পেশোয়ারের শিয়া মসজিদে হামলার ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে ৬২, আইসিস-কে’র দায় স্বীকার


কমপক্ষে এক ডজন সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠীর ঘাঁটি পাকিস্তান। নতুন আবির্ভাব কি আইসিস-খোরাশান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :পেশোয়ারের কিসসা খাওয়ানি বাজারের শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় মৃত্যু বেড়ে বাষট্টি। দুশোর‌ও বেশি আহত। অনেকেরই অবস্থা ভাল নয়। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের চিকিৎসকদের আশঙ্কা। শনিবার দুপুরে জুম্মার নামাজের সময় মসজিদটির ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটে। দু’জন জঙ্গি হামলা চালায়। মসজিদের প্রবেশপথে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক জঙ্গির মৃত্যু হলেও অপরজন ভেতরে পৌঁছে শরীরে লুকিয়ে রাখা বোমায় বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনায় এক পুলিশের‌ও মৃত্যু হয়েছে।

পেশোয়ারের মসজিদে বোমা হামলায় মৃত বেড়ে বাষট্টি।

রাতের দিকে ইসলামিক স্টেট ঘটনার দায় স্বীকার করে নিজেদের সাইটে বিবৃতি দেয়। “আমাদের যোদ্ধারা আজ পেশোয়ারের একটি শিয়া মসজিদে সফল অভিযান চালিয়েছে”- নিজেদের প্রচার সাইটে এই মর্মে ঘোষণা দেয় আইএস। আইএসের এই শাখাটিকে বলা হয় ইসলামিক স্টেট- খোরাশান বা আইসিস-কে। আফগানিস্তানের খোরাশান প্রদেশকে ঘাঁটি করে এরা তৎপরতা চালায়। আফগানিস্তানে ফের তালিবানদের জামানা ফিরে এসেছে। যদিও তালিবানের সঙ্গে আইসিস-কে’র বনিবনা নেই। তালিবান এবং আইসিসি – উভয়েই কট্টর সুন্নি। তবে আইসিস-খোরাশানকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলেই মনে করে তালিবান সরকার।

পাকিস্তান এখন তালিবান এবং ইসলামিক স্টেটের সাঁড়াশি চাপে। ইতিমধ্যেই সীমানা নিয়ে তালিবান সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানের সংঘাত শুরু হয়ে গিয়েছে। বার কয়েক গোলাগুলি‌ও চলেছে পাক-আফগান সীমান্তে। আইসিস-খোরাশান গোষ্ঠীর‌ও নজর পড়েছে পাকিস্তানের উপর। পাকিস্তান এমনিতেই কয়েক ডজন সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিচরণক্ষেত্র। আইসিস আত্মঘাতী হামলার জন্য কুখ্যাত। ইরাক ও সিরিয়ায় আইসিসের মূল সংগঠন ছত্রভঙ্গ। আইসিস-খোরাশানের সঙ্গে আইসিসের কতটুকু যোগাযোগ আছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। খুব সম্ভবত এরা খিলাফত কায়েমের প্রশ্নে ইসলামিক স্টেটের অনুসারী।

এতদিন পর্যন্ত আইসিস-খোরাশানকে নিয়ে অনেক অনেক ভাসা ভাসা তথ্য সামনে এলেও এদের নাম করে পাকিস্তানে হামলার ঘটনা এই প্রথম। পেশোয়ারের মসজিদে আত্মঘাতী হামলা দিয়ে পাকিস্তানে আইসিস-এর কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। ইমরান খানের দেশে শিয়া মুসলমানদের অবস্থা কুরবানীর বকরির থেকেও খারাপ। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে শিয়া-সুন্নি সংঘর্ষে ১০ হাজার শিয়ার মৃত্যু হয়েছে। শিয়া বিরোধী একাধিক সুন্নি মৌলবাদী সংগঠন রয়েছে পাকিস্তানে। এরা শিয়াদের মুসলমান পরিচয় মানতেও নারাজ। পেশোয়ারে আত্মঘাতী হামলার তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তানের পুলিশ। তদন্ত শুরু হ‌ওয়ার আগেই ঘটনার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিল ইসলামিক স্টেট।

Photo Credit- Dawn/ AP.


Leave a Reply

Your email address will not be published.