বিশেষ প্রতিবেদন: প্রয়াত মুকুল রায় সাংবাদিক সুমন চট্টোপাধ্যায়কে বলেছিলেন, ‘যেদিন মমতার বাড়ির সামনে থেকে গার্ডরেলগুলো সরে যাবে, সেদিন মমতা পাগল হয়ে যাবে।’ ক্ষমতা হারিয়ে সত্যি সত্যিই এই মহিলা মানসিক স্থিতি হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি নির্বাচনে হেরেছেন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে তাঁর অভিযোগ থাকতেই পারে। প্রতিবাদে তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের নির্দেশ দিতে পারেন তাঁর দলের সদস্যদের এবং প্রতিবিধান চেয়ে তিনি আদালতে:ইলেকশন পিটিশন’ও দায়ের করতে পারেন। কিন্তু মমতা বলছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না!
দেবেন না তো দেবেন না। সাধারণ মানুষ থেকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ- সবাই মমতার কথা শুনে হাসছেন। বুধবার মমতার কালীঘাটের বাড়িতে তাঁর দলের বিজয়ী হবু বিধায়কেরা দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাঁদের মমতা বলেছেন, “তিনি পদত্যাগ করবেন না।” বেশ তো না করুন। কিন্তু তারপর মমতা যা ভাট বকেছেন, তা শুনে যে কোনও কান্ডজ্ঞানসম্পন্ন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, এই মহিলা আদৌ মানসিকভাবে সুস্থ তো?
মমতা বলেছেন, “নির্বাচন নিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।” বেশ ভাল কথা। গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকারের কম পয়সা তো কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভিরা খান নি। সরকারের পয়সা মানেই জনগণের পয়সা। এবার তাঁর দলের পয়সা না হয় সিব্বল, মনু সিংভিরা খাবেন। তোলাবাজি করে তৃণমূল তো ভাঁড়ারে কম অর্থ জমায় নি। সেখান থেকে কিছু উকিলদের পিছনে আবার খরচ করবে। এরপর মমতা বলেছেন, “দরকারে তিনি আন্তর্জাতিক আদালতে যাবেন!” শুনে তো রাজ্যবাসীর চক্ষু চড়কগাছ। মহিলা বলেন কী! এর পেটে কি বিদ্যা বলে কিছু আছে?
মমতা আরও বলেছেন, “আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। রেকর্ড থাকুক। ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই, সেই দিনটি হোক একটি কালো দিন।” কী আজব কথা! নরেন্দ্র মোদীর তো মমতার মতো মাথা খারাপ হয়ে যায় নি যে, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের নির্দেশ দেবেন।” পশ্চিমবঙ্গে ভালোয় ভালোয় বিধানসভা নির্বাচন মিটে গেছে। ভোটের ফল বেরিয়ে গেছে। জনগণ বিজেপিকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দিয়েছে। বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল রাজ্যপাল আরএন রবির হাতে অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনের ফলের গেজেট নোটিফিকেশনও তুলে দিয়েছেন।
ফলের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দেওয়ার সাথেসাথেই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব শেষ। পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভার মেয়াদ বৃহস্পতিবারই ফুরিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অটোমেটিক্যালি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাবেন। ইতিহাসের পাতায় তিনি হয়ে যাবেন পশ্চিমবঙ্গের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। কাজেই পশ্চিমবঙ্গে কোনও সাংবিধানিক সঙ্কটই নেই। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সাথেসাথেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারটা কার্যত কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টে পরিণত হয়ে গিয়েছিল।
হেরে যাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করলে সংসদীয় শিষ্টাচারের একটা নজির রাখতেন। হেরো মুখ্যমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীদের পদত্যাগ একটা সাংবিধানিক রীতি। যাঁরা ভদ্রসভ্য রাজনীতিক, তাঁরা রীতিটা মানেন। যাঁরা মমতার মতো ছ্যাঁচ্চড়, তাঁরা মানার ধার ধারেন না। ভারতের কোনও প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ভোটে হেরে যাওয়ার পরেও পদত্যাগপত্র পেশ করেন নি, এমন নজির খুঁজে পাওয়া যায় না। মমতা নজির গড়লেন। এবং যা দেখে দেশশুদ্ধ মানুষ মুচকি হাসছেন। খুব সম্ভবত তাঁর দলের লোকরাও বিরক্ত। আর কত সহ্য করবেন এই মহিলাকে।
Feature image is representational.