প্রয়োজনে ভারতের ট্যালেন্ট হান্ট শোয়ে বাংলাদেশী প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রিত হোক - nagariknewz.com

প্রয়োজনে ভারতের ট্যালেন্ট হান্ট শোয়ে বাংলাদেশী প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রিত হোক


মাইনুল আহসান নোবেল।‌ বাংলাদেশী গায়ক। যদিও গান গেয়ে সুনাম কুড়োনোর চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে ‘কুকথা’ বলে পাবলিকের খিস্তি খেতেই বেশি পছন্দ করে বছর চব্বিশের নোবেল। খিস্তি খেয়ে বহুবার পোস্ট মুছে মাফ চেয়েছে। কিন্তু তাতে এই পোলার খাসলত বদলায় নি। দুই বাংলার মানুষ মাইনুল আহসান নোবেলকে চিনতে পারে জি বাংলা ‘সারেগামাপা’-র মঞ্চ থেকে। উনিশে সারেগামাপা-র ‘গ্র্যান্ড ফিনালে’ তৃতীয় হয়েছিল নোবেল। সারেগামাপা-র ‘গ্র্যান্ড ফিনালে’তে স্থান করে নেওয়া সহজ ব্যাপার নয়। সারেগামাপা-য় তিন নম্বর হ‌ওয়ার সুবাদে নোবেল নিজের ‌দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও সেলিব্রেটি হয়ে ওঠে।

নোবেলের হাউস ছিল সারেগামাপা-য় চ্যাম্পিয়ন হ‌ওয়ার। কিন্তু চ্যাম্পিয়নের শিরোপা ওঠে এ’পার বাংলার অঙ্কিতা ভট্টাচার্যর মাথায়। কলকাতায় থাকতে সারেগামাপা’য় তিন হ‌য়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কৃতজ্ঞতায় গলে পড়লেও দেশে ফিরেই নিজমূর্তি ধারণ করে এই বাংলাদেশী গায়ক। সারেগামাপায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য লাভে নোবেলের ব্যর্থতার যত দায় গিয়ে ‌পড়ে ভারতের উপর। এবং ভারতের ট্যালেন্ট হান্টের অন্যতম সেরা মঞ্চে তৃতীয় হ‌ওয়া যুবক রীতিমতো সাম্প্রদায়িক হয়ে ওঠে। পরকীয়া করে ‌ধরা খাওয়া থেকে ব‌উ পেটানো। মাতাল হয়ে হোটেল ভাঙচুর করা থেকে স্টেজ পারফর্ম করতে গিয়ে শ্রোতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার- অল্প বয়সেই অনেক গুণের পরিচয় দিয়েছে গোপালগঞ্জের মাইনুল। নোবেলের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের‌ও অভিযোগ আছে।‌ এদিকে একজন ‘সহিহ মুসলমান’ হিসেবেও তার গর্বের শেষ নেই।

সারেগেমাপায় ভাল পারফরমেন্স করার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে নোবেলের ফ্যান-ফলোয়ার্সের অভাব নেই। নোবেল চ্যাম্পিয়ন না হ‌ওয়ায় কলকাতায় তার অনেক ‘মেয়ে-ভক্ত’ কেঁদেও ভাসায়। নোবেলকে চক্রান্ত করে ‘সারেগামাপা’ চ্যাম্পিয়ন করা হয় নি, প্রতিযোগিতা শেষ হতেই এমন অভিযোগ‌ও উঠেছিল। বাংলাদেশে নোবেলের ফ্যানেরা এই অভিযোগে সামাজিক মাধ্যমে ‘মাতম’ তুললে পশ্চিমবঙ্গের অনেকেও তাতে সুর মেলায়। কিন্তু নোবেল কী চিজ, তা টের পেতে বেশি সময় লাগে নি ভারতের মানুষের। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে‌ ফেসবুকে নোবেলের পোস্ট পড়ার পর কার‌ও বুঝতে বাকি থাকে না যে, এই ছেলে শুধু লম্পট আর নেশাড়ুই নয় তদুপরি বাচাল, ইতর, সাম্প্রদায়িক এবং মূর্খ‌ও। সেই পোস্টের পর নোবেলের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠান চট্টগ্রামের আইনজীবী মিঠুন বিশ্বাস। সে’বার ঠ্যালায় পড়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে বিতর্কিত পোস্ট মুছে মাফ চাইতে বাধ্য হয় নোবেল।

লোকের ভেতরের স্বভাব বদলায় না। নিক নেম ‘নোবেল’ হলেও ও তো আসলেই একটা ইতর। তাই নোবেল‌ও বদলায় নি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত জয়লাভ করে। ভারতের কাছে ম্যাচে হারের একমাত্র কারণ আইসিসির চোট্টামি- ইদানিং এই মনোভাব পোষণ করে কম করেও ৮০ শতাংশ বাংলাদেশী। নিজের দেশী ভাইদের কাছ থেকে তারিফ পেতে ফের মাত্রা ছাড়িয়েছে নোবেল। রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ফের অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় ভারত বিদ্বেষী পোস্ট করেছে ভারত থেকে সম্মান পাওয়া এই বাংলাদেশী গায়ক। আইসিসি সম্পর্কেও কুকথা বলেছে সে। নোবেলের নোংরা মন্তব্যের জেরে‌ স্বাভাবিকভাবেই নেটপাড়া সরগরম। পোস্ট পড়ে নোবেলের বাংলাদেশী ভায়েরা পশ্চাদ্দেশ তুলে নাচছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে অসংখ্য নেটাগরিক কমেন্ট বক্সে গিয়ে নোবেলকে ধুয়েও আসছে। কমেন্ট বক্সেও এই ইতর বাংলাদেশী গায়ক নিজের বংশ এবং শিক্ষার পরিচয় রেখেছে।

মাইনুল আহসান নোবেলের মতো দুই পয়সার গায়ক কী বলল, তা নিয়ে ভারতের লোকের মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের মধ্যে এই দাবি উঠতে শুরু করেছে- যাদের ভারত বিদ্বেষ এত বিষাক্ত, তাদের কলকাতায় ডেকে এনে আদর করে হাতে সম্মান ও অর্থ তুলে দেওয়ার তামাশা কেন বন্ধ করা হবে না? ভবিষ্যতে এই ধরণের ট্যালেন্ট হান্ট শোয়ে বাংলাদেশের তরফে যারা অংশ নিতে আসবে, তাদের থেকে মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়ার‌ও দরকার আছে। অর্থাৎ নোবেলের মতো বিষাক্ত পোকামাকড়ের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বন্ধ না হলেও ছাঁকনি বসানো হোক।

Feature Image is representational.


Leave a Reply

Your email address will not be published.