মমতা পদত্যাগ করবেন না! বয়েই গেল

মমতা পদত্যাগ করবেন না! বয়েই গেল


গো হারান হেরেও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না মমতা! মঙ্গলবার কালীঘাটের বাসা থেকে সংবাদ মাধ্যমের উদ্দেশে এ কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা না দিলেও রাজ্যের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে না। কিন্তু এটা একটা সংসদীয় ও সাংবিধানিক রীতি। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর কর্তব্য। দেখতেও ভাল লাগে। ২০১১ সালে শুধু ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান হয় নি। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিজে হেরেছিলেন যাদবপুরে। সংসদীয় রীতি মেনে ভোট গণনার দিন দুপুর দুটোর মধ্যেই রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন বুদ্ধদেব। এ ক্ষেত্রে প্রথা হল, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী ও পদত্যাগী মুখ্যমন্ত্রীকে কাজ চালিয়ে যেতে অনুরোধ করবেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল। বিষয়টি স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা কিন্তু শোভন।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পরাজয়ের বেদনা বুকে নিয়ে মমতার শপথ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এই মহিলা পদত্যাগ করলেন না। এখন বলছেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমি তো হারি নি!’ তিনি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সৌজন্য দেখাবেন, এটা আর এখন কল্পনাও করছি না। ২০২১ সালের ৫ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। বিধি অনুযায়ী গতকাল (৪ মে) রাত ১১.৫৯ মিনিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃতীয় তৃণমূল সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আইনমাফিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নেই। তিনি ইতিমধ্যেই প্রাক্তন হয়ে গেছেন। ৭ মে সপ্তদশ বিধানসভার মেয়াদ শেষ। ৮ মে থেকে মমতার নামের আগে আপনা থেকেই ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ শব্দটা জুড়ে যাবে। মমতার এই ছোটলোকামি দেখে মানুষ হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছে।

শুনুন কালীঘাটের ঝগড়ুটে দিদি, আপনি নিজে হেরেছেন। আপনার দল হেরেছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বাংলার জনগণ সাক্ষী। বিধানসভা নির্বাচনকে পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনে পরিণত করতে পারেন নি বলে আপনার খুব রাগ। নির্বাচন কমিশনার পদে আপনার পছন্দের মানুষ রাজীব সিনহার মতো বশংবদ আমলা। দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আপনার সবকটি ষড়যন্ত্র মাটি করে দিয়েছেন। ভোটার তালিকা ভুতুড়ে ভোটার মুক্ত। বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি। পোষা গুন্ডাদের দিয়ে ছাপ্পা দেওয়াতে পারেন নি। নির্বাচন কমিশনের কড়া হুকুমে রাজ্য পুলিশ‌ও ছিল নিরপেক্ষ। তাই, আমরা সবাই জানি, আপনাকে জোর করে হারানো হয় নি। জনগণের ভোটে আপনার গদি গেছে। নাটকবাজি বন্ধ করেন। লোকে আপনার নাটকবাজি আর নেয় না। গত একমাস আপনার ভীষণ ধকল গেছে দিদি। আপনি বাড়িতে কটাদিন ঘুমোন। বিশ্রাম নিন। আপনার চেহারাই বলে দিচ্ছে এখন আপনার বিশ্রামের বড় প্রয়োজন।

 

 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com