"ভারতকে গণতন্ত্র শেখাতে আসবেন না": নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই জোরালো ভাষণ রুচিরার - nagariknewz.com

“ভারতকে গণতন্ত্র শেখাতে আসবেন না”: নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই জোরালো ভাষণ রুচিরার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতকে গণতন্ত্র শেখাতে আসবেন না। ভারত বিশ্বের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম গণতন্ত্র। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম ভাষণেই বললেন রুচিরা কম্বোজ। রুচিরা জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি। প্রত্যেক মাসে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি পরিবর্তন হয়। স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যদের মধ্যে থেকে কোন‌ও একটি দেশের প্রতিনিধিকে এক মাসের জন্য সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। ডিসেম্বর মাসে নিরাপত্তা পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করবেন ভারতের প্রতিনিধি রুচিরা কম্বোজ।

বৃহস্পতিবার ঘানার প্রতিনিধির হাত থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করার অনুষ্ঠানে রুচিরা বলেন, “গণতন্ত্রে কী করণীয়, তা ভারতকে কার‌ও বোঝানোর দরকার নেই। ভারত আড়াই হাজার বছর ধরে গণতন্ত্রের চেতনাকে লালন করে আসছে।” রুচিরা কম্বোজ আরও বলেন, “ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহত্তম গণতন্ত্র। আমরা গণতান্ত্রিক ছিলাম এবং সবসময় থাকবোও।” সাম্প্রতিক সময়েও ভারতীয় গণতন্ত্র সম্পূর্ণ বিপন্মুক্ত বলে দাবি করে রুচিরা জানান, “আইন, শাসন, বিচার ও সংবাদমাধ্যম- গণতন্ত্রের চারটি স্তম্ভকে অক্ষত রেখেছি আমরা। ভারতের সামাজিক মাধ্যম‌ও যথেষ্ট প্রাণবন্ত।”

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন,”প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বিশ্বে গণতন্ত্রের সর্ববৃহৎ উৎসব পালন করে থাকি আমরা। আমাদের দেশে প্রত্যেকেই তাঁদের খুশি মতো কথা বলতে পারে। ভারতীয় গণতন্ত্র সর্বদাই নিজেকে সংস্কার ও পরিমার্জিত করে চলেছে। আমাদের গণতন্ত্রের গতিপথ খুব চিত্তাকর্ষক।”

চিন নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পদ লাভ করলেও বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারত বঞ্চিত। ভারত এখন নিরাপত্তা পরিষদে দুই বছরের মেয়াদে অস্থায়ী সদস্যের দায়িত্ব পালন করছে। রুচিরা কম্বোজ জাতিসংঘে ভারতের প্রথম স্থায়ী নারী প্রতিনিধি, যাকে নিরাপত্তা পরিষদের অশ্ব ক্ষুরাকৃতি টেবিলে সভাপতির আসনে দেখা যাবে।

রুচিরা কম্বোজ: জাতিসংঘে ভারতের প্রথম নারী স্থায়ী প্রতিনিধি। ফটো- এএনআই-এর ট্যুইটার থেকে সংগৃহীত।

ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ও শক্তিশালী গণতন্ত্র বলেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোন‌ও বৃহৎ শক্তির চাপে নিজের অবস্থান বদলায় না। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়ার চাপ অগ্রাহ্য করেই ভারত জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা একাধিক প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থাকে। যদিও ভারত রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতা করে শান্তির পক্ষে জোরালো স‌ওয়াল করে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিষদে রুচিরা কম্বোজের জোরালো ভাষণ যথেষ্টই ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

Feature Image is collected and representational.


Leave a Reply

Your email address will not be published.