ডেস্ক রিপোর্ট: একশ দিনের কাজেও বিরাট দুর্নীতি করেছিল তৃণমূল সরকার। জবকার্ড প্রাপকদের তালিকায় ভুয়ো নাম ঢুকিয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা মেরেছিল তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানেরা। একশ দিনের প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের বরাদ্দ স্থগিত করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। বাংলায় বিজেপি সরকারের বয়স দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ‘বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্পে রাজ্যের জন্য প্রথম কিস্তির ১২৬৪.৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার।
১ জুলাই থেকে ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্পের কাজ বাংলার গ্রামে গ্রামে শুরু হয়ে গেছে। বছরে ১২৫ দিন কাজ পাবেন প্রকল্পের বৈধ উপভোক্তারা। প্রায় পাঁচ বছর পর ১২৫ দিনের কাজ শুরু হওয়ায় এবং কেন্দ্রীয় সরকার টাকা বরাদ্দ করায় গ্রাম বাংলায় খুশির হাওয়া লেগেছে। রবিবার বিভিন্ন রাজ্যের জন্য ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ করেছেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। ৪ মে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষিত হয়। ভোটে মমতার সরকারের শোচনীয় পতন হয়। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলা দখল করে বিজেপি। ৯ মে ব্রিগেডে শপথ নেয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা। যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং।

ডবল ইঞ্জিন সরকারের জামানায় পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের রথ ছুটবে- ভোটের প্রচারেই এই গ্যারান্টি দিয়েছিলেন মোদী। গ্রামের মানুষের রোজগার নিশ্চিত করতে ও ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে একশ দিনের প্রকল্প জরুরি। তৃণমূলের দুর্নীতির কারণে এই প্রকল্প থমকে থাকায় গ্রাম বাংলার দরিদ্র পরিবারগুলির যে কষ্ট হচ্ছিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর জানিয়েছে, এবার এই প্রকল্পের স্বচ্ছতার উপর কড়া নজর রাখা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার গ্রামীণ শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি নিশ্চিত করতে চায়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপভোক্তাদের হাতে সরাসরি মজুরির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে কিনা, সেই দিকেও খেয়াল রাখবে কেন্দ্র।
গোটা দেশের জন্য ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্পে মোট ২৫ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সবথেকে বেশি ৩২১০.৭৬ কোটি টাকা পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ।
Feature image is representational and AI generated.