কলকাতা বন্দরে বাজেয়াপ্ত ২০০ কোটি টাকার হেরোইনের মালিক সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা! অভিযোগ রাজ্য বিজেপির


সন্দেশখালির তৃণমূল নেতার নাম শরিফুল ইসলাম মোল্লা। মাদক ব্যবসায় শরিফুলের বিনিয়োগের উৎস খুঁজে বের করার দাবি সুকান্ত মজুমদারের।

কলকাতা : বৃহস্পতিবার কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলের এক নেতার বিরুদ্ধে হেরোইন আমদানি করার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল রাজ্য বিজেপি। গত ৯ সেপ্টেম্বর কলকাতা বন্দরে অভিযান চালিয়ে ৪০ কেজি হেরোইন উদ্ধার করে গুজরাট পুলিশের এটিএস ও ডাইরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স। উদ্ধার হ‌ওয়া হেরোইনের মূল্য ২০০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। এই হেরোইন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার তৃণমূল নেতা শরিফুল ইসলাম মোল্লা এনেছিলেন বলে অভিযোগ করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। শরিফুল মোল্লার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নাম শরিফুল এন্টারপ্রাইজ। শরিফুল এন্টারপ্রাইজের নামেই বিপুল টাকার এই মাদক এসেছিল বলে অভিযোগ রাজ্য বিজেপির।

বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে পাচার হয়ে এই হেরোইন প্রথমে আসে পাকিস্তানের করাচি বন্দরে। করাচি থেকে হেরোইন যায় দুবাই বন্দরে। দুবাই থেকে এমভিএস‌এসএল-চেন্নাই নামের একটি জাহাজে করে ৪০ কেজি হেরোইন কলকাতা বন্দরে এসে পৌঁছায় বলে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি। কলকাতা বন্দর থেকে হেরোইন সুন্দরবনের সন্দেশখালির জোলিয়াখালি অঞ্চলে শরিফুল মোল্লার ডেঁড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে বিজেপি নেতার দাবি। একুশের মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিজয়ের পর হেরোইন বুক করা হয়েছিল বলে সুকান্ত-জগন্নাথ অভিযোগ এনেছেন। গিয়ার বক্সে লুকিয়ে কন্টেনার ভর্তি করে হেরোইন আনা হয়েছিল। আড়াই হাজার কিলোগ্রাম স্পেয়ার পার্টসের সঙ্গে হেরোইন আমদানি করা হয়েছিল বলে বিজেপির দাবি। মোট ৬০৫টি প্যাকেটে ৪০ কেজি মাদক ভরা ছিল।

মার্চে কলকাতা বন্দরে হেরোইন এসে পৌঁছালেও কেন তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্দরে‌র গোডাউনেই পড়ে থাকল? পলিউশন সার্টিফিকেটের সমস্যার কথা জানিয়ে মাল খালাস করতে বিলম্ব করতে থাকেন অভিযুক্ত শরিফুল মোল্লা- এমন‌ই দাবি করেছেন রাজ্য বিজেপির নেতারা। বিজেপির তরফে অভিযোগ, শরিফুল মোল্লা সক্রিয়ভাবে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত এবং সন্দেশখালি ১ ও ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি শিবু হাজরা ও শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ। কলকাতা বন্দরে ৪০ কেজি হেরোইন উদ্ধারের পর শরিফুলের সন্দেশখালির বাড়িতে বিএসএফ তল্লাশি চালালেও তাকে পায় নি। সুকান্ত মজুমদার ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের আশঙ্কা-শরিফুল বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। শরিফুলের মাদকের কারবারের সঙ্গে রাজ্যের দুই মন্ত্রীও জড়িত বলে তাঁদের অভিযোগ।

রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, রাজ্যে এর আগে কখনও একসাথে এত বিপুল টাকার হেরোইন ধরা পড়ে নি। শরিফুলের মাদক ব্যবসায় বিনিয়োগের উৎস কী, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সিবিআইয়ের থেকে রাজ্যের সিআইডি বেশি কার্যকর। সেই কারণে আমি চাইব, শরিফুল কোথায় আছে, তা খুঁজে বের করুক রাজ্য।” মাদক বোঝাই কন্টেনারটি বাজেয়াপ্ত হ‌ওয়ার পর শরিফুল ঘনিষ্ঠ সন্দেশখালি ব্লক-২ তৃণমূলের সভাপতি শেখ শাহজাহানের সঙ্গে রাজ্যের এক মন্ত্রীর ১৭-১৮ বার বৈঠক হয়েছে বলে বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন সুকান্ত মজুমদার। পলাতক শরিফুলের সঙ্গে তৃণমূলের দুই নেতার ফোনালাপের রেকর্ডিং তাদের হাতে আছে বলে‌ও দাবি করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। যদিও ইতিমধ্যেই বিজেপির যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। 

ভিডিও: বিজেপির সাংবাদিক সম্মেলন-


Leave a Reply

Your email address will not be published.