এবার জোর খাটিয়ে ভোট করা যাবে না – কোচবিহার থেকে হুঁশিয়ারি অমিত শাহের , মমতাকে ‘ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী ‘ বলে কটাক্ষ করলেন শাহ


এন এন ডি সি পলিটিক্যাল ডেস্ক : কোচবিহারের মাটিতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী বলে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবর্তন যাত্রার সূচনার পর রাসমেলার মাঠে বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশ্যে অমিত শাহ বলেন, ‘ এবারের ভোটে লড়াই মোদীর বিকাশ মডেলের সঙ্গে মমতার বিনাশ মডেলের । দুটোর মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে বাংলার মানুষকে । ‘ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকেই ক্ষমতায় আনবে বলে আত্মবিশ্বাসী শাহ । বাংলার নির্বাচন ঘিরে একটা ভয়ের বাতাবরণ সবসময়ই থাকে । এইবার ভোটে কোন‌ও জবরদস্তি বরদাস্ত করা হবে না বলে কোচবিহার থেকে বেশ জোরেসোরেই জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । 

নিজের ভাষণে একাধিক বার বাংলায় ভোট ঘিরে সন্ত্রাস ও অশান্তির বিষয়টি টেনে এনে অমিত শাহ বুঝিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কতটা সিরিয়াস । মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ আপনি কি ভেবেছেন ভোটের দিন গুন্ডাদের দিয়ে ভোটারদের হয়রানি করে আপনি জিতে যাবেন ? এবার বিজেপির বুথকর্মীরা পূর্ণশক্তি নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে হাজির । এবারে বাংলার ভোট ঐতিহাসিক হতে চলেছে। মমতাদিদির দাঙ্গাবাজদের সঙ্গে লড়াই করে এবারে জিতবেন আমাদের দলের কর্মীরাই । ‘ এরপরেই অমিত শাহ হুঙ্কার দিয়ে ওঠেন, ‘ কিসি মাইকে লাল কা হিম্মত নেহি আয় কি চুনাও কো প্রভাবিত করে । ‘ এই হুঁশিয়ারির মধ্য দিয়ে অমিত‌ শাহ কি বোঝাতে চেয়েছেন যে এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে কেন্দ্র থেকে বাহিনী সরবরাহে কোন‌ও কার্পণ্য করা হবে না ? অন্ততঃ এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল । 

কোচবিহারে াসমেলর মাঠে জনসভায় ভাষণ দি্েন অমিত শাহ

বৃহস্পতিবার বাংলা সফরে এসে উত্তরে ভূমিপুত্র রাজবংশী জনগোষ্ঠী এবং দক্ষিণে উদ্বাস্তু মতুয়া সম্প্রদায়ের মন জয় করার তাগিদ ছিল অমিত শাহর । দুটোতেই আপাতত শাহ সফল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এদিন কোচবিহারে রাসমেলার মাঠ উপচে পড়েছিল মানুষের ভিড়ে । ভিড়ের একটি বড় অংশ ছিলেন অনন্ত রায় গোষ্ঠীর গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য-সমর্থকেরা । রাজবংশী সমাজের দীর্ঘ দিনের দাবি মেনে এদিন আধাসামরিক বাহিনীতে ‘নারায়ণী ব্যাটেলিয়ন ‘ গঠনের কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । আধাসামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম বীর চিলা রায়ের নামে রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি । পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হ‌ওয়া মাত্র‌ই রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভাষা , সাহিত্য , শিল্প-সংস্কৃতি রক্ষায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । রাজবংশী সমাজে নবজাগরণের পথিকৃৎ রায়সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার জন্মস্থানে আড়াইশো কোটি টাকা খরচ ব্যয়ে স্মারকস্থল নির্মাণের পাশাপাশি পঞ্চানন বর্মার একটি সুবিশাল মূর্তিও স্থাপন করা হবে বলে জানান অমিত শাহ ।

ভাষণের শুরুতেই রাজবংশী সমাজের কৃষ্টি , সংস্কৃতি , ঐতিহ্য ও বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । অমিত শাহ আক্ষেপ করে বলেন, ‘ এই সেই ভূমি যেখানে বীরেরা মুঘলদের বিজয়রথ আটকে দিয়েছিল , এই সেই ভূমি যেখানে বীর চিলা রায়ের বীরগাঁথা রচিত হয়েছিল আজ সেই ভূমিতেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গেছে । নারায়ণী সেনার অসামান্য বীরত্বের কথা বলতে গিয়ে শাহ বলেন, ‘ গুজরাট থেকে বাংলা তো ছেড়েই দিন মুঘলদের পর্যন্ত দিনে তারা গুনিয়ে ছেড়েছিল চিলা রায়ের নারায়ণী সেনা । ‘ 

সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা ‌ও নিরাপত্তার জন্য চিন্তার কারণ বলে স্বীকার করে নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার থাকলে অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে না বলে অভিযোগ করেন তিনি । পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হলে সীমান্ত দিয়ে বেআইনীভাবে মানুষ তো দূরের কথা একটা পাখি পর্যন্ত ঢুকতে পারবে না বলে জনতাকে আশ্বাস দেন অমিত শাহ । 

কোচবহারে শাহি সভায় ভিড় ছিল উপচে পড়া

জয় শ্রীরাম নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিতে ছাড়েন নি অমিত শাহ । শাহ বলেন, ‘ বাংলায় মমতাদিদি এমন পরিবেশ বানিয়ে দিয়েছেন যেন জয় শ্রী রাম বলা মানে অপরাধ । বাংলায় জয় শ্রী রাম বলব না তো কি পাকিস্তানে বলব ? ‘ কটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাঙ্ককে তুষ্ট রাখতেই মমতা রাম নামে রুষ্ট – এমন অভিযোগ আনতেও দেরি করেন নি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । অমিত শাহ বলেন, ‘ শ্রীরামকে স্মরণ করে দেশের কোটি কোটি মানুষ গৌরব বোধ করেন । মমতাদিদি রাম নাম মুখে আনতে আপনার অসুবিধা হয় । কারণ, একটি গোষ্ঠীকে তুষ্ট করে তাদের ভোটটি আপনার দরকার ।’ এর পরেই অমিত শাহ জুড়ে দেন , ‘ যারা জয় শ্রী রাম বলে তাদের ভোটের কি দাম নেই ? আমি আপনাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করছি ভোট শেষ হোক মমতা দিদিও জয় শ্রী রাম বলবেন । ‘ 

সব দেখে রাজনৈতিক মহল বলছে , বৃহস্পতিবার কোচবিহারের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজবংশী ভাবাবেগ থেকে অনুপ্রবেশ , উন্নয়ন থেকে আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের শঙ্কা – সবকটি তাস‌ খেলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টেক্কা দিতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেন নি চাণক্য অমিত শাহ । এখন দেখার জবাবে আস্তিন থেকে কোন কোন তাস বের করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভিডিওতে দেখুন –



Leave a Reply

Your email address will not be published.