কুণাল কেন দল থেকে দূরে দূরে? - nagariknewz.com

কুণাল কেন দল থেকে দূরে দূরে?


তৃণমূল থেকে যেন খানিকটা তফাতে থাকছেন কুণাল ঘোষ। বিবেকের দংশন নাকি নেপথ্যে অন্য খেলার ঘুঁটি সাজাতে ব্যস্ত তিনি?

বিশেষ প্রতিবেদন: দলের সঙ্গে কি আর তেমন বনিবনা হচ্ছে না কুণাল ঘোষের? কুণাল কি তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে চাচ্ছেন? কুণাল কি অদূর ভবিষ্যতেই তৃণমূল ছাড়তে চলেছেন? এমন অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। আসলে কুণালকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে সাম্প্রতিক কান্ডকারখানা এবং সাম্প্রতিক সময়ে কুণালের নিজের তৎপরতাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মনে এইসব প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পেশায় সাংবাদিক কুণাল ঘোষ রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক এবং দলের মুখপাত্র। তবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলে হেফাজতে যেতেই সংবাদ মাধ্যমের সামনে প্রাক্তন সতীর্থকে ধুয়ে দেন কুণাল। কুণালের ‘পার্থস্তুতি’ ভালভাবে নেন নি দলের সিনিয়র নেতারা। দল কুণালকে সেন্সর করে। দলীয় ব্যাপারে কুণালকে মুখ খুলতে নিষেধ করা হয়। সেই সেন্সর এখনও উঠুক আর নাই উঠুক, এই ঘটনার পর থেকেই কুণাল কিন্তু দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। এখন জানা যাচ্ছে, গত দু’দিন ধরে দলের কোনও বৈঠকে যোগ দেন নি তিনি।‌ দলীয় পদ ব্যবহার করা নিয়েও নাকি আর তেমন গরজ দেখাচ্ছেন না কুণাল ঘোষ। দল তাঁর মুখে কুলুপ এঁটে দেওয়ার পর দুঁদে সাংবাদিক মিডিয়ার সামনে বলেছিলেন- তিনি গায়ে বোরোলিন মেখে চলেন, জীবনের ওঠাপড়া তাঁর গায়ে লাগে না। দলের ভেতর চাপে থাকলেও তিনি তার পরোয়া করেন না- বোরোলিনের বিজ্ঞাপণের ভাষা ধার করে কুণাল সেদিন ইঙ্গতে এটাই কি বোঝাতে চেয়েছিলেন?

কেউ কেউ বলছেন দলের ভেতরে কুণাল ঘোষ স্বস্তিতে নেই এবং দল‌ও কুণালকে নিয়ে স্বস্তিতে নেই। ইতিমধ্যেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রেসিডেন্সি জেলে ঢুকে পুরোনো হয়ে গেছেন। গরুপাচার মামলায় সিবিআইয়ের হাতে অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতার তৃণমূল কুণালকে সেন্সর করার পরের ঘটনা। পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অনুব্রত মণ্ডল- দু’জনের কার‌ও সঙ্গেই কুণাল ঘোষের সম্পর্ক ভাল নয়। তৃণমূলের খুব কম নেতার সঙ্গেই কুণাল ঘোষের মাখোমাখো সম্পর্ক। প্রকাশ্যে মুখ বন্ধ রাখলেও পার্থ-অনুব্রতকে নিয়ে দলের ভেতরে কুণাল ঘোষের যা দৃষ্টিভঙ্গি, তার সঙ্গে অধিকাংশ হেভিওয়েট নেতাই সহমত নয় বলে জানা গেছে। কুণাল ঘোষ চান, দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হ‌ওয়া এই ধরণের নেতাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিক দল। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পেছনে তৃণমূল না দাঁড়ালেও অনুব্রত মণ্ডলের পেছন থেকে যে দল‌ সরে যায় নি অনুব্রতের গ্রেফতার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ‌ই তার প্রমাণ। খোদ সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমের সামনে কেষ্টর হয়ে মুখ খুলেছেন। দিদি পাশে থাকায় জেলে বসেও বুকে বল পেয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল।

সারদা মামলায় প্রায় তিনবছর জেলের ঘানি টানতে হয়েছে কুণাল ঘোষকে। সুদীপ্ত-দেবযানীর মতোই কুণালকে‌ও গ্রেফতার করেছিল রাজ্য সরকার। সেই তিক্তস্মৃতি এখনও মন থেকে মুছে ফেলতে পারেন নি কুণাল ঘোষ। কুণাল মনে করেন দলের‌ই একাংশ তাঁকে ফাঁসিয়ে নিজেদের গা বাঁচিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়‌ও যে একজন একাধিকবার ঠারেঠোরে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন সাংবাদিক থেকে রাজনীতিবিদ হ‌ওয়া কুণাল ঘোষ। একের পর এক ঘোটালায় দলের শীর্ষ নেতাদের জড়িয়ে যাওয়া। এস‌এসসি-টেটের নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ। চাকরির দাবিতে ৫০০ দিনের‌ও বেশি সময় ধরে উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবকদের রাস্তায় বসে থাকা। চোখের সামনে এসব দেখে কুণাল কি দোটানায় পড়েছেন? সব দেখেশুনে সাংবাদিক কুণাল ঘোষের কি বিবেক দংশন হচ্ছে? তাই কি এই দুঁদে সাংবাদিক, এই দক্ষ সম্পাদক সচেতনভাবেই দলের কাজকর্ম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন?

পুজোর গান গান রেকর্ডিং করছেন কুণাল ঘোষ। রাজনীতির চেয়ে এখন গানআর খেলাতেই বেশি সময় দিচ্ছেন কুণাল।

নাকি অন্য পরিকল্পনার নেপথ্যে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন কুণাল ঘোষ? কলকাতার জায়গায় জায়গায় ‘নতুন তৃণমূলের’ ফ্লেক্স পড়েছে। আগামী ছয়মাসের মধ্যে নাকি নতুন তৃণমূলের অভ্যুদ্যয় হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে এমন‌ই জানান দিচ্ছে ফ্লেক্সে প্রচারিত বার্তা। নতুন তৃণমূলের বার্তা শারদীয়া বাতাসে ব‌ইতে শুরু করার সাথে সাথেই কি পুরোনো তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে লেগেছেন কুণাল? কুণালের অভিপ্রায় বুঝতে পেরেই কি তৃণমূল সুপ্রিমোও কুণাল‌কে সন্দেহের চোখে দেখছেন? কুণাল ঘোষের আপাত রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা এবং নতুন তৃণমূলের আগমণী বার্তা ছড়িয়ে পড়া- রহস্যের একটা গন্ধ তো রাজ্য রাজনীতির বাতাসে আছেই।

Feature image is representational. Photo credit-FB page of Kunal Ghosh.


Leave a Reply

Your email address will not be published.