ডেস্ক রিপোর্ট: দলের নাম ও প্রতীক- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরে রাখতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস- এই নামের দাবিদার ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল। ঘাসফুল প্রতীকের মালিকানাও দাবি করেছে ঋতব্রত শিবির। মামলা এখন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের টেবিলে। এরই মধ্যে কালীঘাট তৃণমূল ত্যাগী নেতাদের তালিকায় নতুন নামের সংযোজন- চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য! শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতার মেট্রোপলিটন ভবনে তৃণমূলের ভাড়ায় নেওয়া দফতরের দখল নিয়েছে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল। শনিবার কালীঘাট তৃণমূলর সংশ্রব ত্যাগ করলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
গত ৩ জুন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দলের রাজ্য সভানেত্রী পদে বসিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪ জুলাই পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মমতার রাজনৈতিক সঙ্গ ত্যাগ করলেন চন্দ্রিমা। মেট্রোপলিটন ভবনের দলীয় দফতর ঋতব্রতদের দখলে যাওয়ার পেছনে চন্দ্রিমার হাত দেখছেন মমতা। শুক্রবার সন্ধ্যায় মেট্রোপলিটন ভবন থেকে ফিরতেই ফোন করে চন্দ্রিমাকে চোটপাট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “ওদের হাতে ভবন তুলে দিয়ে এলে! তুমিও তো দেখছি বেঈমান।” মমতার ভর্ৎসনার পরেই অপমানে পদ ও দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। চিঠি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চন্দ্রিমা জানিয়ে দেন, গত ৩ জুন তাঁকে যে পদে (রাজ্য সভানেত্রী) বসানো হয়েছিল, তা থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন তিনি। তৃণমূল এবং তার যাবতীয় শাখা সংগঠনের নামে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে যে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তার ‘সিগনেটরি’র দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন চন্দ্রিমা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় মমতার পরেই ছিল চন্দ্রিমার স্থান। প্রতিমন্ত্রীর পদে থাকলেও অর্থ ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি দফতরের দায়িত্ব চন্দ্রিমাকেই সামলাতে হত। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকতে দলেও গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দলের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনে দলের প্রতিনিধিত্ব- অনেক কাজেই আইনজীবী চন্দ্রিমার উপরে নির্ভর করতেন মমতা। বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গেলেও দলের দুর্দিনে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভাপতির পদে বসিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু বিশ্বস্ত চন্দ্রিমাও যে মমতার উপর বিরক্ত, শনিবার তা জানা গেল।
চন্দ্রিমার পুত্র সৌরভ কলকাতা পুরসভার ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। দিন কয়েক আগেই ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের কাউন্সিলরদের বৈঠকে সৌরভকে দেখা গিয়েছিল। নিজে কালীঘাট তৃণমূল ত্যাগ করার আগে ছেলেকে ঋতব্রত শিবিরে পাঠিয়েছেন চন্দ্রিমাই- তখন থেকেই চন্দ্রিমাকে সন্দেহের তালিকায় রাখতে শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেট্রোপলিটন ভবনে তৃণমূলের দফতর হাতছাড়া হওয়ার পর আর মাথা ঠিক রাখতে পারেন নি মমতা। ফোন করে চন্দ্রিমাকে দু কথা শুনিয়ে দেন তিনি।

দলত্যাগ ও পদত্যাগের কারণ হিসেবে চন্দ্রিমা বলেছেন, “আমার আনুগত্য নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এরপর আর পদে থাকি কী করে?” মমতা ফোন করলেও কালীঘাটে আর ফিরবেন না চন্দ্রিমা। তিনি বলেন, “ফেরার কিছু বিষয় নয়। বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে থাকে, তখন সেই জায়গায় আর ফেরা যায় না।” তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ঋতব্রতদের শিবিরে যোগ দিচ্ছেন না তিনি। যদিও ইস্তফা দিয়েই বিধানসভায় যান রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে বসেন তিনি।
শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে ২৬ মিনিট লাইভ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ ছেড়েছেন চন্দ্রিমা। লাইভে চন্দ্রিমার নামোল্লেখ না করে মমতা বলেন, “কেউ একজন কোথায় গেল, আই ডোন্ট কেয়ার। আমি নেতা চাই না, কর্মী চাই।” এদিকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ইস্তফার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, “প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পান থেকে চুন খসলেই রক্তচক্ষুর মুখে পড়তে হত। সেই সংস্কৃতি এখন অতীত। তাই কেউ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সংস্পর্শে থাকতে চাইছেন না।”
Feature graphic is representational and designed by NNDC.