ফলতায় পদ্ম ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূল! লক্ষাধিক ভোটে জিতল বিজেপি, দ্বিতীয় স্থানে সিপিএম

ফলতায় পদ্ম ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূল! লক্ষাধিক ভোটে জিতল বিজেপি, দ্বিতীয় স্থানে সিপিএম


ইলেকশন ডেস্ক: ফলতা পুনর্নির্বাচনে ১ লক্ষের বেশি ভোটে জয়লাভ করলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সিপিএমের শম্ভুনাথ কুর্মিকে ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে হারিয়েছেন দেবাংশু। দেবাংশু পান্ডা পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬টি ভোট। দ্বিতীয় স্থানে সিপিএমের শম্ভুশম্ভুনাথের প্রাপ্ত ভোট ৪০ হাজার ৬৪৫। কংগ্রেসের আব্দুর রেজ্জাক পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৪ ভোট। তৃণমূলের জাহাঙ্গির খান চারে। জাহাঙ্গিরের ভোট মাত্র ৭ হাজার ৭৮৩।

ফলতায় ২১ রাউন্ড পর্যন্ত গণনা হয়েছে। সকালে গণনা শুরু হ‌ওয়ার পর প্রথম রাউন্ড থেকেই গেরুয়া ঝড়। প্রথম রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রার্থী পেয়েছিলেন ৯৫৩৪ ভোট। দ্বিতীয় সিপিএম শেষ করেছিল ৪৪৮ ভোটে। কংগ্রেস ২২৫ ও তৃণমূলের মাত্র ২১০ ভোট। রাউন্ড যত বেড়েছে বিজেপির বিজয়রথের গতি তত‌ই তীব্র হয়েছে। অভিষেক ব্যানার্জির ডায়মন্ডহারবার মডেলের ভরকেন্দ্র ছিল ফলতা। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে এক ফলতা বিধানসভা থেকেই অভিষেক লিড করেছিলেন ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ভোটে। ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই ফলতায় তৃণমূল শুধু জামানত‌ই হারাতে বসেছে না, ভোট মাত্র তিন শতাংশে এসে ঠেকেছে!

ভোটযুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পালানো জাহাঙ্গির পুষ্পার জুটল মাত্র ৩.৭ শতাংশ ভোট! সংগৃহীত ফটো

২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিন একাধিক বুথে বড় রকমের কারচুপির প্রমাণ পাওয়া গেলে ফলতার নির্বাচন বাতিল করে দিয়ে গোটা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। ৩০ এপ্রিল সকাল থেকেই বেপাত্তা হয়ে যান অভিষেকের ডানহাত ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। ৪ মে ফলপ্রকাশের পর থেকে ফলতার কোথাও জাহাঙ্গিরের নাম ও নিশান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হয় ২১ মে। পুনর্নির্বাচনের দিন কয়েক আগে জাহাঙ্গির আত্মপ্রকাশ করলেও বুঝে যান, ৪ মে রাজ্যে গেরুয়া সুনামির পর ফলতার তৃণমূল গড়ও বিধ্বস্ত। বুথে বুথে এজেন্ট বসানোর‌ও লোক পাচ্ছিলেন না জাহাঙ্গির। ১৯ মে, পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘন্টা আগে লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পালান জাহাঙ্গির, তৃণমূলের জামানায় নিজেকে যিনি ফলতার বেতাজ বাদশাহ বলেই মনে করতেন।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে না জানিয়েই নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের ডেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন জাহাঙ্গির। যে জাহাঙ্গির খান বলেছিলেন, পুষ্পা ঝুঁকে গা নেহি, সেই জাহাঙ্গির‌ই ভোটযুদ্ধের ময়দান থেকে লেজ গুটিয়ে পলায়ন করেন। ২১ মে ফলতা পুনর্নির্বাচনে ভোট হয়েছে উৎসবের মেজাজে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভোট পড়েছে ৮৮ শতাংশ। প্রত্যেকটি বুথেই বিজেপি ছাড়াও সিপিএম ও কংগ্রেসের এজেন্টরা ছিলেন। ফলতার উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মিও।

ফলতায় বিজেপির বিপুল বিজয়ের পর অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার মডেলকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারীর পোস্ট।

তৃণমূলের জামানায় তারা ভোট দিতে পারতেন না বলে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে জানিয়েছেন ফলতার ভোটারেরা। জাহাঙ্গির খানের পোষা দুর্বৃত্তদের ভয়ে বুথেই যাওয়ার সাহস করতেন না অধিকাংশ ভোটার। বুথে বুথে ঢুকে ছাপ্পা মারত জাহাঙ্গিরের দলবল। এর‌ই নাম ছিল অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার মডেল। ফলতার পুনর্নির্বাচনের ফল থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার, তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট এখন বামেদের দখলে। এটাই আগামীতে রাজ্য রাজনীতির ট্রেন্ড হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। ফলতায় বিজেপির ভোট ৭১.২ শতাংশ। সিপিএমের ১৯.৩৪।‌ মাত্র ৩.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে পুষ্পা জাহাঙ্গিরের ফলতায় তৃণমূল নিঃশেষিত।

Feature image is representational.

 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com