পলিটিক্যাল ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার এবং কর্নাটক— এই চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে ইন্ডি জোট কিন্তু সুবিধা করতে পারল না। আর জোটের মাথা কংগ্রেসের অবস্থা তো শোচনীয়। চার রাজ্যে সব মিলিয়ে ২৮ টি আসনে ভোট হয়েছে। বুধবার গণনা শেষে দেখা গেল কংগ্রেসের ঝুলিতে মাত্র একটি আসন! রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদর দফতর মহারাষ্ট্রের নাগপুর আসনটি কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারলেও ক্ষমতাসীন কর্নাটক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। কর্নাটকে বিধান পরিষদের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতেই জিতেছে বিজেপি, একটি গিয়েছে বিজেপির জোটসঙ্গী জেডিএস-এর দখলে।
পক্ষান্তরে বিজেপির জন্য চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফল যথেষ্টই স্বস্তিদায়ক। ২৮-টির মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছে ১৩টি আসন, জোটসঙ্গীরা আরও তিনটি। মোট ১৬টি এনডিএ-র দখলে। বিধান পরিষদের ফল নিয়ে কংগ্রেসকে বিদ্রূপ করতে ছাড়েন নি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিরোধীদের বড় অভিযোগ— ইভিএম হ্যাক করে জিতে বিজেপি। ইভিএম বাতিল করে ব্যালটে ফিরে যাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের উপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে ইন্ডি জোট। এই পরিস্থিতিতে বিধান পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের শোচনীয় ফল বিজেপিকে বলার সুযোগ করে দিয়েছে। বিধান পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ব্যালট পেপারে হয়ে থাকে।
নিজেদের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধীকে ধুয়ে দিচ্ছেন বিজেপির নেতারা। চুপ থাকলেন না মোদীও। তিনি লিখলেন, “চার রাজ্যের ২৮ আসনে বিধান পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। ব্যালট পেপারেই ভোট হয়েছে, বলুন তো কংগ্রেস কটা আসনে জিতল?” কংগ্রেসকে আতসকাচ দিয়ে খুঁজতে হচ্ছে, এটা বোঝাতে চোখে আতচকাচ ধরা একটি ইমোজিও সেঁটে দিয়েছেন মোদী।
এসআইআর নিয়ে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে দেশ জুড়ে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধীরা। রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি মাঝে মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। কিন্তু জনগণ কি মোদীর থেকে মুখ ফিরিয়েছেন? চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফল সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বরং রাহুলের জন্য এই ফল বড় ধাক্কা। ক্ষমতায় থাকা রাজ্য কর্নাটকে কংগ্রেস চারে শূন্য। ২০২৮-এ কর্নাটকে বিধানসভা নির্বাচন। কোনও সন্দেহ নেই, বিধান পরিষদের ফল বিজপিকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে।

উত্তরপ্রদেশ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে খানিকটা উদ্বিগ্ন বিজেপি নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দ্রুত জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন বলে মিডিয়ার একাংশের ইঙ্গিত। কিন্তু বিধান পরিষদের নির্বাচনের ফলে যোগীর জনপ্রিয়তায় ভাঁটার কোনও আভাস নেই। ১১টি আসনের মধ্যে ৬টিই জিতে নিয়েছে বিজেপি। অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি ৫টি আসনে জয়লাভ করেছে। কংগ্রেস শূন্য। তবে মোদীর বারাণসীতে সমাজবাদীর বিজয় বিজেপিকে একটু চিন্তায় রাখবে। কংগ্রেস ইউপিতে খাতায় খুলতে পারে নি। সাতাশে উত্তরপ্রদেশেও বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু কংগ্রেসের পালে হাওয়া কই! এরপরেও আসন ভাগাভাগির সময় রাহুলের আবদারকে গুরুত্ব দেবেন অখিলেশ? মনে হয় না।
বিহারে বিধান পরিষদের আটটি আসনের মধ্যে বিজেপি ৩টি, জোটসঙ্গী জেডিইউ একটি আসন জিতেছে। ইন্ডি জোটের শরিক তেজস্বী যাদবের আরজেডি একটি আসন জিতেছে। প্রশান্ত কিশোরের জনসুরাজ একটিতে বিজয়ী হয়েছে। নির্দলেরা জয়লাভ করেছেন দু’টি আসনে। তুলনায় এনডিএ-র খারাপ ফল হয়েছে মহারাষ্ট্রে। পাঁচটি আসনের মধ্যে বিজেপি এবং জোটসঙ্গী শিন্দে সেনা একটি করে আসন জিতেছে। এনসিপি (শরদ) জিতেছে দু’টি আসন ও কংগ্রেস জয়লাভ করেছে একটিতে।
নাগপুর আসনটি কংগ্রেস জেতায় শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর মুখরক্ষা হয়েছে বলা যায়। নাগপুর সংঘের সদর দফতর এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের শক্ত ঘাঁটি। ৪০ ঘন্টার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে নাগপুরে বিজেপির সুধাকর কোহালেকে ৩,২৭১ ভোটে পরাজিত করেন অভিজিৎ ওয়াংজারি। ২০২০ সালেও নাগপুরে বিজয়ী হয়েছিলেন অভিজিৎ। আসনটি দল ধরে রেখেছে, জানতে পেরেই কংগ্রেস নেতা পবন খেরা মোদীকে পাল্টা কটাক্ষ করে সমাজমাধ্যমে লেখেন— “আর তারপর… মোদী সাহেব নিজের লোকসভা কেন্দ্রেরই বিধান পরিষদ আসন হারালেন। শুধু তাই নয়, নাগপুরেও বিজেপি হেরে গেল। বলুন তো, নাগপুরে কারা জিতল?”
Feature graphic is representational and AI generated.