কলকাতা: ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা সহ সব দাবি কেন্দ্র মেনে নেওয়ায় যন্তরমন্তর থেকে ধর্নামঞ্চ গুটিয়ে নিয়ে ঘরে ফিরে গেছে ককরোচরা। এদিকে শুক্রবার কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির মিছিল ঘিরে যারা অশান্তি পাকিয়েছিল, কড়ায়-গন্ডায় তাদের হিসেব নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। মিছিলে পা মিলিয়েছিল গুচ্ছের বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। ছিল নকশালপন্থীদের কয়েকটি গোষ্ঠীও। পুলিশ জানিয়েছে, শুধু এরাই নয়, জামাতি, মৌলবাদীরাও সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ঢুকে পড়েছিল ছাত্রদের মিছিলে।
মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে যথেচ্ছ জলের বোতল, জুতো ও ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। সবথেকে ন্যক্কারজনক হল, সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ। গণমাধ্যম কর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন। ছয়জন জখম সাংবাদিককে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে এমন ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সদ্য পাস হওয়া গুন্ডাদমন আইনে মামলা করেছে লালবাজার।”

শুভেন্দুর হুঙ্কার শোনার সাথে সাথেই অভিযুক্তদের অনেকে ভয়ে ভিনরাজ্যে পালিয়ে গেছে বলে সূত্রের খবর। তবে জামানা বদলের পর গুন্ডা দমনে পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি করিৎকর্মা। ছাত্র মিছিল থেকে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে রবিবার সকাল পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। ধরপাকড় চলছে। ধর্মতলায় মিছিলে হিংসার ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি এবং এন্টালি থানায় একটি, মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস অ্যাক্ট-২০২৬’-এ।
ভিনরাজ্য কেন বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে আন্দামান দ্বীপে লুকিয়ে থাকলেও অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে জেলে ঢোকানো হবে বলে পুলিশ মহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত যাদের ধরা হয়েছে তাদের মধ্যে শাহবাজ খানের বাড়ি কড়েয়া এলাকায়। শেখ সলমান হোসেন থাকে রাজাবাগানে। মহম্মদ জহিরউদ্দিনের বাড়ি ভাঙড়ে। মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজকে ধাওয়া করে অন্ডালের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের উপর থেকে ধরে এনেছে পুলিশ। এরা বিহারে পালিয়ে যাওয়ার তালে ছিল। মহম্মদ আফরোজ মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা। এলাকায় সে তৃণমূলের কর্মী হিসেবে পরিচিত। তৃণমূলের স্থানীয় বিধায়ক আব্দুল খালেকের সাথে তার ওঠাবসা আছে।

ধৃতরা কেউই পড়ালেখার সাথে যুক্ত নয় বলে জানিয়েছে লালবাজার। তাহলে ছাত্রদের মিছিলে এরা কী করতে গেল? উত্তর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীই। শুভেন্দু অধিকারী রবিবার বলেছেন, “এরা কেউ ছাত্র নয়। এরা জামাতি, মৌলবাদী। ভারতকে অশান্ত করতে চায়। গুন্ডাদমন আইনে এদের সাইজ করা হবে।” কলকাতা শহরে বড় আকারের অশান্তি পাকাতেই ছাত্রদের মিছিলে ঢুকেছিল এরা। শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল হেরে গেছে। নতুন রাষ্ট্রবাদী সরকার রাজ্যে এসেছে। খারিজি মাদ্রাসা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। অবৈধভাবে ওবিসি শংসাপত্র পেয়েছিল, হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। আমরা কোর্টের আদেশ কার্যকর করেছি। সাউন্ড পলিসিতে বিধি আরোপ করা হয়েছে। এ’সব নিয়ে ভেতরে রাগ আছে।”
শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “সাংবাদিকদের গায়ে যারা হাত তুলেছে, তাদের এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যে এরা তো বটেই এদের তিন পুরুষ ব্যথাটা মনে রাখবে!” মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে ইশারা পেতেই পুরো অ্যাকশন মোডে লালবাজার।
Feature image is representational and AI generated.