ডেস্ক রিপোর্ট: ভারী শিল্পের খরা রাজ্য জুড়ে। বামেদের ৩৪ বছরের শাসন বাংলাকে শিল্পশূন্য করেছে। শেষ দিকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জমি অধিগ্রহণে পদ্ধতিগত ভ্রান্তি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিল্প বিরোধী জঙ্গি আন্দোলনের জন্য পারেন নি। আর মমতার ১৫ বছরের রাজত্বে পশ্চিমবঙ্গে একমাত্র বিকাশ হয়েছে ‘তোলা’ শিল্পের। রাজ্যে এখন বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। মোদীর ভাষায় বাংলায় এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। এবার কি বঙ্গে বড় বিনিয়োগ হবে? আসবে বড় শিল্প এই রাজ্যে? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কিন্তু চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না। গৌতম আদানির সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠক হয়েছে আগেই। এবার মুম্বাই গিয়ে রিয়ালেন্স গোষ্ঠীর কর্ণধার মুকেশ আম্বানীর সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুকেশ আম্বানী সপরিবারে থাকেন মুম্বাইয়ের ‘অ্যান্টিলিয়া’-য়। গণেশপুজোর আমন্ত্রণ রক্ষা করতে সোমবার অ্যান্টিলিয়ায় গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মুকেশপুত্র অনন্ত আম্বানী শুভেন্দুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কালীঘাটের মাকালীর মূর্তির একটি প্রতিরূপ উপহার স্বরূপ পিতা-পুত্রের হাতে তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেলে ঘটানাটি শেয়ার করেছেন শুভেন্দু। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর দুই পাশে সহাস্য অনন্ত ও মুকেশ। শুভেন্দু অধিকারী ও মুকেশ আম্বানী হাত দিয়ে মাকালীর প্রতিরূপটি ধরে রেখেছেন। আরও একটি ফটোতে দেখা যাচ্ছে, মুকেশ আম্বানীর গৃহের গণেশ বিগ্রহের সামনে করজোড়ে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু, পাশে অনন্ত আম্বানী।
সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ হলেও আম্বানীদের বাড়িতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিনিয়োগের কথা তুলবেন না, তা আবার হয় নাকি! মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিপুল সম্ভাবনা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।”
এক্স হ্যান্ডেলে শুভেন্দু অধিকারী আরও যা লিখেছেন—
গতকাল মুম্বাইয়ে বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান শ্রী মুকেশ আম্বানীজির বাসভবনে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।
সেখানে ভগবান গণেশের সামনে প্রার্থনা করার এবং আমাদের দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য তাঁর পরম আশীর্বাদ প্রার্থনা করার দিব্য সৌভাগ্য লাভ করি।
আমাদের রাজ্যের আত্মা, ঐতিহ্য ও চিরন্তন ভক্তির প্রতীক হিসেবে মা কালীর একটি বিশেষ পবিত্র স্মারক আম্বানী পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার সম্মানও আমার হয়েছে। প্রার্থনা করেছি, জগজ্জননী মা যেন তাঁদের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও নিরবচ্ছিন্ন সাফল্যের জন্য আশীর্বাদ প্রদান করেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করার সময় পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিপুল সম্ভাবনা নিয়েও আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমাদের রাজ্য এমন দূরদর্শী বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, যা যুবসমাজের ক্ষমতায়ণ করবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুত্থানের পথ প্রশস্ত করবে।
শ্রীমতী নীতা আম্বানীজি, শ্রী মুকেশ আম্বানীজি এবং সমগ্র আম্বানী পরিবারকে তাঁদের অসাধারণ আন্তরিকতা ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
বাংলায় ঘরে ঘরে শিক্ষিত বেকার। এই বেকারত্ব দূর করার জন্য চাই বিপুল কর্মসংস্থান। শুধু সরকারি চাকরি দিয়ে সকলের রোজগার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাজ্যের নবাগত বিজেপি সরকারের চোখ তাই শিল্পায়নের দিকে। রাজ্যের মানুষও চাইছেন, বাংলায় শিল্পের জোয়ার আসুক। এই লক্ষ্যেই মমতাকে হটিয়ে পদ্মকে ক্ষমতায় এনেছেন জনগণ। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্শিতে বসার পর থেকেই বিনিয়োগ আনার জন্য দিনরাত ছুটছেন শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যে বিজেপি সরকারের সাড়ে চার মাস হল। ইতিমধ্যেই কিছু বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে। অ্যান্টিলিয়ায় মুকেশ-শুভেন্দু বৈঠক বিজেপি জামানায় রাজ্যের বিনিয়োগবান্ধব চিত্রটাকে আরও উজ্জ্বল করবে বলেই মনে করছে শিল্প মহল।
ফিচার ইমেজ: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক্স হ্যান্ডেল থেকে সংগৃহীত।