সব স্কুলেই পড়ুয়াদের নীলসাদা ড্রেস! প্রতিবাদে জলপাইগুড়িতে পথে প্রাক্তনীরা


স্কুলের ইউনিফর্ম স্কুলের ঐতিহ্যের অঙ্গ। সরকারের নীলসাদা ফর্মান এই ঐতিহ্য নষ্ট করবে- আশঙ্কায় পথে ‘প্রাক্তনী সম্মিলনী’।

জলপাইগুড়ি :এখন থেকে বঙ্গে স্কুল ইউনিফর্মে আর কোনও বৈচিত্র্য থাকবে না। রাজ্য জুড়ে সরকারি এবং সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত সমস্ত স্কুলেই এইট পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের পোশাক হবে নীল-সাদা- সম্প্রতি এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করছে স্কুলশিক্ষা দফতর। বিশ্ব বাংলার লোগো যুক্ত এই ইউনিফর্ম স্কুলে স্কুলে বিনা মূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার‌ই।

সরকারি ঘোষণা কানে যেতেই হতভম্ব রাজ্যবাসী। গণহারে পড়ুয়াদের ইউনিফর্ম নীল-সাদা করার মানেটা ঠিক কী, তা জানতে চাইছেন অনেকেই। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রিয় রঙ নীলসাদা। তাই ছাত্রছাত্রীদের স্কুলড্রেসে বৈচিত্র্য তুলে দিয়ে নীলসাদায় রাঙিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। বিরোধীরা এর মধ্যে সঙ্কীর্ণ রাজনীতি দেখলেও‌ মানতে নারাজ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বিরোধীদের আপত্তিতে নাখোশ মুখ্যমন্ত্রী‌ও।

মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাই শেষ কথা। অত‌এব রাজ্য শুদ্ধ পড়ুয়াদের স্কুল ইউনিফর্ম ঢালাও নীল-সাদা করার কাজ শুরু করে দিয়েছে শিক্ষা দফতর। কিন্তু আপত্তি জানাচ্ছে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের একটি বড় অংশ। শনিবার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জলপাইগুড়িতে পথে নামল ” প্রাক্তনী সম্মিলনী”।

স্কুল ইউনিফর্ম স্কুলের ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। স্কুলের ইউনিফর্ম একটা নস্টালজিয়া‌ও।‌ স্কুলজীবনের স্মৃতি মানুষকে জীবনভর স্মৃতিমেদুর করে তোলে। এই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্কুলের পোশাক‌ও। স্কুলড্রেসে রঙের বৈচিত্র্য তুলে দিয়ে ঢালাও নীল-সাদা করলে স্কুল গুলির নিজস্ব ঐতিহ্য নষ্ট হবে বলে প্রাক্তনী সম্মিলনীর আশঙ্কা। জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রীরা মিলে সংগঠনটি তৈরি করেছেন। স্কুলগুলির ঐতিহ্য নাশকারী সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার বিকেলে শহরের সমাজপাড়া মোড় থেকে প্রাক্তনী সম্মিলনীর মিছিলটি বের হয়। মিছিল শেষে একটি পথসভাও অনুষ্ঠিত হয়।

রঙের আবেগ বাঁচাতে, রঙের স্মৃতি বাঁচাতে পথে প্রাক্তনীরা।

প্রাক্তনী সম্মিলনীর পক্ষে শিক্ষক শৌভিক কুন্ডা বলেন,” আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। যদি জলপাইগুড়ি শহরের স্কুলগুলির কথাই ধরি- শহরের একাধিক স্কুলের বয়স একশ, একশ পঁচিশ এমনকি দেড়শ‌ও । ছাত্রছাত্রীদের পোশাক স্কুলগুলির ঐতিহ্য। সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে এই ঐতিহ্যের উপর আঘাত আসছে। আমরা এটা মানব না।”

ভিডিও-

Photo & Video- Reporter.


Leave a Reply

Your email address will not be published.