হে মহান নেতারা,বিএসএফ‌’কে রাজনীতির পাঁকে টেনে নামাচ্ছেন কেন ?


বিএসএফ কি রাজনীতি করার জিনিস ? এর ফলে দেশের একটা পেশাদার বাহিনীকে কতটা বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে আপনারা ভাববেন না ? কোনও অসন্তোষ থাকলে বসে মিটিয়ে নেওয়া যায় না ? এই রাজনীতি কোথায় নিচ্ছে আমাদের ?

বিশেষ প্রতিবেদন : রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে এনে দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মনোবলকে নষ্ট করে দেওয়া কোনও অবস্থাতেই উচিত নয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সম্প্রতি বিএসএফ-এর নজরদারির পরিধি ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে । পঞ্জাব , অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে এই নির্দেশ কার্যকর হবে । আগে সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিএসএফ খানাতল্লাশি করতে পারত । কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকার ফলে তা বেড়ে ৫০ কিলোমিটার হয়েছে মাত্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ঘোষণার পর থেকেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিএসএফ-এর মতো একটি আধা সামরিক বাহিনীকে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনছেন রাজনৈতিক নেতারা।

মঙ্গলবার বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধির নির্দেশের নিন্দা করে প্রস্তাব পাশ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় । বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময়‌ দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহের একটি বিরূপ মন্তব্যকে ঘিরে সভায় তীব্র বিতর্ক ও বিতন্ডার সৃষ্টি হয় । দিনকয়েক আগে দিনহাটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের গুলিতে তিন গরু পাচারকারীর মৃত্যুর পর থেকেই উদয়নের মাথা গরম । নিহতদের ‌দু’জন আবার বাংলাদেশী । ঘটনার পরপরই অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে বিএসএফকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন দিনহাটার বিধায়ক। এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন রাজ্য বিজেপির নেতারা । নিন্দা প্রস্তাব ঘিরে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাদানুবাদের জেরে বিধানসভা সরগরম হয়ে ওঠে । রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একবার ভেবেও দেখলেন না এর ফলে সবথেকে বেশি অস্বস্তিতে পড়তে হল এমন একটি বাহিনীকে , যার জ‌ওয়ানেরা ঝড়-জল-বৃষ্টি-কাঠফাটা রৌদ্র উপেক্ষা করে বারোমাস অতন্দ্র প্রহরা দেয় দেশের সীমান্ত । বিএসএফ দেশের অন্যতম শক্তিশালী সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। বিএসএফ-এর কাজ দেশকে রক্ষা করা । রাজনীতি করা নয় । কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নয়া নির্দেশিকা নিয়ে রাজ্য সরকার গুলির অসন্তোষ থাকলে রাজ্য-কেন্দ্র আলোচনায় বসে সমস্যা মিটিয়ে নিক । কিন্তু ধৈর্য্যে হারিয়ে বিএসএফকে রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডার মধ্যে টেনে আনা কেন ? বিএসএফ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে হলেও রাজ্যের পুলিশের সহযোগিতা নিয়েই বিএসএফকে চলতে হয় । দুর্যোগ ও আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিএসএফকে ব্যবহার করে রাজ্য প্রশাসন‌ও ।

বিএসএফ-এর বাহাদুর জওয়ানেরা- যাঁদের কর্তব্যনিষ্ঠার কাছে হার মানে মরুভূমির রুদ্র প্রকৃতিও।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভায় বিএসএফ-এর এক্তিয়ার বৃদ্ধির বিরোধিতা করে প্রস্তাব পাশ হ‌ওয়ার‌ পরের দিনই কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন করলেন বিএসএফ-এর এডিজি ওয়াই বি খুরানিয়া । সাংবাদিকদের এডিজি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেন, ” বিএসএফ সীমান্ত রক্ষা করে মাত্র । আমাদের আইনি ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত । তদন্তকারী সংস্থা না হ‌ওয়ার কারণে বিএসএফ কাউকে আটক করতে পারলেও ধৃতের বিরুদ্ধে এফ‌আইআর করার ক্ষমতা বিএসএফ-এর নেই। বিএসএফ ধৃতকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।” পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া বিএসএফ কাজ করতে পারে না বলে ওয়াই বি খুরানিয়া জানান। তিনি আরও বলেন, ” নতুন নির্দেশিকায় বিএসএফ-এর হাতে কোন‌ও অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয় নি কেন্দ্র। বাহিনীর কাজের পরিধি কেবল ১৫ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ৫০ কিলোমিটার হয়েছে। আগের‌ মতোই পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবে বিএসএফ । ” বিএসএফ- এর এডিজি বলেন, ” অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করা আমাদের কাজ । আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয় । ” দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়াই বিএসএফ-এর কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় বলে বুধবারের সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দেন ওয়াই বি খুরানিয়া ।

সীমান্তে টহল দিচ্ছেন বিএসএফের নারী সদস্যরা।

বিএসএফ কে নিয়ে বেনজির রাজনৈতিক চাপানোতরের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে না এসে আর কোন‌ও উপায় ছিল না বাহিনীর আধিকারিকদের । কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিএসএফ-কেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ফেলার মধ্যে সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থবুদ্ধি ছাড়া আর কিচ্ছু নেই । দেশপ্রেম বর্জিত এই সঙ্কীর্ণ রাজনীতি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে , এই প্রশ্ন কি আমরা ‌তুলব না ?

Photo Courtesy – BSF official FB page.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *