গোলদাতা — ইস্টবেঙ্গল: দানি রামিরেজ (৮’), পিভি বিষ্ণু (১৬’), আকে লোবা (২২’, ৩৫’), লুকাস জ্বলিনস্কি (৮১’)
গোলদাতা — ইন্টার কাশী: লালচুংনুঙ্গা-আত্মঘাতী (২৮’)
স্পোর্টস ডেস্ক: মরশুমের প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারানোর পর এ বার ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে আরও একটি বড় জয় তুলে নিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুনের বালেওয়াড়ি স্টেডিয়ামের মাঠে কলকাতার ইস্টবেঙ্গলের গোলের ঝড়! আইএসএলে দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়ে ইন্টার কাশীকে ৫-১ গোলে হারাল ইস্টবেঙ্গল। পরপর দুই ম্যাচে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়ে খেতাব ধরে রাখার অভিযানে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল অ্যান্টোনিও লোপেজ হাবাসের দল।
শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় লাল-হলুদের
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় ইস্টবেঙ্গলকে। প্রতিপক্ষকে নিজেদের ছন্দে খেলার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে আসে লাল-হলুদ। মাত্র আট মিনিটের মাথায় দানি রামিরেজের গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। আকে লোবার পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।

এর পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। ১৬ মিনিটে পিভি বিষ্ণুর গোলে ব্যবধান বেড়ে হয় ২-০। আবারও গোলের নেপথ্যে আকে লোবার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। প্রতিপক্ষের রক্ষণকে কার্যত দিশেহারা করে দিয়ে ২২ মিনিটে নিজেই গোল করেন লোবা। ম্যাচের মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।
গোলের জবাব গোলেই, কিন্তু থামানো গেল না ইস্টবেঙ্গলকে
তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে ইন্টার কাশী।খেলার ২৮ মিনিটের মাথায় লালরিনডিয়ানার ক্রশ বার করতে গিয়ে নিজেদের গোলেই বল ঢুকিয়ে দেন ইস্টবেঙ্গলের লালচুংনুঙ্গা। লাল-হলুদ শিবিরের করা আত্মঘাতী গোলের সুবাদে একটি গোল শোধ করে ইন্টার কাশী। কিছুটা হলেও ম্যাচে ফেরার আশা তৈরি হয় কাশী শিবিরে।
কিন্তু সেই আশায় দ্রুত জল ঢেলে দেয় ইস্টবেঙ্গল। ৩৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৪-১ করেন আকে লোবা। প্রথমার্ধেই চার গোল করে কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় লাল-হলুদ।
আক্রমণভাগের গতিশীলতা, দ্রুত পাসের আদানপ্রদান এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা—সব মিলিয়ে ইস্টবেঙ্গলের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া।
শেষ দিকেও গোলের খিদে অটুট
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে ইন্টার কাশী। তবে ইস্টবেঙ্গলও আক্রমণ থামিয়ে দেয়নি। ম্যাচের ৮১ মিনিটে পরিবর্ত ফুটবলার লুকাস জ্বলিনস্কির গোলে পাঁচ গোলের ব্যবধানের পথে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ। ক্রিস্টিয়ানো ইকোনোমিডিসের পাস থেকে গোলটি করেন তিনি।
এর পর আর কোনও গোল না হওয়ায় ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল।
আকে লোবার ঝলক, দলের সামগ্রিক দাপট
এই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের জয়ের অন্যতম বড় নায়ক আকে লোবা। একটি গোল করার পাশাপাশি তাঁর পাস থেকে সতীর্থদের গোলও এসেছে। দানি রামিরেজ ও পিভি বিষ্ণুর গোলের পর লোবার নিজের জোড়া গোল লাল-হলুদের আক্রমণভাগের শক্তিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। শেষ দিকে জ্বলিনস্কির গোল বড় জয়ের ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, টানা দুই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল প্রতিপক্ষের জালে মোট নয়টি গোল করেছে। চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ৪-০ জয়ের পর ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ৫-১—এই পরিসংখ্যানই জানিয়ে দিচ্ছে, মরশুমের শুরুতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে লাল-হলুদ।
খেতাব ধরে রাখার অভিযানে আত্মবিশ্বাসী ইস্টবেঙ্গল
গত মরশুমে আইএসএল খেতাব জিতে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এ বার সেই সাফল্য ধরে রাখাই দলের বড় লক্ষ্য। নতুন মরশুমের শুরুতেই পরপর দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানের জয় সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তবে মরশুম এখনও দীর্ঘ। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, রক্ষণকে আরও মজবুত করা এবং কঠিন ম্যাচেও একই আগ্রাসন ধরে রাখাই হবে হাবাসের দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
আপাতত অবশ্য লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে হাসি। গোলের পর গোল করে ইস্টবেঙ্গল বুঝিয়ে দিল, খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে তারা যে সহজে জমি ছাড়তে রাজি নয়!
ফিচার ইমেজ: সংগৃহীত।