বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী: নির্যাতিতা নাবালিকা ও গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শুভেন্দুর

বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী: নির্যাতিতা নাবালিকা ও গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শুভেন্দুর


বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় জনরোষের শিকার হয়ে প্রাণ গিয়েছে এলাকার নিরপরাধ যুবক বছর ৩৫-এর ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের। ইন্দ্রজিতকে গণধোলাই দিয়ে মেরে ফেলে ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন। পুলিশি তদন্তে প্রমাণিত হয়, নাবালিকাকে খুন-ধর্ষণের সঙ্গে কোনও ভাবেই যুক্ত ছিলেন না ইন্দ্রজিৎ। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, নাবালিকাকে খুন-ধর্ষণ ও নিরীহ যুবককে পিটিয়ে হত্যা- দুটো ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডল ইতিমধ্যেই এনকাউন্টারে নিহত। ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। নাবালিকা নির্যাতনে জড়িত সন্দেহে আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (৫ জুলাই) সকালে সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিল মেয়েটি। তাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দেহ উদ্ধারের পর এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। রেল অবরোধ হয়। রেললাইনের ক্ষতিও করে হিংস্র জনতা। শুধুমাত্র সন্দেহের বশে এলাকার যুবক ইন্দ্রজিতকে গণধোলাই দেয় তারা। গণপিটুনিকান্ডে জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ইন্দ্রজিতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা সহায়তা

শনিবার গণধোলাইয়ে নিহত ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহতের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। নিহতের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। নিহতের বাবার বার্ধক্যভাতা ও মায়ের অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ব্যবস্থাও করেছে সরকার। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ছেলেটাকে তো আমরা ফেরাতে পারব না। তবে এই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছি। ইন্দ্রের খুনিরা আইন অনুযায়ী চরম শাস্তি পাবে।”

গণপিটুনিতে যুবক খুনের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী আর‌ও বলেন, “নাম-পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। যাঁরা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, এর পিছনে তাঁদের উস্কানি রয়েছে। ভিডিয়োতে যত জনের ছবি দেখা গিয়েছে, সকলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বকখালি, দিঘা থেকেও অভিযুক্তদের ধরে এনেছে পুলিশ।”

নির্যাতিতার পরিবারের পাশে সরকার

গণধোলাইয়ে নিহত যুবকের বাড়িতে যাওয়ার আগে বারুইপুরের নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। নাবালিকার মা-বাবার সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে এসে শুভেন্দু বলেন, “আমি পরিবারকে বলে এসেছি, দোষীদের কাস্টডি ট্রায়াল হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মনিটরিংয়ে কনভিকশন হবে। সরকারের তরফ থেকে আমাদের কিছু দায়িত্ব ছিল। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি।” নির্যাতিতার পরিবারের প্রতি কী ধরনের দায়িত্ব পালন করছে সরকার, এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সেটা আমি বলব না। পরিবার চাইলে বলবে।”

ভিডিও: বারুইপুরের সূর্যপুরে পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি শুভেন্দু অধিকারী। সংগৃহীত ফুটেজ।

সূর্যপুরে পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধনের পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখানে একটি একরত্তি মেয়েকে যে’ভাবে অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে, পরিবারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ যে ওঁরা তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। প্রথম থেকেই পরিবারের পাশে আছি। যে চারজনের নামে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কেউ কেউ বসিরহাটের বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত‌ও পালিয়ে গিয়েছিল। ধরে আনা হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ ভাল কাজ করেছে। বাকি যা ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে। আমি কিছু বলব না।”

Feature image: NNDC.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com