'তৃণমূলের সবকটা চোরকে ভরতে হলে ব্রিগেডে জেলখানা বানাতে হবে!' বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবিরে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

‘তৃণমূলের সবকটা চোরকে ভরতে হলে ব্রিগেডে জেলখানা বানাতে হবে!’ বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবিরে বললেন মুখ্যমন্ত্রী


এক ল়ক্ষ্মীর ভান্ডারের নামে তৃণমূল জামানায় যে দুর্নীতি হয়েছে, তা চোখ কপালে তোলার জন্য যথেষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে ২ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষকে লক্ষ্মীর ভান্ডার দিত তৃণমূল সরকার। তাঁর মধ্যে ২৭ লক্ষ এমন লোককে আমরা ধরেছি, যাঁদের ভোটার তালিকায় নাম‌ই নেই। আবার ৩ লক্ষ পুরুষ পাওয়া গিয়েছে, যাঁরা ল়ক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন। শুধু মুর্শিদাবাদ জেলাতেই এই সংখ্যা সাড়ে চার হাজার। কৃষ্ণনগরের একটি অঞ্চলে ২৭৩ জন পুরুষকে পাওয়া গিয়েছে, যারা ল়ক্ষ্মীর ভান্ডার পেত।”

নিউ টাউনে বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবিরে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রকল্পের বেনিফিশিয়ারিদের কাছ থেকে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগে রাজ্য জুড়ে তৃণমূলীদের ধরপাকড় চলছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু তৃণমূলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারি এড়াতে কেউ পচা পুকুরে ডুব দিচ্ছেন তো কেউ খাটের তলায় লুকোচ্ছেন। হাওড়ার এক তৃণমূল নেতা তো শাড়ির গোডাউনে ঢুকে শাড়ির স্তূপের নীচে ঘাপটি মেরে বসেছিলেন। শিবিরে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতায় এসেছেন বলে আপনাদের কারও মধ্যে যেন দাম্ভিকতা তৈরি না হয়।” দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বলেন শুভেন্দু অধিকারী। কর্মীদের শুভেন্দু মনে করিয়ে দেন, রাজ্যবাসী অনেক বড় দায়িত্ব বিজেপিকে দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী দলের প্রশিক্ষণ শিবিরে দাঁড়িয়ে বলেন, “এই এক‌ই জায়গায় দাঁড়িয়ে আগে বলেছিলাম, “আমি নয় আমরা। মানুষের বিরাট প্রত্যাশা আমাদের নিয়ে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” বাংলায় ১২ মাস রাজনীতি হয়। এই সংস্কৃতি সুশাসন ও উন্নয়নের অন্তরায়। এমনটাই মনে করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “অন্য রাজ্যের সঙ্গে তুলনা করলে এখানকার রাজনীতি ভিন্ন। বিজেপির ভাবধারা, প্রধানমন্ত্রীর গ্যারান্টি এবং মানুষের প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমাদের নিজেদের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।”

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “নির্বাচনী সঙ্কল্পপত্রে যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, ধরে ধরে তা পূরণ করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা প্রতিশ্রুতি মতো অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু করেছি। প্রথমে সমালোচনা হয়েছিল। পরে সবাই বুঝেছেন, সরকারি টাকা, ট্যাক্সের টাকা এ ভাবে জলে ফেলা যায় না।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকার এবং দলের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত লোকের কাছে পৌঁছালো কিনা, সেটা দেখতে হবে।” শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিজেপির যে ৩১৫ জন কর্মী তৃণমূলের জামানায় সন্ত্রাসের বলি হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করেও দেওয়া হবে।

Feature graphic is representational and AI generated.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com