপির মিছিলটি বের হবে বলে জানা গেছে। মিছিল যাবে ধর্মতলায়।
মঙ্গলবার রাজপথে নামবেন এবিভিপি, এবিআরএসএম, বিএসএম, বিদ্যা ভারতী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস, ইতিহাস সংকলন সমিতি সহ সংঘ পরিবারের একাধিক সংগঠনের সদস্যরা। এদের দুটি মিছিল শিয়ালদহ ও হাওড়া থেকে শুরু হয়ে ধর্মতলায় গিয়ে শেষ হবে। এবিভিপি নেতৃত্ব বলেছেন, “বামপন্থীরা চিরকালের রাষ্ট্রদ্রোহী। তাদের সঙ্গে এসে জুটেছে জামাতে ইসলামীর মতো মৌলবাদী শক্তি। শনিবার আন্দোলনের নামে শালীনতার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করেছে এরা। এই অপশক্তি ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও দিন রাস্তায় নেমে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এখন থেকে রাজপথে থাকছি আমরা।”
Feature image is representational and AI generated.