কংগ্রেসের মুখ রাখল হিমাচল, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দিয়েও হার মানতে হল বিজেপিকে


ইলেকশন ডেস্ক: কংগ্রেসের মুখরক্ষা করল হিমাচল প্রদেশ। বুধবার দিল্লি পুরনিগম নির্বাচনে আপের কাছে ভোট খুইয়ে হাত তৃতীয়। গুজরাট জয়ের কোনও স্বপ্ন দেখছিলেন না কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু‌ গান্ধীর রাজ্যে দলের ফল যে এতটা শোচনীয় রকমের খারাপ হবে, তা বৃহস্পতিবার সকালে ইভিএম খোলার আগে পর্যন্ত ভাবতে পারেন নি তাঁরা। তবে হিমাচল প্রদেশ নিয়ে আশা ছিল‌ই দেশের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন রাজনৈতিক দলের। বিভিন্ন চ্যানেলের এক্সিট পোল‌ও সেই সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। ইভিএম খোলার পর থেকেই হিমাচলে হাতে ও পদ্মে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কিন্তু বেলা গড়াতেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলে কংগ্রেস। কাটে কা টক্কর দিতে দিতেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়ে বিজেপি। ৬৮ আসনের হিমাচল প্রদেশ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ৩৫টি আসন। দুপুর তিনটে নাগাদ ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলে কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী হিমাচলে কংগ্রেস ৩৮টিতে জয়ী, দুটিতে এগিয়ে। বিজেপি ১৮টিতে জয়ী, ৭টিতে এগিয়ে। অন্যান্যরা তিনটি আসন জিতে নিয়েছে।

একটা সময় মনে হচ্ছিল ত্রিশঙ্কু হবে হিমাচল বিধানসভা। সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও বিজেপির হাতে সদ্য নির্বাচিত বিধায়কদের খোয়ানোর আশঙ্কায় ভুগতে শুরু করেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। জয়ী বিধায়কদের কংগ্রেস শাসিত কোন‌ও রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়ার কথাও ভাবতে থাকেন নেতারা। তবে দিনের শেষে হিমাচল প্রদেশে কংগ্রেসের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠিত। ট্রেন্ড ধরে রেখেই ক্ষমতাসীনদের সরিয়ে দিলেন হিমাচল প্রদেশের জনতাজনার্দন। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টেও সরকার ধরে রাখতে ব্যর্থ বিজেপি।

হিমাচল প্রদেশে দুই দলের ভোটের ব্যবধান সামান্য‌ই। কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট ৪৩.৯ শতাংশ। বিজেপির ৪৩ শতাংশ। আপ হিমাচলে কোন‌ও ফ্যাক্টর‌ই হয় নি। ঝাড়ু পেয়েছে মাত্র ১.১ শতাংশ ভোট। ঝাড়ুর বাড়বাড়ন্ত না হলে যে হাত মজবুত অবস্থানে থাকে, হিমাচল প্রদেশের ভোটে তা প্রমাণিত হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ২০১৭-র নির্বাচনে বিজেপি ৪৮.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ৪৪টি আসন জিতেছিল। এবার বিজেপির ভোট কমেছে ৫.৮ শতাংশ। পাঁচ বছর আগে কংগ্রেস ৪১.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিল ২১টি আসন। কংগ্রেসের ভোট বেড়েছে ২.২ শতাংশ। হিমাচল প্রদেশে একমাত্র আসনটিও হাতছাড়া হয়েছে সিপিএমের। থিয়োগ আসনে তৃতীয় হয়েছেন গতবারের বিজয়ী সিপিএম প্রার্থী রাকেশ সিংহ।

দিল্লি পুরভোটে বিশ্রী হার এবং গুজরাট শোচনীয় পরাজয়ের পর হিমাচল প্রদেশের বিজয় নিঃসন্দেহে কংগ্রেসকে খানিকটা স্বস্তি জোগালো। তবে একাধিক দাবিদার থাকায় মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের কাজটা কংগ্রেস নেতৃত্বের জন্য সহজ হবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nagariknewz.com