মক্কায় মসজিদের ভেতরেই যৌন সম্পর্ক! ধরা পড়ে কল্লা গেল বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের


এহেন পবিত্র মক্কার একটি মসজিদের অভ্যন্তরে শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন আব্দুল ও সিতি। বাংলাদেশি এই দুই নারী-পুরুষ বিবাহিত দম্পতি কিনা, তা প্রকাশ করে নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাঁরা মসজিদের ভেতরে হামেশাই যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতেন বলে মক্কার পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে। দু’জনকেই এক রাতে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। মসজিদে নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকে শুধু অনৈতিক ও অশালীন কাজ বলেই নয়, এমনকি মৃত্যুদন্ডযোগ্য অপরাধ বলে মনে করে ইসলামি শরিয়া।

মসজিদে যৌন সম্পর্ক করে ধৃত আব্দুল ও সিতিকে গ্রেফতার করে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দিয়ে জেলখানায় পাঠায় সৌদি পুলিশ। শরিয়া আদালতে এই দুই বাংলাদেশি নারী-পুরুষের বিচার চলে। শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় তাদের কল্লা কাটার আদেশ দেন কাজি। ‘তাআজির’ হল বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি— কাজি উপযুক্ত মনে করলে যে কোন‌ও অভিযুক্তকে যে কোন‌ও ধরণের শাস্তি দিতে পারেন। ওই দুই বাংলাদেশি নারী-পুরুষ যেহেতু মসজিদের ভেতর যৌন সম্পর্ক করে ইসলামের দৃষ্টিতে ‘কবিরা গুণাহ’ করে ফেলেছেন, তাই তাদের কল্লা নামানোর আদেশ দিতে বিন্দু মাত্র দ্বিধা করেন নি বিচারক।

সৌদি আরবে যে’ভাবে প্রকাশ্যে কল্লা কেটে মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়। ফাইল‌ ফটো।

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও সৌদি আরবের উচ্চতর বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করে নি— দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদন্ড বহাল রাখে শরিয়া আদালত। উচ্চতর শরিয়া আদালতের নির্দেশ হাতে পাওয়ার কিছুদিনে মধ্যেই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে রাজকীয় ডিক্রি বা আদেশ জারি করে সৌদি সরকার। গত বুধবার দুপুরে মক্কা অঞ্চলে প্রকাশ্যে নজরুল ইসলাম আব্দুল বাসির ও সিতি আখতারের গর্দান নামিয়ে ফেলে জল্লাদ।

তাদের দুই নাগরিকের মৃত্যুদন্ড রদ করতে বাংলাদেশ সরকারের তরফে সৌদি আরবের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছিল কিনা জানা যায় নি। সৌদি আরবে ৩৫ লক্ষের বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন। ২০২৫ সালে রেকর্ড ৭ লক্ষ ৫০ হাজার বাংলাদেশি কাজের জন্য সৌদি আরবে গেছেন। খুন ও ডাকাতি সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হ‌ওয়ায় প্রত্যেক বছর‌ই ৫-৬ জন করে বাংলাদেশিকে মৃত্যুদন্ড দেয় সৌদি আরবের শরিয়া আদালত। তবে মসজিদে যৌন মিলন করার অপরাধে সৌদিতে এর আগে কোন‌ও বাংলাদেশির কল্লা কাটা গেছে বলে শোনা যায় নি।

সৌদি আরবে ধর্ম অবমাননাও মৃত্যুদন্ডযোগ্য অপরাধ। সম্প্রতি এই অপরাধে শ্রীলঙ্কার নাগরিক এক হিন্দুকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল সৌদির শরিয়া আদালত। তবে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সফল কূটনৈতিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আনোজন শিবারসা নামে ওই শ্রীলঙ্কান নাগরিকের মৃত্যুদন্ড রদ করার আদেশ দিয়েছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। গত ১১ অক্টোবর এই আদেশ দেয় দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। এদিকে ১৪ অক্টোবর দুই মুসলমান বাংলাদেশি নাগরিকের, যাদের একজন নারী, কল্লা ফেলে দেয় সৌদি প্রশাসন!

শ্রীলঙ্কা সৌদি প্রবাসী তাদের হিন্দু নাগরিকের মৃত্যুদন্ডের আদেশ‌ রদ করতে পারলেও বাংলাদেশ তাদের দুই মুসলমান নাগরিকের জীবন রক্ষা করতে পারল না। এই নিয়ে সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে অনেক বাংলাদেশিকে। সরকারের অপদার্থতার কারণেই আব্দুল বাসির ও সিতি আখতারের কল্লা বাঁচানো গেল না বলে সমাজমাধ্যমে আহাজারি করছেন‌ বাংলাদেশি নেটিজেনরা।

বাংলাদেশী গৃহপরিচারিকাদের যৌন‌ নির্যাতন এমনকি খুন করেও পার পেয়ে যায় সৌদি গৃহস্বামীরা। প্রতীকি ফটো।

মসজিদের ভেতরে নারী-পুরুষ শারীরিক মিলন করে ফেললেই তাদের কল্লা ফেলে দিতে হবে, এমন কঠোর আইন নিয়েও‌ প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সৌদি আরবে পরিচারিকার কাজ করতে বাংলাদেশি নারীরা হামেশাই যৌন নির্যাতনের শিকার হন।‌ অনেকে গর্ভবর্তী হয়ে দেশে ফিরে আসেন। সৌদি মালিকের হাতে বাংলাদেশি পরিচারিকা খুনের ঘটনাও আকছার ঘটে।‌ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্যাতিতারা কোন‌ও বিচার পান না। বাংলাদেশি নারীদের উপর অপরাধ করেও সৌদি গৃহস্বামীরা পার পেয়ে যান।

Disclaimer: AI generated graphic is representational.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com