Covid-19 : করোনা প্রতিরোধে ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকর ভারতীয় কোভ্যাকসিন, জানাচ্ছে ল্যানসেটের গবেষণা


পৃথিবীর সেরা মেডিকেল জার্নাল গুলির মধ্যে দ্য ল্যানসেটের নাম এক নম্বরে। করোনা প্রতিরোধে ভারতীয় কোভ্যাকসিনের কার্যকারিতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে ল্যানসেটের গবেষণা। এবার দেশেই দেশি টিকার প্রতি উপেক্ষার মনোভাব কাটবে তো?

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের বিজ্ঞানীদের দ্বারা উদ্ভাবিত বলে কোভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ ছিল অনেকেরই ।‌ এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত এই সেদিনও কোভ্যাকসিনকে প্রকাশ্যে কটাক্ষ করেছেন । টিকা সেন্টার গুলিতে স্বদেশী কোভ্যাকসিনের পরিবর্তে কোভিশিল্ড দেওয়ার দাবি করেছেন বহু মানুষ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে দ্য ল্যানসেটের থেকে বড় গবেষণাধর্মী জার্নাল পৃথিবীতে আর নেই ।‌ এবার দ্য ল্যানসেটের একটি গবেষণাপত্রে স্পষ্টত‌ই জানানো হয়েছে যে, উপসর্গযুক্ত করোনা মোকাবিলায় ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকরী কোভ্যাকসিনের দুটি ডোজ। দিন কয়েক আগেই ভারত বায়োটেক দ্বারা উৎপাদিত কোভ্যাকসিনকে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োগের স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। হু এর ছাড়পত্রের পর ল্যানসেটের মতো বিশ্ববিখ্যাত মেডিকেল জার্নালের স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে ভারতীয় করোনা টিকার মুকুটে কৃতিত্বের নতুন পালক যোগ করল ।

শুক্রবার ল্যানসেটের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে । গবেষণাপত্রটিতে বলা হয়েছে, কোভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়ার দু’সপ্তাহ পর থেকে গ্রহীতার দেহে কোভিড নাইন্টিন ভাইরাস প্রতিরোধী শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরির কাজ শুরু হয়। কোভ্যাকসিনের তৃতীয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের রিপোর্টের ভিত্তিতে গবেষণা চালিয়েছিল ল্যানসেট । ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০২১ এর ১৭ মের মধ্যে কোভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়া ২৪ হাজার ৪১৯ জনের উপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে ভারতীয় টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে সংশয়মুক্ত হয়েছেন ল্যানসেটের গবেষকেরা। তৃতীয় ট্রায়ালের উপর গবেষণা থেকে উঠে এসেছে, ১৮ থেকে ৯৭ বছর বয়সী কোনও টিকা গ্রহীতার শরীরেই মারাত্মক কোন‌ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ধরা পড়ে নি অথবা টিকা নেওয়ার ফলে কার‌ও মৃত্যু ঘটে নি। ২৮ দিনের ব্যবধানে কোভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়াই নিয়ম ।‌ দেশে তৈরি এই ভ্যাকসিন ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহণ সম্ভব ।

কোভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় কাটতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলের।

পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি ও আইসিএম‌আর এর বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফসল কোভ্যাকসিন , যা উৎপাদনের দায়িত্ব নেয় ভারত বায়োটেক। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ ( ICMR ) এর ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব বলেছেন, ” কোভ্যাকসিনের তৃতীয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য-উপাত্তের খুঁটিনাটি ল্যানসেটের মতো বিশ্ব বিখ্যাত মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হ‌ওয়ায় আমি ভীষণ খুশি । ল্যানসেটের গবেষণাপত্র‌ই দেখিয়ে দিচ্ছে কার্যকারিতার দিক দিয়ে সামনের সারিতে থাকা অন্যান্য করোনা ভ্যাকসিনের তুলনায় কোভ্যাকসিনের অবস্থান অনেক বেশি শক্তিশালী। ” ল্যানসেট এবং হু’র স্বীকৃতির আগেই অবশ্য ভারতীয় কোভ্যাকসিনকে অনুমোদন দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। এরপরেও দেশেই দেশি কোভ্যাকসিনকে উপেক্ষার মনোভাব কাটবে তো ?

Photo Courtesy – Gavi-The Vaccine Alliance, moneycontrol.com.


Leave a Reply

Your email address will not be published.