নিভল প্রাণের প্রদীপ, অনন্তলোকে গানের পাখি ‘ নাইটিঙ্গেল অব ইন্ডিয়া’


সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের জীবনাবসান। রবিবার সকাল ন’টা নাগাদ মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি এই সঙ্গীত শিল্পী। মৃত্যু কালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।‌ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে লতাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় কোভিড পজিটিভ এসেছিল। নিউমোনিয়ার উপসর্গ‌ও দেখা দেয়। আইসিইউতে ভর্তি করার পর ধীরে ধীরে লতার স্বাস্থ্যের উন্নতির খবর আসছিল। গত২৮ জানুয়ারি তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করে আনেন চিকিৎসকেরা। এই খবরে দেশবাসীর মনে আশার সঞ্চারিত হয়েছিল, বুঝি সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরবেন সুর সম্রাজ্ঞী।

কিন্তু শনিবার থেকে ফের দ্রুত অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে লতা মঙ্গেশকরের। ফের আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয় তাঁকে। রবিবার সকালে সব শেষ। চিকিৎসদের সমস্ত চেষ্টা, গুণমুগ্ধ দেশবাসীর সকল প্রার্থনাকে বিফল করে দিয়ে অমৃতলোকে যাত্রা করলেন ভারতীয় সুর ও সংগীত জগতের বিস্ময়কর প্রতিভা।

নিভল প্রাণের প্রদীপ। সমাপ্তি ইতিহাসের।

১৯২৯-এর ২৮ সেপ্টেম্বর ইন্দোরে  লতার জন্ম। বাবা  মারাঠা সঙ্গীত শিল্পী ও নাট্যকার দীননাথ মঙ্গেশকর। গান-বাজনার পরিবেশেই বড় হয়ে ওঠা। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই একটি মারাঠি চলচ্চিত্রের জন্য প্লে ব্যাকে কন্ঠ দিয়েছিলেন লতা। ১৯৪৫ থেকে পাকাপাকি মুম্বাইয়ে বাস করতে শুরু করেন লতা মঙ্গেশকর। নিজের মাতৃভাষা মারাঠি এবং হিন্দি সহ ৩৬টি ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছেন এই অবিস্মরণীয় শিল্পী। তাঁর কন্ঠের জাদুতে মুগ্ধ দেশবাসী তাঁর নাম দিয়েছিল ‘ নাইটিঙ্গেল অব ইন্ডিয়া’। ১৯৬৯-এ পেয়েছেন পদ্মভূষণ। ৯৯-এ পদ্মবিভূষণ। ২০০১-এ লতাকে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ প্রদান করে সরকার। ২০০৯-এ পেয়েছেন ফ্রান্সের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান  ‘লিজিয়ন অব অনার’ (লেজিওঁ দনর)।

সুর সাধিকা দুই বোন লতা ও আশা।

লতা মঙ্গেশকরের ছোটবোন আশা ভোঁসলে। ভারতীয় সঙ্গীত জগতের আরেক বিস্ময় আশা।  মুম্বাইয়ের প্লেব্যাক সঙ্গীত জগতে নারী কন্ঠে মঙ্গেশকর বোনেদের উচ্চতা স্পর্শ করার সাধ্য মনে হয় না আর কারও কোনও দিন হবে। লতা মঙ্গেশকরের নশ্বর দেহ মিলিয়ে যাবে। কিন্তু তাঁর কন্ঠকে গ্রাস করার জন্য বহু বহু বহু যুগ অপেক্ষা করতে হবে কালকে। ভারতীয় সুর ও সঙ্গীতের জগতে জীবন্ত‌ই থাকবে লতা মঙ্গেশকরের আওয়াজ।

Photo Sources- Twitter and others.


Leave a Reply

Your email address will not be published.