উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার বরাতে দুই রাষ্ট্রমন্ত্রী , চারবার জিতেও মন্ত্রীত্ব থেকে বঞ্চিত খগেশ্বর রায় !


জলপাইগুড়ি ,১০ মে ,২০২১ : তৃতীয় তৃণমূল মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ থেকে পূর্ণমন্ত্রী মাত্র দুই । দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর থেকে জিতে আসা বিপ্লব মিত্র পেয়েছেন কৃষি বিপণন দফতরের দায়িত্ব । গোয়ালপোখর আসনের তৃণমূল বিধায়ক মহম্মদ গোলাম রাব্বানিকে করা হয়েছে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের পূর্ণমন্ত্রী । মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দলবদলু পরেশ অধিকারী বাম জামানায় ছিলেন পুরোদস্তুর ক্যাবিনেট মন্ত্রী। ফর‌ওয়ার্ড ব্লকের বিধায়ক হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে খাদ্য দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি । ২০১৬ তে অর্ঘ্য রায় প্রধানের কাছে হেরে ২০১৮ র আগষ্টে ফর‌ওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন পরেশ অধিকারী । তৃণমূলে যোগদানের পরেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে স্কুল সার্ভিস কমিশনে শিক্ষক নিয়োগের ওয়েটিং লিস্টে পরেশ অধিকারীর কন্যার নাম প্রথমে এনে তাঁকে চাকরি দেওয়া হয়েছে – এই অভিযোগে তোলপাড় হয় রাজ্য ।এবার নিজের পুরোনো আসন পুনরুদ্ধার করে বিধানসভায় ফিরতেই পরেশবাবুকে রাজ্য মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তবে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো পরেশের বরাতে এবার জুটল রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব । যেই শিক্ষা নিয়ে অভিযোগ সেই স্কুল শিক্ষা দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রীই করা হয়েছে পরেশ অধিকারীকে । পূর্ণমন্ত্রী থেকে রাষ্ট্রমন্ত্রীতে নেমে যাওয়ার নজির রাজ্য রাজনীতিতে সম্ভবত এটাই প্রথম  

উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা থেকে দুই রাষ্ট্রমন্ত্রী : পরেশ অধিকারী ও বুলু চিকবড়াইক ।

এবারের নির্বাচনে রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের জয়জয়াকারের মধ্যে উত্তরবঙ্গের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীর পরাজয়ের পরিণাম বেশ ভালোই টের পাওয়া যাচ্ছে তৃতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ক্যাবিনেটে । দ্বিতীয় তৃণমূল সরকারের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে হেরে গেছেন । ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে পরাস্ত হয়েছেন গৌতম দেব , যিনি মমতার দ্বিতীয় সরকারে পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন । পর পর দু’বার উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব উত্তরবঙ্গ থেকে জিতে আসা দুই বিধায়ক সামলালেও এবার পুরো দফতরটাই নিজের হাতে রেখে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । এখন থেকে পার্বত্য বিষয়ক দফতরের পাশাপাশি গোটা উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের দায়িত্ব‌ও‌ নবান্নে বসে একাই সামলাবেন মমতা । 

পরপর চারবার জিতেও মন্ত্রীত্ব থেকে বঞ্চিত খগেশ্বর রায় !

হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় তৃণমূলের ফল আশানুরূপ নয়। ২৭টি আসনের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে ঘাসফুল ফুটেছে । একটি মোর্চার দখলে । লোকসভার তুলনায় অনেক ভালো ফল করে জলপাইগুড়ি জেলা থেকে তিন’জনকে বিধানসভায় প্রেরণ করতে সমর্থ হয়েছে তৃণমূল । হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা আসনে মাত্র ৯৪১ ভোটে বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন চিকিৎসক ডঃ প্রদীপকুমার বর্মা । জলপাইগুড়ি জেলার সবথেকে উল্লেখযোগ্য জয় রাজগঞ্জ আসনে খগেশ্বর রায়ের । এই নিয়ে পরপর চারবার জয়ের রেকর্ড করলেন রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ খগেশ্বরবাবু । উত্তরবঙ্গ থেকে নির্বাচিত তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক তিনি । ১৫৭৭৩ ভোটের বড় মার্জিনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে চতুর্থ বারের মতো বিধানসভায় পা রাখতে পারলেও মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সৌভাগ্য হল না খগেশ্বর রায়ের । জেলা থেকে মালের আদিবাসী বিধায়ক বুলু চিকবড়াইকের অবশ্য মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়েছে । তাঁকে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । 

রাজগঞ্জ থেকে চারবারের বিজয়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় অথবা জলপাইগুড়ি সদর থেকে বিজয়ী ডঃ প্রদীপকুমার বর্মার মধ্যে কোন‌ও একজন রাজ্য মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন দোসরা মে রাত থেকেই এমন জল্পনা তৈরি হয়েছিল স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে । দীর্ঘদিন মন্ত্রী থেকে বঞ্চিত উত্তরবঙ্গের বিভাগীয় সদর জলপাইগুড়ি । এই প্রথম সদর বিধানসভা তৃণমূলের ‌দখলে এল । তাই পুরস্কারের একটা প্রত্যাশা তো ছিলই শাসকদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে । খগেশ্বর রায়ের ক্ষেত্রে প্রত্যাশার মাত্রা ছিল আরও চড়া । চারবারের জেতা বিধায়ককে দিদি মন্ত্রী বানাবেন‌ই এমন আশায় বুক বেঁধে বসেছিলেন খগেশ্বরবাবুর অনুগামীরা । রবিবার রাতে ভাবি রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশ পেতেই জলপাইগুড়ি ও রাজগঞ্জের তৃণমূল শিবিরে শুরু হয়ে যায় আশাভঙ্গের বেদনা । 


Picture sources – Archives 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *