পৌষ সংক্রান্তিতে ঝটপট বানিয়ে ফেলুন ‘গোকুল পিঠে’


দু’দিন বাদেই পৌষ সংক্রান্তি। যার আরেক নাম মকর সংক্রান্তি। দেশজুড়েই পালিত হয় মকর সংক্রান্তি। যদিও ফের করোনার সংক্রমণে উৎসব অনেকটাই ম্লান। বাঙালির কাছে পৌষ পার্বণ মানেই পিঠে-পুলি-পায়েস। আমাদের পিঠের বৈচিত্র্য বিপুল। তার মধ্যে গোকুল পিঠে অন্যতম। র‌ইল গোকুল পিঠের রেসিপি সহজ করে –

সামনেই পৌষ সংক্রান্তি । এর আরেক নাম মকর সংক্রান্তি। এই দিন একদিকে ধনু রাশি ছেড়ে মকর রাশিতে এবং অন্যদিকে দক্ষিণায়ন পরিক্রমা সাঙ্গ করে উত্তরায়নের পথে যাত্রার সূচনা করেন সূর্যদেব। বাঙালির কাছে পৌষ পার্বণ মানেই পিঠেপুলির সমারোহ। এমনিতেই শীতের হাওয়া গায়ে এসে ঝাপটা মারা মাত্র‌ই নলেন গুড়ের গন্ধে  বাঙালির পিঠে পায়েস ভোজনের আগ্রহ যায় বেড়ে। আর পৌষ সংক্রান্তি এলে তো পিঠে বানানো মাস্ট। বাঙালির পিঠের হিস্ট্রি এবং লিস্টি দুটোর কোনটাই আবার খুব ছোট্ট নয়। শুধু পিঠের বৃত্তান্ত নিয়ে গবেষণা করেই ডক্টরেট‌ ডিগ্রি পর্যন্ত জুটিয়ে নিতে পারেন কেউ।  পিঠের হরেক সম্প্রদায়ের মধ্যে গোকুল পিঠের কদর বড় কম নয় । দুই বঙ্গের মানুষের হৃদয় এবং রসনাতেই এনার অবাধ বিচরণ। মধ্য যুগে এনার উৎপত্তি। এই একুশ শতকেও  পেটে এনার নিষ্পত্তি ঘটিয়ে বাঙালির মনে প্রাণে নেমে আসে প্রশান্তি। জন্মাষ্টমীতে গোপালের ভোগে গোকুল পিঠে দেওয়ার রেওয়াজ আছে। পিঠের নাম যখন গোকুল তখন গোকুল বৃন্দাবনের গোপাল ঠাকুরের তো তা প্রিয় হবেই। পৌষ সংক্রান্তিতেও ঘরে ঘরে বানানো হয় গোকুল পিঠে। 

এই পৌষ পাবনে ঘরে গোকুল পিঠে বানিয়ে প্রিয়জনের রসনাতৃপ্ত করতে চাইলে আগে উপাদান এবং পরিমাণগুলো টুকে নিন চটকরে – 

  • ১) নারকোল কোড়া ( এক কাপ ) 
  • ২) চিনি (   ৩/৪ কাপ   )
  • ৩) দুধ ( হাফ কাপ ) 
  • ৪) গুঁড়ো দুধ ( দুই টেবিল চামচ ) 
  • ৫) আখি গুড় 
  • ৬) ঘি,হাতে মাখিয়ে নেবার জন্য ( এক চা চামচ ) 
  • ৭) ময়দা ( এক কাপ ) 
  • ৮) চালের গুঁড়া ( হাফ কাপ ) 
  • ৯) এলাচের গুঁড়া  ( হাফ চা চামচ ) 
  • ১০) দুই কাপ সাদা তেল পিঠে ভাজার জন্য 

যে’ভাবে বানাবেন গোকুল পিঠে –

ওভেনের হালকা আঁচে কড়াই বসিয়ে তাতে  নারকেল কোড়া ঢেলে  ৩/৪ কাপ চিনি মিশিয়ে একটু নাড়িয়ে নিন। নারকেল কোড়া ও চিনি মিশে গেলে তাতে হাফ কাপ দুধ ঢেলে দিন। সঙ্গে দুই টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ যোগ করতে যেন ভুল না হয়। পুরো মিশ্রণটা ওভেনে বসিয়ে মিনিট পাঁচেক কষিয়ে নিন। শুকনো থেকে খানিকটা মাখা মাখা হলে তাতে দুই টেবিল চামচ গুড় ঢেলে দিয়ে আরও মিনিট পাঁচেক নাড়তে থাকুন। পুর হালকা লালচে এবং আঠালো হয়ে এলে কড়াই থেকে নামিয়ে একটি বড় থালায় ছড়িয়ে দিন। 

এবার পুর দিয়ে ছোট ছোট চ্যাপ্টা লেচি বানানোর পালা। তার আগে দু  হাতে একটু ঘি মাখিয়ে নিন। দুই হাত দিয়ে ছোট ছোট চ্যাপ্টা লেচি বানিয়ে ফেলুন ঝটপট। বারো তেরোটির মতো লেচি তৈরি হবে। 

এই পর্ব সাঙ্গ হলে একটি কাঁচের বড় পাত্রে এক কাপ ময়দার সঙ্গে হাফ কাপ চালের গুঁড়ো মেশা। ময়দা ও চালের গুঁড়ো ভাল করে মিশিয়ে নিন । পরিমাণ মতো জল ঢেলে মিশ্রণটি গুলিয়ে ঘন করে ফেলুন। এবার এক ফাঁকে চিনির‌ সিরাপ বানিয়ে ফেলতে হবে। কড়াইয়ে এক কাপ চিনি ঢেলে তাতে দু’কাপ জল দিন। ওভেনে চড়িয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে তাতে হাফ চামচ এলাচের গুঁড়া ছেড়ে দিন। এবার জ্বালে বসিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে সিরাপটিকে ফুটিয়ে ফেলুন। ঘন হয়ে এলে জ্বাল দেওয়া বন্ধ করে আরও একটি কাজ সেরে ফেলুন। 

কড়াইয়ে দু’কাপ সাদা তেল ঢেলে দিন। এবার লেচি গুলো ময়দা ও চালের মিশ্রণে  ডুবিয়ে একটি একটি করে গরম তেলে ছাড়তে থাকুন।  উল্টেপাল্টে নিন। ভাজা হয়ে এলে  গরম চিনির রসে লেচি গুলো ফেলে দিন। পিঠে যাতে রসে টইটুম্বুর থাকে তাই লেচি গুলোকে রসে ফেলে উল্টেপাল্টে দিন। রসেভরা গোকুল পিঠে তৈরি হয়ে গেলে এবার প্লেটে সাজিয়ে ফেলুন। ঠান্ডা হয়ে গেলে গোকুল পিঠে পরিবেশন করুন। যে খাবে সেই এর স্বাদে আকুল না হয়ে পারবে না।

পড়া শেষ হয়ে গেলে একবার নিচের ভিডিওতেও চোখ বুলিয়ে নিতে ভুলবেন না। তারপর পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন আপনিও বানিয়ে ফেলুন গোকুল পিঠে।

ভিডিও- গোকুল পিঠে বানানোর প্রণালী।

Photo and Video Credit- Food Lover’s Point.


Leave a Reply

Your email address will not be published.