উট উদ্ধারের এত জ্বালা! আগে যদি জানতো পুলিশ - nagariknewz.com

উট উদ্ধারের এত জ্বালা! আগে যদি জানতো পুলিশ


১০ ফেব্রুয়ারি রাতে জাতীয় সড়কের উপর দুটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ১২টি উট উদ্ধার করেছিল জলপাইগুড়ি কোতয়ালি থানার পুলিশ। তারপর থেকে পুলিশের প্রাণে আর শান্তি নাই। এর উপর আবার ১৩ দিনের মাথায় উটের সংখ্যা বারো থেকে বেড়ে দাঁড়াল তেরো!

জলপাইগুড়ি :উট উদ্ধার করে এমন ফ্যাসাদে পড়তে হবে জানলে হয়তো উটের ধারেকাছেও ঘেঁষতো না জলপাইগুড়ি কোতয়ালি থানার পুলিশ। কিন্তু পুলিশ হলেও তো মানুষ। আর মানুষ মাত্রের‌ই কপাল আছে। আর কপালের লিখনে যদি লাঞ্ছনা থাকে তবে তা খন্ডায় কে!

গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে শহর সংলগ্ন জাতীয় সড়কে অসম গামী দুটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ১২টি উট বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। উট পাচারের অভিযোগে দুই চালক সহ ছয়জনকে হাজতে ঢোকানো হয়। সেই থেকে উটের পাচারকারীরা নয় জলপাইগুড়ি পুলিশ প্রশাসনের গলায় কাঁটা হয়ে ঝুলছে বারোটি উট।

উদ্ধার হওয়া বারোটি উটের শেষ পর্যন্ত স্থান হয়েছে পুলিশ লাইনের মাঠে।

উট হেফাজতে নেওয়ার পর থেকে চোখে সর্ষেফুল দেখতে শুরু করেন পুলিশকর্মীরা। আর চোখে সর্ষেফুল দেখতে থাকলে কার মাথা ঠিক থাকে। ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ রাতে দুই গাড়ি উট নিয়ে পুলিশ সোজা হাজির হয় গিয়ে শহরের শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব জে‌ওয়াইএম‌এ-র খেলার মাঠে।‌ উট বোঝাই এক জোড়া ভারী গাড়ির বিশখানা চাকায় মাঠের দফারফা। ভোরের আলো ফুটতেই শহর জুড়ে চিল্লাফাল্লা। ডিএস‌এ সহ সমস্ত ক্রীড়া সংগঠনের ‍তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিশকে।

চাপের মুখে ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে এক ডজন উট নিয়ে পুলিশ ছুটল নিজেদের আখড়া অর্থাৎ পুলিশ লাইনের মাঠে। উটের স্থান তো হল এখন কৃষ্ণের জীবদের খোরাকি জোগায় কে। বারোটা উটের মুখে খোরাকি জোটানোর চিন্তায় পুলিশ কর্তাদের নাওয়া-খাওয়া বন্ধের উপক্রম। উট নিতান্তই নিরীহ জীব হলেও বপু নেহাত কম নয়। খোরাক হাতির কাছাকাছি না হলেও মন্দ নয়। তায় মরুভূমির জীব। তাদের কীসে রুচি কীসে অরুচি তাও বাংলার পুলিশের পক্ষে চট করে বোঝা সম্ভব নয়। একে বলা নেই ক‌ওয়া নেই উট খেলার মাঠে নামিয়ে পুলিশের মুখ পোড়ে। তার উপর মামলা যখন কোর্টে ওঠে তখন সব শুনে ঠ্যালা দিতে ছাড়লেন না বিচারক‌ও।

বুধবার গর্ভবতী উটটি একটি শাবকের জন্ম দেয়।

প্রত্যেকটি উটের দেখভাল, খাওয়া-পড়া, যত্ন‌আত্তির দায়িত্ব পুলিশকেই ‌নিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে জেলা আদালত। উটগুলি নাকি রাজস্থান থেকে চুরি করে এনে ত্রিপুরা হয়ে বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। মরুরাজ্যের উট আবার মরুরাজ্য‌ই সহিসালামত ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। বারোটি উটের মধ্যে একটি ছিল গর্ভবতী। সেই উটজননী বুধবার সকালে পুলিশ লাইনের মাঠে একটি শাবকের ‌জন্ম দিয়েছে। নতুন প্রাণের আবির্ভাব সব সময়‌ই আনন্দের। কিন্তু ডবল টেনশনে পুলিশের মাথা ঠিক নেই। একে কোর্টের নির্দেশ তায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অভিযোগ- উটগুলিকে ঠিকমতো খাবারদাবার দেওয়া হচ্ছে না।

এই অবস্থায় প্রসূতি উট এবং তার সদ্যজাতের উনিশবিশ কিছু হয়ে গেলে আবার কোন ঝামেলায় পড়তে হয় এই দুশ্চিন্তায় দু’চোখের পাতা এক করতে পারছেন না জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের কর্তারা। উটের বোঝা কাঁধে নিয়ে ১৩ দিন ধরে দুঃখে আঙুল কামরাচ্ছে পুলিশ। এখন দুগ্গা দুগ্গা বলে মা ও বাচ্চা সহ তেরোটি উট রাজস্থানে র‌ওনা করিয়ে দিতে পারলে স্বস্তি তাদের। উট হেফাজতে নেওয়ার কী জ্বালা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মানুষের আইন রক্ষকেরা।

ভিডিওতেও দেখুন-

Photo and Video- Reporter.


Leave a Reply

Your email address will not be published.