মিজানুর রহমান আজহারির বিলেত ভ্রমণের স্বপ্ন শেষ, আজহারির ভিসা বাতিলের নির্দেশ বহাল রাখল ব্রিটেনের আদালত‌ও


ভিন্ন ধর্মের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর ভুরি ভুরি অভিযোগ বাংলাদেশের ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারির বিরুদ্ধে । আজহারির ভিসা বাতিল করে দিল ব্রিটিশ সরকার। আজহারির আবেদনে কর্ণপাত করল না ব্রিটেনের আদালত‌ও।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশের বিতর্কিত ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারিকে ব্রিটেনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করল দেশটির আদালত। ইতিমধ্যেই আজহারির ভিসা বাতিল করে দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার । ভিসা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লন্ডনের হাইকোর্টের কুইন বেঞ্চ ডিভিশনে আপিল করেছিল ব্রিটেনে বসবাসকারী আজহারির বাংলাদেশী অনুগামীরা। কিন্তু বিচারক আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় মিজানুর রহমান আজহারির পক্ষে ব্রিটেনে ঢোকার আর কোনও সুযোগ র‌ইল না। ভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে আজহারির ভিসা রদ করে দেয় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রক। আজাহারির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সারবত্তা খুঁজে পেয়েছেন কুইন বেঞ্চ ডিভিশনের বিচারক বিচারক জাস্টিন থ্রোনটন।

মিজানুর রহমান আজহারিকে নিয়ে বাংলাদেশে এখন খুব মাতামাতি। হুজুরের বয়স মাত্র একত্রিশ । কিন্তু জনপ্রিয়তায় আজহারি ইতিমধ্যেই অন্য ওয়াজিদের ছাড়িয়ে গেছেন। ওয়াজ মাহফিলে নিজের ধর্ম প্রচারের নামে‌ পরধর্মের বিরুদ্ধে যে যত বিষোদগার করতে‌ পারে বাংলাদেশে তার তত জনপ্রিয়তা। সেই মাপকাঠিতে সম্প্রতি অন্যদের পেছনে ফেলে দিয়েছেন মিজানুর রহমান আজহারি । প্রকাশ্যে হিন্দুদের ধর্মান্তরকরণের পক্ষে স‌ওয়াল করেন আজহারি । এমনকি ওয়াজ মাহফিলে মুসলমানদের হিন্দু সাজিয়ে হাজির করানোর অভিযোগ পর্যন্ত আজহারির বিরুদ্ধে উঠেছে। মাহফিলের মঞ্চ থেকে ইহুদিদের তো বটেই এমনকি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রাখায় পারদর্শী মিজানুর রহমান আজহারি। ইউটিউবে আজহারির চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বিশ লক্ষেরও বেশি। শুধু স্বদেশেই নয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে‌ও আজহারির ভাল ডিমান্ড । কিন্তু সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোয় অভিযুক্ত আজহারিকে এখন বিপজ্জনক বলে মনে করছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

বয়সে অল্প হলেও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোয় বাকি হুজুরদের ছাড়িয়ে গেছেন আজহারি।

মিজানুর রহমান আজহারির খুব ইচ্ছে ছিল লন্ডনে দাঁড়িয়ে ইসলামের উপর বক্তব্য রাখার । আইওন টিভি নামে একটি চ্যানেল গত ৩১ অক্টোবর থেকে লন্ডন সহ ব্রিটেনের ছয়টি শহরে মিজানুর রহমান আজহারির বক্তৃতার ব্যবস্থা করেছিল । অনুষ্ঠান গুলিতে যোগ দিতে মালয়েশিয়া থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন আজহারি । কিন্তু আজহারির আসার খবর শোনা মাত্রই ব্রিটেনের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়। প্রতিবাদ ওঠে অমুসলিম সম্প্রদায় ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির ভেতর থেকেও । ইংল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশী ব্লগার মুফাসসিল ইসলাম‌ও আজহারির ভিসা বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন । ফলে ব্রিটিশ সরকার ভিসা বাতিল করে দেওয়ায় মালয়েশিয়া থেকে কাতার হয়ে লন্ডনে যাওয়ার পথে দোহা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে আটকা পড়েন আজহারি । ভিসা বাতিলের বিরুদ্ধে গত ১৮ অক্টোবর ব্রিটেনে বসবাসকারী আজহারি অনুগামী বাংলাদেশীরা লন্ডনের হাইকোর্টের কুইন বেঞ্চ ডিভিশনে মামলা করে। একমাস পরে ভিভিশন বেঞ্চের রায় পক্ষে না যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই মনঃক্ষুণ্ণ আজহারি অনুগামী বাংলাদেশীরা।

আজহারির ভিসা বাতিলের দাবিতে সরব ছিলেন রক্ষণশীল দলের এমপি বব ব্ল্যাকম্যান।

আদালতে মামলা চলাকালীন সময়েও মিজানুর রহমান আজহারির সফর বাতিলের দাবিতে সরব হয়ে ওঠেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের রক্ষণশীল দলের এমপি বব ব্ল্যাকম্যান‌ও । বব ব্ল্যাকম্যান পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সরকারের কাছে অভিযোগ করেন, ” আজহারি ইহুদি ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ান । তাঁর বক্তব্যে ব্রিটেনে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় অংশ বিভ্রান্ত হতে পারে। আমাদের সমাজেও ঘৃণা ছড়াতে পারে। এই ধরণের লোককে ব্রিটেনে ঢুকতে দেওয়া উচিত হবে না।” পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ব্ল্যাকম্যানের বক্তব্যকে সমর্থন জানান হাউস অব কমন্সের নেতা স্যার জ্যাকব রিস‌ও। রিস বলেন, ” আমাদের দেশে ঘৃণা ছড়ানো একটি মারাত্মক অপরাধ। ঘৃণা ছড়ায় এমন কাউকে আমরা দেশে ঢুকতে দিতে পারি না। ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে আমাদের একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে । এর ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র সচিব প্রীতি প্যাটেলকে আজাহারির ভিসা বাতিলের বিষয়টি বহাল রাখতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ” ব্রিটিশ প্রশাসনের উদ্বেগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে বলেই বিচার বিভাগ‌ও মিজানুর রহমান আজহারির ভিসার ব্যাপারে কোনও রকম নমনীয়তা দেখায় নি – এমনটাই মনে করছে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

Photo Credits- FB page of Azhari and Orissa Post.


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *