স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকার পরেও নার্সিংহোম রোগী ফেরালেই ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি রেগুলেটরি কমিশনের


স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে রোগী ফেরানোর অভিযোগ বাড়ছে রাজ্যে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জলপাইগুড়িতে বললেন,রোগী ফেরানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে নার্সিংহোমগুলির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাবে সরকার।

জলপাইগুড়ি : স্বাস্থ্যসাথী কার্ড সঙ্গে থাকলে বেসরকারি হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলি রোগী ফেরাতে পারবে না। ফেরালে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বকেয়া বিল বা রেট নিয়ে নার্সিংহোম মালিকদের কোনও অভিযোগ থাকলে তা সরকার মেটাবে কিন্তু রোগীর চিকিৎসা করতে হবে আগে। সোমবার জলপাইগুড়িতে এসে এই হুঁশিয়ারি দিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে কোনও ধরণের অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ২০১৭ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশন গঠন করে রাজ্য সরকার। জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে জেলার বেসরকারি নার্সিংহোম ও ল্যাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক আলোচনা চক্রে বসেছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান। আলোচনায় জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু , ওএসডি ডঃ সুশান্ত রায় সহ স্বাস্থ্য দফতরের অন্যান্য আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের আলোচনা সভা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জনহিতকর প্রকল্পগুলির মধ্যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড অন্যতম।‌ রাজ্যের যে কোনও বেসরকারি নার্সিংহোম-হাসপাতালে এই কার্ড দেখালেই রোগীর চিকিৎসা মিলবে বলে সরকারের আশ্বাস । স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে রোগীর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করে এবং পরিষেবা প্রদানকারী ক্লিনিকের কাছে বিল অনুযায়ী টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব সরকাররে‌ই । স্বাস্থ্যসাথী কার্ড চালু হ‌ওয়ার পর থেকে বহু রোগী যেমন এই পরিষেবার লাভ তুলেছেন তেমনি কার্ড থাকার পরেও রোগী ফিরিয়ে দেওয়ার ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি নার্সিংহোম-হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে।

ভিডিও- যা বললেন চেয়ারম্যান অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিনের বৈঠকে কমিশনের চেয়ারম্যান অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বেসরকারি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের জানিয়ে দেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলে রোগী ফেরানো যাবে না । রোগী ফেরানোর অভিযোগ উঠলে কমিশন জিরো‌ টলারেন্স নীতি নেবে। বিল বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে নার্সিংহোমগুলির কোনও অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্ব দিয়ে অবশ্য‌ই বিবেচনা করবে সরকার । কিন্তু আগে রোগীর চিকিৎসা করতে হবে । কার্ড থাকার পরেও নার্সিংহোম চিকিৎসা না দিয়ে ফেরালে রোগীরা কমিশনের সাইটে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। সাদা কাগজে অভিযোগ লিখে কমিশনের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলেও তা গ্রাহ্য হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন চেয়ারম্যান।

ভিডিও- যা বললেন বেসরকারি নার্সিংহোমের এক প্রতিনিধি।

বৈঠকে স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে নার্সিংহোমের প্রতিনিধিদের মূল অভিযোগ ছিল বকেয়া বিল নিয়ে। ইতিমধ্যেই অনেক টাকা সরকারের ঘরে জমা পড়েছে বলে অভিযোগ নার্সিংহোমগুলির । ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান তো হুঁশিয়ারি দিলেন । এখন তাতে কতটুকু কাজ হয়,সেটাই দেখার। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসার বিল নিয়ে বেসরকারি নার্সিংহোম-হাসপাতালগুলির সঙ্গে সরকারের টানাপোড়েন চলে বলে খবর। নার্সিংহোমগুলি বিল বাড়িয়েচড়িয়ে পাঠায় বলে অভিযোগ । যদিও সরকারি রেট নিয়েই আপত্তি আছে নার্সিংহোম মালিকদের। এই টানাপোড়েনে রোগীদের পরিষেবা বিঘ্নিত হলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যটাই মাঠে মারা যাবে বলে নাগরিকদের আশঙ্কা।

Photo & Video – Reporter.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *