মা লক্ষ্মীর আরাধনায় বাঙালি ত্রুটি করে না। কিন্তু মা লক্ষ্মীর কৃপা বাঙালির বরাতে অকৃপণভাবে বর্ষিত হয় নি। ইতিহাস প্রমাণ দেয়, একদা বাঙালির উপর লক্ষ্মী যথেষ্টই প্রসন্না ছিলেন। কিন্তু বঙ্গসন্তানদের কৃতকর্মের ফলেই দেবী তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছেন।
যে উদ্যমী, উদ্যোগী ও পরিশ্রমী— মা লক্ষ্মী তাকেই কৃপা করেন। যে অলস, উদ্যমহীন ও কলহপরায়ণ— তার ঘর থেকে লক্ষ্মী নিষ্ক্রমণ করেন। যে’দিন থেকে বাঙালি বাণিজ্যকে অবহেলা করে সাহেবের সওদাগর আপিসের চাকরির পেছনে ছুটল, সেদিন থেকেই দেবী লক্ষ্মী বাঙালিকে ছেড়ে চলে গেছেন। মা লক্ষ্মী চাঁদ বেনেকে ভালবাসেন, হরিপদ কেরানিকে নয়।
গত ৮০ বছরে বাঙালি জাতির উপর একটা মহাবিপর্যয় গেছে, এ কথা সত্য। কিন্তু জগতে কোন জাতির উপর কালের ঝঞ্ঝা যায় না! অক্ষমের ক্রন্দনকে বিধাতাও উপহাস করেন। বাণিজ্যবিমুখতা যে বাঙালির পতনের একটা বড় কারণ, এতে কোনও সন্দেহ নেই। বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় শুধু ল্যাবরেটরি আর ক্লাসরুমে আটকে থাকেন নি। সরস্বতীর আলয় ছেড়ে বেরিয়ে আচার্যদেব নিজে লক্ষ্মীর সেবায় মেতেছিলেন। কেন মেতেছিলেন? স্বজাতির চোখ খুলে দেবেন বলেই ব্যবসায় মেতেছিলেন তিনি।
আচার্য পিসি রায়ের শিক্ষা বাঙালি গ্রহণ করে নি। এ নিয়ে আচার্যের মনে স্বজাতির প্রতি অভিমান ছিল কিন্তু আমৃত্যু বাঙালির মঙ্গলসাধন থেকে নিবৃত্ত হন নি। লক্ষ্মী মানে শ্রী। শ্রীবৃদ্ধি চাইলে সাধনই একমাত্র রাস্তা। সময় গেলে সাধন হয় না।
সকলকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর শুভেচ্ছা…